1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মুরসি ক্ষমতাচ্যুত, নতুন সংকটের আবর্তে মিশর

মিশরের প্রথম নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী৷ প্রেসিডেন্ট মুরসিকে আটক করে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এসেছে৷ মুরসি সমর্থক এবং বিরোধীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে দেশজুড়ে৷

আরব বসন্তের উপহার ভেবে যে সরকারের দিকে বড় আশা নিয়ে তাকিয়েছিল মিশরের মানুষ ছয় মাস না যেতেই তাদের দেখা হয়ে যায় আশাভঙ্গের ইঙ্গিত৷ সরকারের এক বছর পূর্তিতে তাই প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির অপসারণের দাবিতে শুরু হয়েছিল নতুন আন্দোলন৷ তার জেরেই বুধবার সেনাবাহিনী মুরসিকে ব্যর্থ ঘোষণা করে, তাঁকে আটক করে দিয়েছে নতুন নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে বাস্তব রূপ দেয়ার ঘোষণা৷ মুরসি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার৷ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন মিশরের প্রধান বিচারপতি আদলি আল-মনসুর৷

Egypt's Chief of Staff General Abdulfettah es Sisi announced the president of the constitutional court to task presidency until the elections. (video captured) (Anadolu Agency - Egyptian TV) Keine Weitergabe an Drittverwerter.

মোহামেদ মুরসি

মুরসি সরকারের পতনের খবর জানার পরই মিশর জুড়ে শুরু হয়ে যায় বিরোধীদের উল্লাস৷ মুরসি সমর্থকরাও নেমে আসে রাস্তায়৷ অনেক জায়গায় দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে৷ সংঘর্ষে এ পর্যন্ত এক সেনাসদ্যসহ নয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷

মুরসি সমর্থকরা সহিংস বিক্ষোভে নামতে পারে ধারণা করে কায়রোসহ মিশরের অনেক শহরের রাস্তায় বুধবারই সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়৷ পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারও বন্ধ করে দেয় সেনাবাহিনী৷ সর্বশেষ সংবিধানকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে৷ মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র গেহাদ এল-হাদ্দাদ বার্তসংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর ১২ জন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীকে সেনাবাহিনী গৃহবন্দী করেছে৷

Jubel über die Absetzung Mursis auf dem Kairoer Tahrir-Platz

মুরসির অপসারণের পর জনতার উল্লাস

সেনাবাহিনীর এমন হস্তক্ষেপ অপ্রত্যাশিত নয়৷ রোববার দেশের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত সরকারের এক বছর পূর্তির দিনেই মুরসির অপসারণের দাবিতে তাহরির স্কয়ারে সমবেত হয় লাখো মানুষ৷ বলা হচ্ছে, দু’বছর আগে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের দাবিতে যে জমায়েত হয়েছিল, রোববারের জমায়েত তাকেও ছাড়িয়ে যায়৷ সেদিনই মুরসিকে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় সেনাবাহিনী৷ টেলিভিশনে প্রচারিত সেনাবাহিনীর সেই চরমপত্র’-কে শুরুতে আমলে না নিলেও বুধবার জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুরসি৷

আরব বসন্তের সুফল মিশর এখনো শুধু একটা নির্বাচনের মধ্যেই দেখেছে৷ কিন্তু তার আগে বা পরের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে কট্টর ইসলামপন্থীদের সঙ্গে অন্যদের বিরোধ৷ চরম বিরোধের বাতাবরণেই সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ৷ গণতন্ত্রের পথ চলা শুরুর আগেই মিশর দীর্ঘ সেনাশাসনের জালে আটকা পড়ে কিনা – সেটাই এখন দেখার বিষয়৷

এসিবি/এসবি(এপি, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়