1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনতে এর্দোয়ানের আহ্বান

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তানবুলে এক বিশাল জনসভায় মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করার পক্ষে নিজের সমর্থন ঘোষণা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান৷ পাশাপাশি সমালোচনা করেছেন জার্মানির৷

সমাবেশে বক্তব্য

গত মাসের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ, যেখানে ক্ষমতাসীন দলগুলোর নেতারা থেকে শুরু করে দেশটির তিনটি বিরোধীদলের মধ্যে দু'টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন৷ তবে কুর্দি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি৷ ‘গণতন্ত্র ও শহিদদের জন্য' আয়োজিত জনসভাটিতে অন্ততপক্ষে দশ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন৷

তবে জনসভায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম৷ ইয়েনিকাপি প্যারেড গ্রাউন্ড-এর আশপাশের রাস্তা ও এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছিল মানুষ৷ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান এর্দোয়ান৷ গত সপ্তাহে গুলেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আঙ্কারা৷

রোববার ইস্তানবুলের ইয়েনিকাপি প্যারেড গ্রাউন্ডের ওই জনসভায় তিনি বলেন, পার্লামেন্ট ও জনগণ যদি চায় তাহলে ‘মৃত্যুদণ্ড' অনুমোদন করবেন৷ সমাবেশে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে এর্দোয়ান বলেন, ‘‘মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তুরস্কের পার্লামেন্ট৷'' তিনি বলেন, ‘‘ইইউ-তে কোনো মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই৷ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আছে, জাপানে আছে, চীনেও আছে৷ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আছে৷ সার্বভৌমত্ব জনগণের উপর নির্ভর করে, তাই জনগণ যদি চায় তিনি নিশ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোও তা বাস্তবায়ন করবে৷'' সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই এর্দোয়ানের সমর্থকরা দেশব্যাপী প্রতি রাতে সমাবেশ করে আসছেন৷

ইইউ-এর বক্তব্য

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরাবরই বলে আসছে, তুরস্কে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনলে দেশটি ইইউ-তে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না৷ অথচ এই অন্তর্ভুক্তির জন্য গত কয়েক দশক থেকে চেষ্টা করে আসছে আঙ্কারা৷ ইইউ-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা৷

জার্মান কর্তৃপক্ষের সমালোচনা

জার্মানির কোলোন শহরে সমাবেশে তার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচারে বাধা দেয়ায় জার্মান কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান৷ তিনি বলেন, জার্মানি গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ তাদের আচরণে সেটা প্রকাশ পায়নি৷ এর আগে কুর্দিশ পার্টি পিকেকে-র বক্তব্য প্রচারে অনুমতি দেয়া হয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, জার্মানি যদি জঙ্গিদের মদদ দিতে চায় তবে বুমেরাং হয়ে সেটার প্রভাব তাদের উপরই পড়বে৷

দমন-পীড়ন অব্যাহত

তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এ পর্যন্ত ৬০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন৷ ২০ হাজার শিক্ষকের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে৷ আটক করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে, যাদের মধ্যে ১৩ হাজারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে৷ এদের অনেকের পাসপোর্টও বাতিল করা হয়েছে৷ সামরিক বাহিনীতেও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়