1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

‘মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মেয়ের জন্য উৎকোচ দিতে হয়েছে'

মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে ডিডাব্লিউ-এর কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন সাহসী ও ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা তাহরীমা চৌধুরী৷ এমনকি মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কলেজ ছাত্রীনিবাসে মেয়ের আবাসনের জন্য উৎকোচ দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি৷

হাপানিয়া শিবির থেকে তাহরীমাসহ ১৪ জন মেয়ে জিবি এবং বিএম হাসপাতালে গিয়ে নার্সিং স্কোয়াডে যোগ দেন৷ সেখানে তাঁরা সেবিকা হিসেবে কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ সেখানে কাজের কথা স্মরণ করে তাহরীমা জানান, ‘‘আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি ভেতরে, বাইরে, বারান্দায়, বিছানায়, মেঝেতে শত শত আহত এবং অসুস্থ নারী-পুরুষ৷ আমার বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর৷ আমার পক্ষে এসব দৃশ্য দেখে সহ্য করা খুব কঠিন ছিল৷ তবুও নিজেকে সামলে নিলাম৷ সেখানে আমাদের ওষুধের মাফ-জোখ, কীভাবে ড্রেসিং করতে হয়, কীভাবে সেলাই করতে হয়, হাড় ভেঙে গেলে কীভাবে প্লাস্টার করতে হয় এসব কিছু শেখানো হয়৷ আমরা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে কাজ করতাম৷ এভাবে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে আমাদের উদয়পুর শিবিরে পাঠানো হয়৷''

Freiheitskämpferin Tahrima Chowdhury und ihre Familien

সপরিবারে তাহরীমা চৌধুরী

হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের একদিনের স্মরণীয় ঘটনা জানাতে গিয়ে তাহরীমা চৌধুরী বলেন, ‘‘একদিন দেখলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাইকে ধরাধরি করে আনা হচ্ছে৷ তার পেটটা গামছা দিয়ে বাঁধা৷ এরপরেই দেখি আরো একজন আহত মুক্তিযোদ্ধাকে আনা হলো৷ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাঁচ-ছয় জন আহত মুক্তিযোদ্ধাকে হাসপাতালে আনা হলো৷ তাদের মধ্যে দ্বিতীয় জনকে সেলাই করার দায়িত্ব আমাকে দেয়া হলো৷ সেলাই করার জন্য পায়ে হাত দিয়ে দেখি, তার পায়ের হাড়টি নেই৷ গোলার আঘাতে উড়ে গেছে৷ কিন্তু চামড়াটা শুধু ঝুলছে৷ আর অঝোরে রক্ত ঝরছে৷ তার এরকম অবস্থা দেখে আমারই প্রায় অজ্ঞান হওয়ার দশা৷ মনে হলো আমার মাথার উপর থেকে আকাশটা সরে গেছে৷ তবে কিছুক্ষণের মধ্যে আমি নিজেকে সামলে নিতে সক্ষম হই৷ এরপর আমি তার ঝুলে থাকা চামড়া সেলাই করি এবং ড্রেসিং করে দিই৷ এছাড়া এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছি যাদের হাত নেই, চোখ নেই কিংবা পেটের ভুড়ি বের হয়ে গেছে৷ সেখানকার যে আহাজারি, চিৎকার আর কষ্টগুলো দেখেছিলাম এখনও সেগুলো যেন আমার চোখের সামনে ভাসে৷''

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন করে লেখাপড়া শুরু করেন তাহরীমা৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল গার্লস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন৷ কিন্তু এরপরেই তাঁর বিয়ে হয়ে যায়৷ তবুও প্রথমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকায় এবং পরে ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করেছেন৷ এছাড়া নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিতে থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন তাহরীমা৷ বর্তমানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি৷ ২০০২ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ পেলেও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতে সময় লেগেছে আরো ৫/৬ বছর৷

অডিও শুনুন 04:00

মুক্তিযোদ্ধা তাহরীমাকে নিয়ে অনুষ্ঠানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন৷

এক মেয়ে ও দুই ছেলের জননী তাহরীমা৷ কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও ঢাকায় ইডেন কলেজ ছাত্রীনিবাসে মেয়ের থাকার ব্যবস্থা করতে নেত্রীদের ৮ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে হয়েছে বলে কষ্টের কথা জানালেন তাহরীমা৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার মেয়েটা স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে শেষ বর্ষে রয়েছে৷ কিন্তু দীর্ঘদিন কলেজ ছাত্রীনিবাসে জায়গা হয়নি তার৷ ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যাওয়া আসা করে লেখাপড়া করেছে৷ আমি মেয়েটার আবাসনের জন্য অনেকের কাছে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি৷ কিন্তু কেউ কিছু করেনি৷ শেষ পর্যন্ত বছর দুয়েক আগে এক নেত্রীর মাধ্যমে আট হাজার টাকা দিয়ে অনেক চেষ্টা-তদবির করে মেয়ের জন্য ছাত্রীনিবাসে আবাসন সুবিধা করে দিতে পেরেছি৷''

স্বাধীন দেশের ৪১ বছরে মুক্তিযোদ্ধাদের কতোটা মূল্যায়ন হয়েছে - এমন প্রশ্নের উত্তরে তাহরীমা চৌধুরী বলেন, ‘‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপর আমাদের কোন মূল্যায়ন হয়নি৷ বিশেষ করে আমরা যারা নারী মুক্তিযোদ্ধা তাদের কোনই মূল্যায়ন হয়নি৷ আমার নিজের একটা বাড়ি নাই৷ ভাড়াবাড়িতে থাকি৷ আমি ট্যুইশনি করি, স্কুলে পড়ায় আবার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়