1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘মূর্তি' অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে হেফাজত সন্তুষ্ট

হেফাজতে ইসলাম মনে করে, প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে গ্রিক দেবীর ‘মূর্তি' সরিয়ে ফেলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা তিনি রাখবেন৷ ১লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে হেফাজত, নয়ত কর্মসূচি দেবে তারা৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার অনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ঘোষণা করেন মঙ্গলবার৷ গণভবনে হেফাজাতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর সামনেই এই ঘোষণা দেন তিনি৷  আল্লামা শাহ আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসাগুলোরও নিয়ন্ত্রক৷

প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের সামনে সম্প্রতি স্থাপন করা থেমিসের মূর্তি আমিও পছন্দ করিনি৷ থেমিসের মূর্তিতে আবার শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এই মূর্তি স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমি কথা এগিয়েছি৷ দেখি কী করা যায়৷''

সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে গত ডিসেম্বরে এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়৷ গ্রিক দেবী থেমিসের আদলে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ভাস্কর মৃণাল হক৷ ভাস্কর্যটির ডান হাতে একটি তলোয়ার আর বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে দাঁড়ানো নারী৷

অডিও শুনুন 05:43

‘প্রধানমন্ত্রী মূর্তি সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন’

এই ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই হেফাজতে ইসলামসহ  বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন তা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে৷ প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গলাবারের বক্তব্য  তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থনই প্রকাশ করেছে৷

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ওই মূর্তি সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখেন, ভরসা রাখেন৷' আমরাও মনে করি, তিনি মূর্তি সরিয়ে ফেলবেন৷ তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, একটি মূর্তিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না৷''

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল এই সরকারের বিরুদ্ধে৷ পরে সংঘর্ষ এবং পুলিশি অভিযানের মুখে হেফাজতের কর্মসূচি পণ্ড হয়৷ হেফাজতের অনেক নেতার কিরুদ্ধে মামলাও হয়৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক পাল্টে গেছে৷ সরকার ও হেফাজত এখন অনেক কাছকাছি৷

মাওলানা আজিজুল হক বলেন, ‘‘সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো আন্দোলন ছিল না৷ আমাদের আন্দালন ছিল নাস্তিকদের বিরুদ্ধে৷ সরকারকে কেউ ভুল বুঝিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লাগিয়েছিল৷ কিন্তু সরকার তার ভুল বুঝতে পেরেছে৷ ভুল স্বীকার করেছে৷ বর্তমান সরকার উপলব্ধি করেছে, মুসলামনদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করা ঠিক হবে না৷''

অডিও শুনুন 01:08

‘হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে সরকার’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধেরও দাবি জানিয়েছি৷ তবে এ নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেননি৷ মঙ্গল শোভাযাত্রা হারাম৷ এটা বন্ধ না করলে আমরা এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেব৷''

এদিকে কওমী শিক্ষাব্যস্থার সরকারি স্বীকৃতিতেও হেফাজত খুশি৷ কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ক্লাস দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়েছে৷ এসব এখন হেফাজত এবং সরকারকে বৈরিতার সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে কাছাকাছি নিয়ে গেছে৷

রজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শাপলা চত্ত্বরের ঘটনার পর বর্তমান সময়কে বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট যে, সরকার হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে একটি সমঝোতায় গেছে৷ সরকার একটি সহাবস্থান তৈরি করেছে হেফাজতের সঙ্গে৷ সরকার চাইছে হেফাজতকে কাছে রেখে আগামী নির্বাচনে তাদের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আর এ কারণে এরই মধ্যে সরকার হেফাজতকে অনেক ছাড় দিয়েছে৷ সর্বশেষ কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি এবং সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে গ্রিক ভাস্কর্য সরানোর প্রতিশ্রুতি তারই অংশ৷''

আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের কথিত এই সমঝোতা কি দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে? 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়