1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গেলেন সাঈদী, হরতালের ডাক

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ৷ এদিকে এই রায়ের প্রতিবাদে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে পুলিশ৷

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও এই রায় প্রত্যাখ্যান করে দলের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতি ও রবিবার সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে৷

মামলায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আপিল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতে আংশিক মঞ্জুর করে সাঈদীর দণ্ড কমানোর এই রায় দেয়া হয় বুধবার৷ প্রধান বচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির একটি বেঞ্চ রায়টি ঘোষণা করেন৷

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোপুরের পারেরহাট এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১৷ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি মানবতা বিরোধী অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়৷ সে সময় রায়ের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির৷ সহিংসতায় একদিনেই ৭০ জন নিহত হন৷

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়৷ ১০ নম্বর অভিযোগ বিসাবালীকে হত্যার, ১৬ নম্বর অভিযোগ তিন নারীকে অপহরণ করে আটকে রেখে ধর্ষণের এবং ১৯ নম্বর অভিযোগ প্রভাব খাটিয়ে ১০০-১৫০ জন হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করার৷

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে ৬, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেয়া হয়েছে৷ ৬ নম্বর অভিযোগ লুণ্ঠনের, ১১ নম্বর হামলা ও লুণ্ঠনের এবং ১৪ নম্বর অভিযোগ ধর্ষণের৷

৮ নম্বর অভিযোগের অংশবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে সাঈদীকে খালাস দেয়া হয়৷ একই অভিযোগের অংশবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে তাঁকে ১২ বছর কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ৷ ৮ নম্বর অভিযোগটি হত্যা ও অগ্নিসংযোগের৷

এছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে ৭ নম্বর অভিযোগে সাঈদীকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ৷ সপ্তম অভিযোগ নির্যাতন ও বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগ৷

ট্রাইব্যুনাল এর আগে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার ৮ নম্বর এবং ও বিসাবালীকে হত্যার ১০ নম্বর অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল৷

প্রতিক্রিয়া

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘‘উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল৷ তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব, কিছুটা হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি৷ রয়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর এ ব্যাপারে কিছু করা যায় কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা হবে৷''


অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও হতাশা প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার প্রত্যাশা ছিল মৃত্যুদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক, এটাই ছিল আমার প্রত্যাশা, সেটা থাকেনি৷ এ জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে৷''

এক্ষেত্রে রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই জানিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘‘একটি বিশেষ আইনের অধীনে এই বিচার হচ্ছে৷ এখানে রিভিউ চলবে না৷ কাদের মোল্লার মামলায় তাঁরা রিভিউ করেছিল৷ কিন্তু সেটি খারিজ হয়েছে৷''

ওদিকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এই রায়কে আঁতাতের রায় বলে অভিহিত করেছেন৷ গণজাগরণ মঞ্জের কর্মীরা সকাল থেকেই শাহবাগে অবস্থান নেন৷ রায় ঘোষণার পর সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও জল কামাল ছোড়ে৷ পুলিশের হামলায় মঞ্চের অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন৷

অপরদিকে সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই৷ আমরা আপিল করার পরে আশা করেছিলাম এখানে ন্যায় বিচার হবে৷ তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন৷ কিন্তু তা হয়নি৷''

সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন৷

জামায়াতে ইসলামী এই রায়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতি ও রবিবার সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে৷ জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ এক বিবৃতিকে এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে সাঈদীর মুক্তির দাবিতে এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন৷

২০১০ সালের ২৯শে জুন সাঈদী গ্রেপ্তার হন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে৷ পরে ২রা আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১৷ কিন্তু এবার, আপিল বিভাগের রায়ে সাঈদী সেই মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়