1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মুম্বইয়ের পত্রলেখকদের বিদায়ের প্রস্তুতি

একটা সময় ছিল যখন ক্রেতাদের ভিড়ে খাবার সময় পেতেন না৷ আর এখন অফুরন্ত সময়৷ বলছিলাম মুম্বইয়ের পত্রলেখকদের কথা৷ মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের যুগে তাদের প্রয়োজন অনেকটা ফুরিয়ে গেছে৷

মুম্বই জিপিও (জেনারেল পোস্ট অফিস)-র বিপরীত দিকের একটা জায়গায় বসেন পত্রলেখক শাকিল আহমেদ৷ চিঠি লেখার চেয়ে এখন তিনি ফরম পূরণ আর পার্সেল প্যাকেট করার কাজ করেন বেশি৷ তাই মাঝেমধ্যে কখনো যদি চিঠি লেখার সুযোগ পান, তাহলে বেশ খুশি হন৷ শাকিল বলেন, তিনি যেখানে বসেন, আগে সেখানে ১৭ জন পত্রলেখক বসতেন৷ আর এখন সংখ্যাটা কমে এসেছে আটে৷ গত সাত বছর ধরে ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়েছে, বলে জানান শাকিল৷

৪০ বছর আগে ১৪ বছর বয়সে কাজ শুরু করা শাকিলের বর্তমান দৈনিক আয় ২০০ থেকে ৪০০ ভারতীয় মুদ্রা, অর্থাৎ আড়াইশো থেকে পাঁচশো টাকা৷ এই অর্থ দিয়ে তার চলে যায় বলে জানান পাঁচ সন্তানের জনক শাকিল৷

শাকিলের বাবাও একই কাজ করলেও নিজের সন্তানদের তিনি এ কাজে আসতে দেবেন না৷ ‘‘এখন এই কাজে অর্থ নেই৷ তাহলে কেন আমি তাদের আসতে উৎসাহ দেব?'' প্রশ্ন তার৷

তিনি বোঝেন বর্তমান যুগটা মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের৷ শাকিল নিজেও বার্তা সংস্থা এএফপি-র সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কয়েকবার নিজের মোবাইল ফোনের দিকে তাকাচ্ছিলেন৷ ‘‘মোবাইল ছাড়া আপনি কিছু করতে পারবেন না,'' বলেন তিনি৷

Indien Letter Writer Illiteralität

মুম্বই জিপিও-র বিপরীত দিকের একটা জায়গায় বসেন পত্রলেখক শাকিল আহমেদ

গোপনীয়তা রক্ষা

শাকিলদের ব্যবসার মূল ভিত্তিটা ছিল গোপনীয়তা৷ পত্র লেখার সূত্রে অনেকের জীবনের গোপন অনেক কথাই জানা হতো তাঁদের৷ কিন্তু ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য গোপন বিষয়গুলো গোপনই রাখতেন পত্রলেখকরা৷ জীবিকার তাগিদে মুম্বইয়ে থাকা কোনো প্রেমিক বহুদূরে থাকা প্রেমিকার কাছে মনের অনুভূতি প্রকাশ করে চিঠি পাঠাতো, অনেক পতিতা নিজের পেশা গোপন রেখে পরিবারকে টাকা পাঠাতো – এমন সব বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে শাকিলের৷ ‘‘ক্রেতারা যদি আমাদের বিশ্বাস না করতো তাহলে তারা আমাদের কাছে আসতো না৷ তাই তাদের বিষয়গুলো আমাদের গোপন রাখতে হতো৷''

বন্ধ হয়ে গেছে টেলিগ্রাম

আধুনিক প্রযুক্তির তোড়ে যে শুধু শাকিলদের ব্যবসাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, কমাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের টেলিগ্রাম সেবা৷ ফলে একসময় যে লোকটি টেলিগ্রাম পাঠানোর কাজ করতো এখন সে ঐ একই অফিসে পিয়ন বা নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করছে৷ কারণ ঐ অফিস এখন টেলিফোন ও ব্রডব্যান্ড সেবা দিচ্ছে৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন