1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মৃত্যুদণ্ড! যে কেউ হতে পারেন ভুল রায়ের শিকার

অধিকাংশ শিল্পোন্নত দেশে মৃত্যুদণ্ড উঠিয়ে দিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিন্তু এটা এখনও প্রচলিত৷ অনেক সময় ভুলবশত নিরপরাধ ব্যক্তিকেও এই দণ্ডের শিকার হতে হয়৷ যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না৷ মনে করে মানবাধিকার সংস্থাগুলি৷

ওকলাহোমায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর তা ঠিকমত কাজে না লাগায় অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগে অবশেষে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি৷ আর এ জন্যই মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আবার বিশ্বব্যাপী আলোচনায় উঠে আছে৷

অ্যামেরিকার রাজ্যগুলির মধ্যে টেক্সাসেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷ সব মিলিয়ে ১২৭০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সেখানে৷ এখনও কারা-প্রকোষ্ঠে ২৮০ জনেরও বেশি মানুষকে মৃত্যুর দিন গুণতে হচ্ছে৷ তবে অ্যামেরিকায় অনেকেই মনে করেন যে, যারা বাচ্চা বা পরিবারকে হত্যা করে, তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই উচিত সাজা৷

হঠাৎ স্থগিত করা হয় মৃত্যুদণ্ড

রবার্ট ক্যামবেল হলেন এমনই একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি৷ একদিন সন্ধ্যা ছয়টায় তাঁর দণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল৷ ক্যামবেল একজন আফ্রো-অ্যামেরিকান৷ পরিবার পরিজন কারাগারের কাছে অপেক্ষা করছিলেন৷ এমন সময় টেক্সাসের অপরাধ বিচার বিভাগের এক কর্মী জানান, এই দণ্ড হঠাৎ করেই স্থগিত করা হয়েছে৷ একটি ফেডারেল আদালত ক্যামবেলের আইনজীবীর দণ্ড পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন শেষ মুহূর্তে মঞ্জুর করেন৷ এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়৷ বলেন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র৷

বিনাদোষে হারিয়ে যায় ১৮টি বছর

আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অ্যানটোনি গ্রেভস বন্দি ছিলেন হান্টসভিলের কারাগারে৷ তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিন দু'বার ধার্য করার পর দু'বারই পিছিয়ে দেওয়া হয়৷ অবশেষে ১৮ বছর বন্দি থাকার পর মুক্ত হন তিনি৷ তাঁর ঘটনাটা নতুন করে তদন্ত করা হয়৷ নির্দোষ প্রমাণিত হন তিনি৷ গ্রেভস হলেন ১৩৮ নম্বর আসামি, যাকে ভুলবশত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর মুক্তি দেওয়া হয়৷

১৮ বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি, তাও আবার বেশিরভাগ সময় জানালাহীন একক সেলে৷ সামনে মৃত্যুর ছবি৷ নির্দোষ হয়েও এ এক চরম শাস্তি৷ কিভাবে তিনি তা সহ্য করেছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন তিনি, খুব সহজ সরল ছিলেন তখন৷ বিশ্বাস ছিল একদিন ন্যায়বিচার পাবেন৷ এই ধরনের সারল্য ছাড়া মৃত্যুর সেলে টিকে থাকা যেত না৷

প্রথমদিকে অবিশ্বাস্য মনে হতো৷ পুলিশ, সরকারি প্রসিকিউটর, বিচারক সবাই কীভাবে নেতিবাচক বদ্ধমূল ধারণাটা পোষণ করলেন? অ্যান্টোনির কথায়, ‘‘আমি শতভাগ সহযোগিতা করেছি৷''

একটি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া তারপর তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, এক ভীষণ ব্যাপার৷ এই দোষারোপ সহ্য করার মতো নয়৷ ‘‘আমি নাকি মানুষ হত্যা করেছি৷ যাদের আমি চিনতামই না, যারা আমাকেও চিনতো না – এটা তো একেবারেই সম্ভব নয়'', বলেন অ্যান্টোনি৷

এ ছিল প্রচণ্ড আঘাত

গ্রেভসকে যখন হঠাৎ করে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়, তখন তা ছিল এক প্রচণ্ড আঘাত৷ কয়েক মাস অনিশ্চয়তায় থাকার পর যখন তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হলো, তখন শুধু তাঁর নিজের জীবনই ধ্বংস হয়নি৷ ‘‘গোটা পরিবারের জন্য ছিল তা এক নরক যন্ত্রণা৷ বিশেষ করে আমার মায়ের জন্য ছিল তা অসহনীয়'', জানান অ্যান্টোনি গ্রেভস৷

সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি এখন স্বাধীন৷ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সময় লাগবে তাঁর৷ তিন ছেলে ছিল তখন বাচ্চা৷ আজ তাঁদের বয়স ২০-এর ঘরে, নিজেরাই বাচ্চার বাবা৷ দীর্ঘদিন একক সেলে থাকার পর মানুষের ভিড়ে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে তাঁকে৷ ‘‘আমি বুঝতে পারি না কিভাবে আমি এ সব উতরে উঠেছি৷ এখন এক সুখি মানুষ আমি৷''

Symbolbild Homosexualität Afrika Lesbisches Paar

অ্যামেরিকার রাজ্যগুলির মধ্যে টেক্সাসেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

মুক্তির পর ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে হিউস্টোনে ‘অ্যান্টোনি গ্রেভস ফাউন্ডেশন' গড়ে তোলেন তিনি৷ ভুক্তভোগী পরিবারদের আইনি সহায়তা, ক্যাম্পেইন ইত্যাদি ব্যাপারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এই প্রতিষ্ঠানটি৷ যা থেকে গ্রেভস নিজে বঞ্চিত হয়েছিলেন৷

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন ভুক্তভোগী

আজ তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য মানুষের আগ্রহের কমতি নেই৷ খ্যাতনামা আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি এক মঞ্চে বসে বক্তব্য রাখেন তিনি৷ যেমন ভার্জিনিয়ার প্রাক্তন সরকারি প্রসিকিউটর মার্ক আর্লির পাশেও দেখা যায় তাঁকে৷ রিপাবলিকানার মার্ক আর্লি মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমি সরকারি আইনজীবী হিসাবে ৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম৷ এক সময় আমি মৃত্যুদণ্ডের জোরালো সমর্থক ছিলাম, কিন্তু এখন আর তা নই৷''

তাঁর মতে এই দণ্ড প্রায়ই সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করা হয় না৷ এই প্রসঙ্গে তিনি ওকলাহোমার ‘দুর্ঘটনা' এবং ভুল বিচারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন৷

চার শতাংশই ভুল বিচারের শিকার

ন্যাশানাল অ্যাকাডেমি অফ সাইন্স-এর অনুমান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের চার শতাংশই ভুল বিচারের শিকার৷ অর্থাৎ সঠিক প্রমাণের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তিদেরও মৃত্যুদণ্ড মাথা পেতে নিতে হয়৷ অ্যামেরিকায় বর্তমানে ৩,০০০-এরও বেশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তাঁদের সেলে আবদ্ধ রয়েছেন৷
অ্যান্টোনি গ্রেভস তাঁর ১৮ বছরের নিদারুণ অভিজ্ঞতার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরেন এভাবে: ‘‘যে কারোর ক্ষেত্রে এটা ঘটতে পারে৷ যে কেউ এই অবস্থায় পড়তে পারেন৷''

এরপরও কিন্তু স্বদেশ অ্যামেরিকার ওপর আস্থা হারাননি তিনি, যে দেশটি ১৮ বছর ধরে তাঁর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে৷ তাঁর মতে, সারা বিশ্ব অ্যামেরিকাকে উঁচু নজরে দেখে, তাই নৈতিক দিক দিয়ে দেশটির দায়বদ্ধতা কম নয়৷ ‘‘নিজের দেশের মানুষকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া কোনো উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নয়৷ আমরা তো সবাই অ্যামেরিকান'', বলেন অ্যান্টোনি গ্রেভস৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন