1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মুম্বই সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার রাখার নাগরিক প্রচেষ্টা

মুম্বই মহানগরী ডুবে যাচ্ছে প্লাস্টিক আবর্জনায়, সাগরতীরে যা বিশেষ করে চোখে পড়ে৷ তাই সমুদ্র সৈকতের লাগোয়া বহুতল ভবনগুলির বিত্তশালীরাও নেমেছেন সেই আবর্জনা পরিষ্কার করতে৷

ভিডিও দেখুন 05:17

সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার রাখার চেষ্টা

আরব সাগরের উপকূলে মহানগরী বলতে যা বোঝায়, দূর থেকে দেখলে মুম্বই ঠিক তাই৷ কিলোমিটারের পর কিলোমিটার বেলাভূমি – কিন্তু শুধু দূর থেকে দেখলে৷ আইনজীবী আফরোজ শাহ দু'বছর আগে এখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন, বাড়িতে বসেই সাগর আর বেলাভূমি দেখবেন বলে৷

তারপর স্বপ্নভঙ্গ৷ কারণ জানাতে গিয়ে বললেন, ‘‘ জানলা থেকে তাকিয়ে দেখলাম, শুধু আবর্জনা আর আবর্জনা, প্লাস্টিক আর প্লাস্টিক৷ তাহলে কি এই নিয়ে পৌরসভার কাছে নালিশ করব, নাকি পিটিশন করব? না, নাগরিক হিসেবে আমি নিজেই দায়ী৷ আমি নিজেই কিছু একটা করব৷''

‘আন্দোলন নয়'

সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চান আফরোজ শাহ৷ প্রতি শনি-রবিবার সকালে দু'ঘণ্টা করে ঠিক সেই কাজ করেন আফরোজ শাহ৷ প্রতিবেশীরাও হাত লাগান৷শাহ শোনালেন সেই কাহিনী৷

‘‘প্রথম কয়েক মাস বেশ কঠিন ছিল, আমরা মাত্র চার-পাঁচজন লোক ছিলাম৷ কিন্তু আমি কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইনি৷''

আজ এলাকার প্রায় একশ' স্বেচ্ছাসেবী আফরোজের সঙ্গে যোগ দেন, ময়লা জড়ো করেন, বালি খুঁড়ে প্লাস্টিক বের করেন৷ বলিউডের তারকারাও থাকেন এই স্বেচ্ছাসেবীদের দলে৷ অভিনেতা নরেশ সুরি জানালেন, ‘‘আমি প্রায় সত্তর সপ্তাহ ধরে এদের সঙ্গে আছি৷ আমার বাড়ি তো আর ঢোকার দরজাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, গোটা শহরটা আমার বাড়ি, গোটা দেশটা আমার বাড়ি৷ ঐভাবে ভাবা দরকার৷''

ধীরে ধীরে লক্ষ্যে পৌঁছনো

 গোটা তিন কিলোমিটার স্ট্র্যান্ড ক্রমে আরো পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে৷ কিন্তু মুম্বইতে আরো অনেক এ ধরনের স্ট্র্যান্ড আছে৷ এছাড়া অতি নোংরা সব নদীনালা, যা দিয়ে সারা শহরের আবর্জনা সাগরে গিয়ে পড়ে৷

টুরিস্টদের স্বস্তি

প্রতিদিন মুম্বইতে দশ হাজার টন আবর্জনা সৃষ্টি হয়৷ সে ময়লা ফেলার স্তূপ বিশেষ নেই, কেননা, মুম্বই একটি উপদ্বীপ, এখানে জায়গা কম৷ পর্যটনের উপরেও তার প্রভাব পড়ে৷ ট্রাভেল এজেন্ট নলিন কাপাডিয়া জানালেন, আবর্জনার পাহাড় বিদেশি পর্যটকদের ভয় পাইয়ে দেয়৷

নলিন কাপাডিয়ার মতে, ‘‘এটা হলো একদিকে মানুষজন, অন্যদিকে সরকারের মনোবৃত্তির ফল৷ বিশেষ করে সরকারি তরফে গাফিলতি অতি দুঃখজনক৷ লোকের মনোবৃত্তি পাল্টাবে, যখন সরকার প্রেরণা জোগাবে৷''

কিন্তু সরকারের কী দায়? বহু গরীব ঐ আবর্জনা ঘেঁটেই বেঁচে থাকে৷ তারাবাঈ যে জাতের মানুষ, তারা অচ্ছুৎ বলে গণ্য হয়, কেননা, তারা ময়লা পরিষ্কার করে৷ তারাবাঈ বাবুরাও ময়লা কুড়োন৷ তিনি বললেন, ‘‘আমি প্রতিদিন দেড়শ' থেকে দুশ' কিলোগ্রাম প্লাস্টিক কুড়াই৷ তারপর প্লাস্টিক ও কাগজ আলাদা করে পাঁচ টাকা কিলোগ্রাম, একটাকা কিলোগ্রাম দরে বিক্রি করি৷''

কার কাছে বিক্রি করেন সেটা আর দেখানো গেল না, কেননা, পুলিশ এসে ছবি তোলা বন্ধ করল৷ নইলে যে মুম্বইয়ের বদনাম হবে! 

আবর্জনা সংকট দূর করার একমাত্র পন্থা হলো শিক্ষা৷ ‘কালার ড্রামা' রিসাইক্লিং প্রকল্পের নাতাশা ডি'কোস্টার তা-ই বিশ্বাস৷ নাতাশা পুনর্ব্যবহারযোগ্য আবর্জনা কিনে নিয়ে স্কুলের ছেলেমেয়েদের দেখান, দেখান আবর্জনা থেকে কত কিছু তৈরি করা যায়৷

নাতাশা বললেন, ‘‘ভারতের ঐটাই মজা৷ আমরা রিসাইক্লিংয়ের এক্সপার্ট, ওটা আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ৷ আজ আমরা বড় বেশি আবর্জনা সৃষ্টি করছি৷ আমাদের শিখতে হবে, এই আবর্জনায় কী পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য পদার্থ আছে, যা আমরা ফেলে দিচ্ছি৷''

সৈকত না শৌচালয়?

কিন্তু যত আবর্জনা সাগরে গিয়ে পড়ে, তার সব কিছু দিয়েই যে শিল্পকলা সৃষ্টি করা যায়, এমন নয়৷ বিশেষ করে মানুষের বর্জ্য থেকে তো তা সম্ভবই নয়৷ অথচ সমুদ্রসৈকত আবার ‘শৌচালয়ও' বটে, বিশেষ করে যাদের শৌচালয় নেই, তাদের জন্য৷

আফরোজ শাহ বললেন, ‘‘গরীবরা করবেই বা কী, তাদের পায়খানাগুলো এত নোংরা৷ আর আমারই বা কী কর্তব্য? পুলিশ ডেকে ওদের ফাইন করব? পায়খানা পরিষ্কার করাটাই হবে আমাদের কাজ৷ গত তিন মাস ধরে আমরা ঠিক তা-ই করছি৷''

কিন্তু প্রথমে স্ট্র্যান্ড থেকে সব প্লাস্টিক সরাতে হবে, যে কাজটা খুব সহজ নয় – যে কোনো সপ্তাহান্তে এখানে হাত লাগালেই তা বোঝা যায়৷

রবিবার ছুটির দিনে আফরোজ ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা যে ‘ক্লিন স্ট্র্যান্ড' কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, সেটা একটা ঘাম ঝরানো কাজ, আবার খুব গুরুত্বপূর্ণও বটে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়