1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মুমূর্ষুদের মৃত্যুতে সাহায্য নিয়ে যুগান্তকারী রায়

জীবন্মৃত কেউ মৃত্যু চাইলে তাতে সহায়তা করা অপরাধ নয়৷ এমন রায় এসেছে জার্মানির উচ্চতর আদালত থেকে৷ মৃত্যুপথযাত্রী একজনের ইচ্ছায় তাঁর লাইফসাপোর্ট খুলে নেওয়া নিয়েই যুগান্তকারী এই রায়৷

default

ফাইল ছবি

এর মধ্য দিয়ে আদালত মুমূর্ষু কারো জীবন অবসানের ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্তকেই মূল্য দিলো৷ আর এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবী ও চিকিৎসকরা৷

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি, তিনি হলেন এরিকা কেলমার৷ পাঁচ বছর ধরে কোমায় ছিলেন তিনি৷ তবে তার আগে তিনি মেয়েকে জানিয়ে গিয়েছিলেন, কোমায় গেলে তাঁর জীবন যেন প্রলম্বিত না করা হয়৷ পাঁচ বছর কাটার পর মেয়ে তাঁর আইনজীবী ভলফগ্যাং পুৎসের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করলেন, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করবেন৷ এরপর আইনজীবীকে নিয়ে মায়ের লাইফসাপোর্ট খুলে ফেললেন তিনি৷ তবে তা হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সদের নজরে এলে তড়িঘড়ি করে আবার লাগানো হয়৷ অবশ্য দুই সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যু হয় কেলমারের৷ আর তখনি ফেঁসে যান পুৎস৷ কারণ জার্মানির আইনে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া অপরাধ৷ আর এর সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড৷

মামলা চললো, গত বছর নিম্ন আদালত সাজাও দিলো পুৎসকে৷ তবে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়ে শুক্রবার নিজের পক্ষে রায় পেলেন তিনি৷ ফেডারেল কোর্টের বিচারক রুথ রিসিং ভান সান বলেন, ব্যক্তির ইচ্ছায় যে কোনো চিকিৎসার ইতি টানা বৈধ৷ যার অর্থ লাইফসাপোর্ট খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুৎস অপরাধ করেননি৷

এই বিষয়টি নিয়ে জার্মানিতে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে৷ অনেকে বলছেন, যে আইন রয়েছে, তা অস্পষ্ট৷ ১৯৯৪ সালে অন্য একটি মামলায় ফেডারেল কোর্ট আদেশ দেয়, যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি তার চিকিৎসার ইতি টানতে চায়, তবে তা করার অধিকার তার রয়েছে৷ ওই আদেশকে ভিত্তি ধরেই মামলায় জিতলেন আইনজীবী পুৎস৷ তবে এটা এখনো অস্পষ্ট, কোন ক্ষেত্রে চিকিৎসায় ইতি টানা অপরাধ বলে গণ্য হবে৷

আইনে আছে, যদি রোগীর অসুস্থতার ব্যাপক অবনতি ঘটতে থাকে, তখন তাঁর মৃত্যুর ইচ্ছা পূরণ অবৈধ হবে না৷ কিন্তু এতে বাধ সেধেছে চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপক উন্নতি৷ কারণ এখন ইচ্ছা করলেই লাইফসাপোর্ট দিয়ে কাউকে বাঁচিয়ে রাখা যায় অনেক দিন৷ আবার ২০০৫ সালে ফেডারেল কোর্টের এক রায়ে বলা হয়, কোনো রোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কৃত্রিমভাবে খাওয়ানো যাবে না৷ গত বছর একটি আইন হয়েছে, সেখানেও বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রোগীর যে কোনো ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিতে হবে৷ ফলে সব মিলিয়ে বিষয়টি জগাখিচুড়ি পাকিয়ে গেছে৷ এখন এক একটি মামলায় আদালতের রায়েই খুলছে সে জটিলতা৷

শুক্রবার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কার্লসরুয়ে শহরে বিচারক যখন রায় পড়ছিলেন, তখন আদালত প্রাঙ্গণে ছিলো আইনজীবী ও চিকিৎসকদের ভিড়৷ রায় ঘোষণার পরই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁরা৷ আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে জার্মানির আইনমন্ত্রী সাবিনে লয়েটহয়জার শ্নারেনব্যার্গার বলেন, ‘‘আজকের রায়ে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর মিললো৷ এতে কারো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের স্বীকৃতি যেমন দেওয়া হলো, তেমনি তা মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার বিষয়টিকেও স্পর্শ করে গেলো৷''

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়