1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মুক্ত লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে আবারো চাপে সরকার

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সোমবার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে ‘কতলের' হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম৷

গত বছরের ২৯শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী৷ তখন তাঁকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা কর৷ তাঁকে মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়৷ শুধু তাই নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কটূক্তির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৭টি মামলা হয়৷ দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় প্রতিটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত৷

এই পরিস্থিতিতে গত বছরের ২৩শে নভেম্বর কলকাতা থেকে বিমানে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী৷ এরপর বিমানবন্দর থেকে অজ্ঞাত স্থানে চলে যাওয়ার পর ২৫শে নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় তিনি আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠায়৷

গত ২৬শে মে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের সাত মামলায় সাবেক এই মন্ত্রীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেয় আদালত৷ এছাড়া আদালত এ সব মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে৷ গত ২৩শে জুন একই অভিযোগে করা আরো ১০ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী৷

গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলের কেবিনে এতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী৷ আর সেখান থেকেই তিনি সোমবার বিকেলে জামিনে মুক্তি পান৷

জামিনে মুক্তির সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আমার কাছে আপনাদের জন্য কোনো সংবাদ নেই৷ তাই এখানে ছবি তুলবেন না৷'' ‘আপনি তো এখন মুক্ত' সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি এখনও মুক্ত না৷ আমি মুক্ত হবো নেত্রী যখন সিদ্ধান্ত নেবেন৷ নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে আমি মুক্তও না, অমুক্তও না৷''

ইসলাম ভিত্তিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া

লতিফ সিদ্দিকী জামিনে মুক্ত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামপন্থি কয়েকটি সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল৷ তারা লতিফ সিদ্দিকীকে আবারো গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে৷

‘নাস্তিকতার' অভিযোগ এনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ‘কতল' বা মাথা কেটে হত্যার হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম৷ আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবিব সোমবার এ হুমকি দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নাস্তিককে ছেড়ে দেওয়া হয়নি৷ এখনও ছেড়ে দেওয়া হবে না৷ লতিফ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের মাটিতে মুক্ত অবস্থায় থাকতে দেওয়া হবে না৷ যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কতল করা হবে৷''

লতিফ সিদ্দিকীকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম৷ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী৷

ইসলামি ঐক্যজোট সোমবার মাগরিবের নামাজের পর লালবাগ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করে৷ সেখানে ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘‘লতিফকে মুক্তি দিয়ে উগ্রবাদী মুরতাদ, নাস্তিক্যবাদী জঙ্গিদের জামাই আদর করা হচ্ছে৷ মুরতাদ, নাস্তিক্যবাদী, জঙ্গি লতিফদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না৷'' আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণাও দেয় ইসলামি ঐক্যজোট৷

খেলাফতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেছেন, ‘‘ইমানদার রোজাদারদের তীব্র আন্দোলনে নাস্তিক-মুরতাদরা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে৷ লতিফকে জামিন দিয়ে সরকার নিজের জামিন কেটে দিয়েছে৷ তাই এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই৷ তারা ইসলাম ও মুসলমানদের চরম দুশমন৷''

সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘‘স্বঘোষিত মুরতাদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিনে বের হওয়ার সুযোগ দিয়ে সরকার ইসলামবিদ্বেষীদের উসকে দিয়েছে৷''

লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ বহাল

দল থেকে বহিষ্কার হলেও লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ এখনো বহাল আছে৷ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে কেউ দলত্যাগ করলে বা দল থেকে বহিস্কার করা হলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়৷ এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘আমার কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের কোনো চিঠি আসেনি৷ চিঠি পেলে বিধি অনুযায়ী আমি তা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠাবো৷ কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে জানানোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘উনি আগেও যে অবস্থায় ছিলেন, এখনও সেই অবস্থানে রয়েছেন৷ ওনার সংসদের আসনটি এখনও একই অবস্থায় রয়েছে৷'' সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের ১৪ নম্বর আসনটি লতিফ সিদ্দিকীর বলেও জানান তিনি৷

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামও এ ধরনের চিঠি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের কোনো চিঠি তারা দল বা সংসদ সচিবালয় থেকে পাননি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়