1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘মূর্তি’ নিয়ে হেফাজতের দাবি বাড়ছে

সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার পর হেফাজতে ইসলাম এখন দেশের ‘সব মূর্তি’ অপাসারণের দাবি জানিয়েছে৷ তাদের এক নেতার দাবি, ‘‘বঙ্গবন্ধু এবং জিয়ার ভাস্কর্য সরিয়ে মসজিদ বানানো উচিৎ৷’’

ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদকারীদের উপর চড়াও পুলিশ

প্রতিবাদকারীদের আটকে দিয়েছে পুলিশ

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিসের' আদলে তৈরি ভাস্কর্য অপসারণ করা হয় হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামভিত্তিক আরো কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর দাবির মুখে৷ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যদিও দাবি করেছেন যে, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তেই ওই ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷ এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই৷'' তাসত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম ‘মূর্তি' অপসারণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে৷ তাদের নেতারা বলছেন, ‘‘১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছিলে তিনি নিজেও মূর্তি পছন্দ করেন না৷ তিনি কথা দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবির মূর্তি সরিয়ে ফেলা হবে৷ তিনি কথা রেখেছেন৷''

অডিও শুনুন 01:32

‘‘মূর্তি রেখে ইসলামে কোনো ফায়দা নেই’’

সব ‘মূর্তি' সরানোর দাবি

তবে হেফাজতে ইসলাম এখানেই থামছে না৷ তারা তাদের দাবি আরো বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্য সরানোর পর৷ সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রাহমান হামিদী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এখন দেশের সব মূর্তি সরিয়ে ফেলতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি৷ দেশের কোনো প্রকাশ্য স্থানে মূর্তি থাকতে পারবেনা৷ আর নতুন করে কোনো মূর্তি তৈরিও করা যাবেনা৷''

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘তাদের যদি কোনো ভাস্কর্য প্রকাশ্য স্থানে থাকে তাহলে তাও সরিয়ে ফেলে সেখানে মসজিদ তৈরি করা উচিৎ৷ এসব মূর্তি রেখে ইসলামে কোনো ফায়দা নেই৷''

সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে সরিয়ে নেয়া ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে প্রতিস্থাপন করার কথা থকলেও তা এখনো করা হয়নি৷ সেটি ফেলে রাখা হয়েছে৷ জানা গেছে ভাস্কর্যটি আর কোথাও প্রতিস্থাপন নাও করা হতে পারে৷

হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কোনো মূর্তি চাইনা৷ যদি সেটি এখন সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবন এলাকায় প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরা মানবো না৷''

যত ভাস্কর্য আছে তা থাকছে

দেশের সব ‘মূর্তি' অপসারণের যে নতুন দাবি তুলেছে হেফাজত সে ব্যাপারে সরকার কী করবে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হেফাজত কী দাবি করল বা কী বলল তাতে কিছু যায় আসেনা৷ দেশে যত ভাস্কর্য আছে তা থাকছে৷ যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে৷ সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা ছিল৷ কাছেই জাতীয় ঈদগাহ৷ ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপার ছিল৷ সুপ্রিম কোর্ট এসব বিবেচনা করে এটা নিজেই সরিয়ে দিয়েছে৷''

আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘সুপ্রিম কার্টের সামনে থেকে মূর্তি সরিয়ে সব ধর্মকে সম্মান করা হয়েছে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘ওই মূর্তি বিকৃত মূর্তি ছিল৷ এটা রাখলে আগামী প্রজন্মের সামনে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো৷''

দেশের সব ‘মূর্তি' সরিয়ে ফেলতে হেফাজতের নতুন দাবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি'র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি এই মূর্তি ভাস্কর্য বিতর্কে যেতে চাইনা৷ এটা নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাইনা৷ এটা আওয়ামী লীগ এবং হেফাজতের ব্যাপার৷ তারা এটাকে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক শুদ্ধতা নাই৷''

অডিও শুনুন 01:00

‘‘দেশে যত ভাস্কর্য আছে তা থাকছে’’

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের ১০ জন বুদ্ধিজীবী৷ তাঁরা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘সরকার কার্যত ধর্মান্ধ মৌলবাদী অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার করেছে৷'' তারা বলছেন, ‘‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণ হতে ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য অপসারণে আমরা ক্ষুব্ধ এবং প্রগতিবিরোধী এহেন হীন কর্মে গভীর ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছি৷ এই অপসারণ কর্মের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল কর্তৃক গঠিত সরকার কার্যত ধর্মান্ধ মৌলবাদী অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার করেছে৷''

বিবৃতিদাতারা হলেন: সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সংগীতজ্ঞ সন্জীদা খাতুন, অভিনেতা হাসান ইমাম, নাট্যাভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, শহীদজায়া পান্না কায়সার, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, শিল্প সমালোচক মফিদুল হক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ৷ তাঁরা অনতিবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের সামনে ভাস্কর্য প্রতিস্থাপন করার দাবি জানিয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়