1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মৃত্যুদণ্ডের সমালোচনা, স্থিতিশীলতার জন্য বাণিজ্য

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসিকে লাল গালিচা পেতে স্বাগত জানিয়েছে বার্লিন৷ মিশরকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে দেখেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ অপরদিকে রয়েছে মানবাধিকার পরিস্থিতি৷

আল-সিসির প্রথম সরকারি জার্মানি সফর গোড়া থেকেই বিতর্কিত, যে কারণে সংসদ সভাপতি নরব্যার্ট লাম্যার্ট গতমাসেই ঘোষণা করেন যে, তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না৷ লাম্যার্ট এই প্রসঙ্গে মিশরে ‘‘গণগ্রেপ্তার, দীর্ঘমেয়াদের কারাদণ্ড এবং অবিশ্বাস্য সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী গোষ্ঠীগুলির উপর পরিকল্পিত নিপীড়ন''-এর কথা বলেন৷

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ পাঁচটি বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠন ইতিপূর্বেই ম্যার্কেলের প্রতি আবেদন জানিয়েছিল, ‘‘মিশরে বহু দশক যাবৎ সবচেয়ে গুরুতর মানবাধিকার সংকট''-এর অবসান ঘটানোর জন্য আল-সিসির উপরে চাপ সৃষ্টি করার৷ ম্যার্কেল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জার্মানি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী৷ অপরদিকে তাঁর বক্তব্য হলো, মিশর যা-তে স্থিতিশীলতা পায় এবং অর্থনৈতিক প্রগতি করে, সেজন্য জার্মানি সব কিছু করতে প্রস্তুত, কেননা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোটে একক দেশগুলির স্থায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: ‘‘যে কারণে মিশরের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ৷''

Angela Merkel

ম্যার্কেল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জার্মানি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী৷

আল-সিসি সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে জার্মানি তথা ইউরোপীয়দের প্রতি মিশরের আইন ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান৷ মিশর একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্র, ‘‘আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করে চলি,'' বলেন আল-সিসি৷ বহু মৃত্যুদণ্ড এখনও চূড়ান্ত নয়, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ মুরসির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক আল-সিসির সঙ্গে সাক্ষাতে আইনের শাসনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, এবং আল-সিসি তাঁকে চলতি বছরেই সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন বলে প্রকাশ৷ ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল আল-সিসিকে বলেছেন, জার্মানি শুধু বাণিজ্য করতে চায় না, ‘‘সর্বাঙ্গীণ সহযোগী'' হিসেবে মিশরকে গণতন্ত্রের পথে অগ্রণী হতে সাহায্য করতে চায়৷

বাণিজ্যও উপেক্ষিত হয়নি৷ আল-সিসির উপস্থিতিতেই সিমেন্স কোম্পানি গ্যাস এবং বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত ৮০০ কোটি ইউরো মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা কিনা কোম্পানির ইতিহাসে এ যাবৎ বৃহত্তম ‘কনট্র্যাক্ট' হিসেবে স্থান পাবে৷ সিমেন্স মিশরে তিনটি গ্যাস চালিত পাওয়ার প্ল্যান্ট, এবং সুয়েজ উপসাগর ও নীল নদের পশ্চিম তীর এলাকায় ৬০০টি উইন্ড টারবাইন সম্বলিত ১২টি উইন্ড পার্ক গড়ে তোলার কাজ পাচ্ছে৷ এছাড়া সিমেন্স উইন্ড টারবাইনের রোটর ব্লেড তৈরি করার একটি কারখানাও স্থাপন করবে৷ সব মিলিয়ে এই মেগা-চুক্তির ফলে মিশরে বিদ্যুৎ উৎপাদন এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন