1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লুৎফুন নেসা

বিদ্যালয় জীবন থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে রত ডা. লুৎফুন নেসা৷ বীর সৈনিক ও রাজনীতিক পিতার উৎসাহ তাঁকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করেছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যোগ দিতে৷ মুক্তিযুদ্ধেও কাজ করেছেন এই সাহসী নারী৷

১৯৪৯ সালের পহেলা জুন ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন ডা. লুৎফুন নেসা৷ বাবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাদলের সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান লস্কর এবং মা গুল আনান লস্কর৷ ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের সময় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন লুৎফুন নেসা৷ ফলে সেই বিদ্যালয় জীবন থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িত হন তিনি৷ পরে ছয় দফা ও এগারো দফা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি৷ এখনও অব্যাহত রয়েছে তাঁর সমাজসেবা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড৷

১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন লুৎফুন নেসা৷ একইসাথে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন তিনি৷ সেই হিসেবে চলমান স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি৷ এছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে ইন্দিরা রোডের মরিচা হাউসে যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন লুৎফুন নেসা৷

কাঠের তৈরি নকল অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সেই অনুভূতি সম্পর্কে তিনি ডয়চে ভেলে'কে বলেন, ‘‘আমরা মরিচা হাউসে সেসময় কাঠের পিস্তল দিয়ে প্রশিক্ষণ নিতাম৷ সেই নমুনা অস্ত্রের বদলে যে একদিন সত্যি সত্যি আমাদের আসল বন্দুক হাতে নিয়ে লড়তে হবে তা ধারণা করাও কঠিন ছিল৷ তবে পরে যখন কলকাতায় গিয়ে আসল বন্দুক হাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছি, তখন মনে হয়েছে ওরা আমাদের এভাবে মারছে, আমরাও প্রয়োজনে তাদেরকে এই অস্ত্র দিয়ে মারবো৷ চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা তো করবোই আহত ভাই-বোনদের, কিন্তু নিজের হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধও আমরা করবো৷''

Bangladesch Freiheitskämpferin Dr Lutfun Nessa

১৯৭১ সালে ডা. লুৎফুন নেসা

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে দুই নম্বর সেক্টরের আওতায় মুন্সীগঞ্জে ক্যাপ্টেন হায়দার এর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ডা. লুৎফুন নেসা৷ কিন্তু বীর সৈনিক পিতার অনুপ্রেরণায় তিনি পরে ভারতের কলকাতায় গিয়ে সম্মুখ যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ এ ব্যাপারে তিনি জানান, ‘‘আমার বাবা বললেন, একজন ডাক্তার হিসেবে তুমি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা তো করবেই৷ কিন্তু শত্রুদের আক্রমণের শিকার হলে নিজেদের রক্ষা করতেও তো পারতে হবে৷ তাই তিনি আমাকে ভারতে নিয়ে গেলেন অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য৷ তাই আমরা চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি সম্মুখ যুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষিত এবং প্রস্তুত ছিলাম৷ সেজন্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন যে, এরাই হলো আমাদের আসল ডাক্তার৷''

ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আবারও মুন্সীগঞ্জে ফিরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় যোগ দেন লুৎফুন নেসা৷ ১২ই ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ শত্রুমুক্ত হলেও এর কিছুদিন আগে ডা. লুৎফুন নেসা ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে কাজ করতে থাকেন৷ দেশ স্বাধীন হলে আবারও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি৷

অডিও শুনুন 03:59

ডা. লুৎফুন নেসার সাক্ষাৎকার ভিত্তিক পরিবেশনার প্রথম পর্ব এখানে

তাঁর ভাষায়, ‘‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু আমাদের বললেন, তোমরাই তো আসল ডাক্তার কিন্তু তোমাদের পরীক্ষা দিতেই হবে৷ আসলে আমরা যখন পরীক্ষা বর্জন করে যুদ্ধ করছিলাম তখন পরীক্ষা দিয়েছে অনেকে৷ কিন্তু বঙ্গবন্ধু বললেন, স্বাধীন দেশে এখন তোমাদের একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স করে পরীক্ষা দিতে হবে৷ যারা আগেও পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের সব পরীক্ষা বাতিল৷ তাদেরকেও পরীক্ষা দিতে হবে৷ ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা প্রথম পরীক্ষা দিয়ে ডাক্তার হই৷ তবে আমি যেহেতু ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলাম, আবারও দেশ গড়ার কাজ শুরু করি এবং সদ্য স্বাধীন দেশের সবকিছু আবারও গুছিয়ে নিতে আমাদের অনেক খাটতে হয়েছে৷''

পরে বাংলাদেশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ইন্সটিটিউট এর পরিচালনা পরিষদের সদস্য হন ডা. লুৎফুন নেসা৷ বর্তমানে মহিলা সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত নারীদের স্তন ক্যান্সার চিহ্নিতকরণ, চিকিৎসা ও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছেন তিনি৷ সেখানে একদিকে যেমন চিকিৎসকরা বিনা বেতনে সেবামূলক কাজ করছেন, তেমনি নারীরাও বিনা পয়সায় এই পরিষেবা গ্রহণ করতে পারছেন৷ এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এবং মহিলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বীর সাহসী নারী নেত্রী ডা. লুৎফুন নেসা৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও