1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মুশকিল আসান স্বয়ংসম্পূর্ণ টয়লেট

উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশ অগ্রগতির অনেক পরিচয় দিলেও টয়লেটের অভাব আজও একটা বড় সমস্যা৷ এর পরিণতি পরিবেশ দূষণ সহ স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা৷ জার্মানিতে এমন এক কমোড উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা এই সমস্যার সমাধান করতে পারে৷

ভিডিও দেখুন 03:44

স্বয়ংসম্পূর্ণ টয়লেট দিয়ে মুশকিল আসান | অন্বেষণ

পয়ঃ-প্রণালীর অভাব

বিশ্বের বহু দেশেই এ ধরনের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে৷ রোগ-জীবাণু ভর্তি ময়লা পানি বা জল৷ হাজার মানুষের মলমূত্র সেখানে গিয়ে পড়ার ফলে তা থেকে প্রতিদিন পাঁচ হাজার শিশু প্রাণ হারায়৷ কোটি কোটি মানুষ এই দূষণের ফলে অসুখে পড়েন৷ আবিষ্কারক রাল্ফ অটারপোল বলেন, ‘‘কার্যকরী পয়ঃ-প্রণালী না থাকার ফলে জনস্বাস্থ্যে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়, যেমন কলেরা ও অন্যান্য পেটের রোগ৷ শিশুদের বিশ-পঁচিশবার পেট নামলে অনেক সময়ে তারা তা থেকেই মারা যায়, যা অতি দুঃখজনক৷''

নতুন দিশা

রাল্ফ অটারপোল একটি নতুন ধরনের কমোড উদ্ভাবন করেছেন, যা সারা বিশ্বে লাখ-লাখ শিশুর জীবন বাঁচাতে সক্ষম৷ এই কমোডের দাম একশো ইউরোর বেশি হবে না, অথচ মলমূত্র বাইরের জলে গিয়ে পড়বে না৷ অটারপোল বলেন, ‘‘এই কমোডের বৈশিষ্ট্য হলো, এর যা আয়তন, তাতে একটি পরিবারের এক সপ্তাহের মলমূত্র, শুচিকর্মের পানি ইত্যাদি কমোডেই জমা থাকতে পারবে৷

এক সপ্তাহ পরে সেগুলো পাম্প করে বার করে দিতে হবে৷ কাজেই এই কমোড ব্যবহার করার সময় যতো কম জল খরচ করা যায়, ততোই ভালো৷ সে জন্য এই শাওয়ার-হেডটি রাখা হয়েছে৷ এই কমোড বসে কিংবা উবু হয়ে ব্যবহার করা চলে, যে দেশে যেরকম প্রথা৷''

কমোডের ভেতরে আবর্জনা পচে উঠে যাতে গন্ধ না হয়, সেজন্য ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটিরিয়া আর শর্করার একটি সংমিশ্রণ যোগ করা হয়৷ অটারপোল বলেন, ‘‘এটা যেমন ল্যাক্টিক অ্যাসিড গেঁজিয়ে করা একটি সলিউশন৷ এভাবে আমরা রোগজীবাণু মেরে ফেলতে চাই, যুগপৎ দুর্গন্ধ আটকাতে চাই৷''

বাস্তব প্রয়োগ

বিজ্ঞানীরা হামবুর্গের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের টয়লেট থেকে নেওয়া মলমূত্র পরীক্ষা করে দেখছেন, কী পরিমাণ শর্করা দিলে টয়লেটে ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটিরিয়াগুলি ঠিকমতো বাড়তে পারে৷ টয়লেটের আবর্জনা একটি মিশ্র সার তৈরির কারখানায় নিয়ে গিয়ে সেখানে কাঠকয়লার সঙ্গে মিশিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়৷ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা থেকে টেরা প্রেটা নামের যে কালো মাটির মতো দেখতে মিশ্র সার তৈরি হয়, তা খুবই কার্যকরী৷

কাঠকয়লা মেশানোটাই এই ‘কালোমাটির' বৈশিষ্ট্য৷ এই কাঠকয়লাতেই পুষ্টিকর পদার্থ বহন করে, এখানে অণুজীবরা বাসা বাঁধে৷ কাঠকয়লা বিপুল পরিমাণ জল ধরে রাখতে পারে৷ এশিয়া-আফ্রিকার গ্রামে-গ্রামে, শহরে-শহরে যে কাঠ পুড়িয়ে রান্না হয়ে থাকে, তা থেকেই যথেষ্ট কাঠকয়লা পাওয়া যেতে পারে৷ রাল্ফ অটারপোল-এর ‘মিশ্র সার কমোডের' জন্য তা বিশেষভাবে উপযোগী৷

কমোডের ময়লার সঙ্গে কাঠকয়লা যোগ করে সৃষ্ট মিশ্র সার প্রধানত পুনর্বনায়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, যা জলবায়ুর পক্ষেও মঙ্গলজনক৷ অটারপোল বলেন, ‘‘টেরা প্রেটা মিশ্র সার দিয়ে আমরা জমি এমনভাবে তৈরি করতে পারি, যাতে মাটিতে আরো বেশি পানি ধরা থাকবে৷ সেই জল ধীরে ধীরে বাতাসে ছড়ানোর ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় থাকবে৷ এভাবে এই কমোডের ব্যবহার সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের উপর তার একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈকি৷''

টয়লেটে ফ্লাশের চেন টানা হল মান্ধাতার আমলের ব্যাপার৷ ভবিষ্যতের কমোড থেকে পানিতে ময়লা গিয়ে পড়বে না, বরং জমিতে সার দেওয়া যাবে, জলবায়ুর উন্নতি ঘটবে৷

বিশেষ ঘোষণা: এই সপ্তাহের অন্বেষণ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন এখানে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও