1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মৃত্যুদণ্ড: একদিকে মানবতা, অন্যদিকে রাষ্ট্র ও ধর্ম?

‘মৃত্যুদণ্ড’ কেন হওয়া উচিত নয় – এ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই৷ তবে একটা নতুন প্রশ্নই রাখতে পারি, ‘পৃথিবী একটা মাত্র দেশ না হলে মৃত্যুদণ্ড কি কখনো যাবে?’’

এই পৃথিবীতে এক দেশেও আবার মৃত্যুদণ্ডের আইন এক নয়৷ তাই যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও মৃত্যুদণ্ড আছে, কোথাও নেই৷ টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় মুড়িমুড়কির মতো, আবার ১৮টি রাজ্যে যে যত বড় অপরাধই করুক, মৃত্যুদণ্ড দেয়া বারণ৷

এক যুক্তরাষ্ট্রেই যখন দু'রকম আইন, তখন অনেক দেশে এক আইন কল্পনা করা গেলেও কবে যে সেটা হবে! মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ইউরোপে কোনো ফাঁসি হয়নি৷ মধ্য এশিয়াতেও হয়নি৷ তবু ইউরোপের কথা আগে বললাম বিশেষ কারণে৷ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মৃত্যুদণ্ডের ঘোর বিরোধী৷ কিন্তু ইউরোপেরই দেশ বেলারুশে এখনো মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়৷ ২০১৩ সালে যে সে দেশে কারো ফাঁসি হয়নি এটা আপাতত শুধুই ব্যতিক্রম৷ এই ব্যতিক্রমটাই যদি সারা বিশ্বের নিয়ম হয়ে যায়, তাহলে? তাহলে আর কি, পৃথিবীটা তখন স্বপ্নপুরী হবে! প্রশ্ন হলো, কবে হবে?

বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি এখনো মৃত্যুদণ্ড৷ তাই যুদ্ধাপরাধী এবং অন্য অপরাধীদেরও অপরাধ সবচেয়ে বড় হলে সবচেয়ে বড় শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই দেয়া হয়৷ ভারতেও মৃত্যুদণ্ড আছে৷ সেখানে অবশ্য মৃত্যুদণ্ড আসে শেষ বিবেচনায়৷ বিশেষ বিবেচনায় কেউ রেহাই পান, কেউ পান না৷ তাই রাজীব গান্ধীকে হত্যা করেও হত্যাকারী ফাঁসি এড়াতে পারেন৷ আবার মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার একমাত্র জীবিত ও ধৃত আসামী আজমল কাসাবের ফাঁসিই হয়৷ হয়ত এমন দিন আসবে যখন ভারত তো বটেই, বাংলাদেশেও ফাঁসি থাকবে না৷

ক'দিন আগেই ইরানে ধর্ষণে উদ্যত হওয়া এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো রেহানি জব্বারিকে৷ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তো বটেই, সব মানবতাবাদী মানুষই ছিল এর বিপক্ষে৷ কিন্তু ইরান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে৷

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় চীনে৷ সবচেয়ে জনবহুল দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড৷ দেশটি আবার এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশেই রাজি নয়৷ তবে সম্প্রতি সে দেশেও কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ ইরান, ইরাক আর সৌদি আরবেও মৃত্যুদণ্ডের হার খুব বেশি৷ কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতে এখনো মৃত্যুদণ্ড কমানোর কোনো লক্ষণ নেই৷

DW Bengali Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী

উপমহাদেশের প্রথম আলোচিত মৃত্যুদণ্ড সম্ভবত ‘ক্ষুদিরামের ফাঁসি'৷ ১৯০৮ সালে বাঙালি এই যুবককে ফাঁসি দেয় ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসক৷ ফাঁসি কার্যকর করার দিনে ক্ষুদিরাম বসুর বয়স হয়েছিল ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন৷

১৯৪৭-এ ব্রিটিশরা ভারত উপমহাদেশ থেকে পাত্তারি গোটালেও ব্রিটেনে মৃত্যুদণ্ড ছিল অনেকদিন৷ ব্রিটেনে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৬৪ সালে৷ ক্যাপিট্যাল পানিশমেন্ট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়া হয় ১৯৯৮ সালে৷

এক সময় কিশোরকে ফাঁসি দেয়া ব্রিটেনই এখন মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে৷ মৃত্যুদণ্ড এখনো চলছে এমন দেশগুলোতেও হয়ত এমন পরিবর্তন আসবে৷ কবে আসবে? দুঃখিত, জবাবটা জানা নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়