1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চান গীতা ও ইরা কর

পাকিস্তানি দোসরদের হাতে বাবা ও কাকার খুনের প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রত্যয় নিয়েছিলেন গীতা ও ইরা কর৷ প্রশিক্ষণ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় যান মুক্তিযোদ্ধা দুই বোন৷ কিন্তু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার সুযোগ হয়নি তাঁদের৷

default

মুক্তিযোদ্ধা গীতা কর

কলকাতার গোবরা শিবিরে প্রথম দফায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সিলেট সীমান্তে যান দুই গীতা আর ইরা৷ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবেন৷ কিন্তু সেখানে কোন পথ খুঁজে না পেয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য নারী নেত্রী সাজেদা চৌধুরীর কাছে টেলিগ্রাম করা হয়৷ টেলিগ্রামের উত্তর মেনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে আগ্রহী ১৫ জন মেয়ের দলটিকে গাড়িতে করে আগরতলা পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়৷ সেখান থেকে তাদেরকে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে কাজে যোগ দিতে বলা হয়৷ বিশ্রামগঞ্জে কাজ শুরু করলেও অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার দৃঢ় ইচ্ছা ছিল তাদের৷

Geeta Kar

মুক্তিযুদ্ধের সময় ইরা কর

ডয়চে ভেলের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে গীতা কর জানান, ‘‘আমরা যুদ্ধ করে মরতে চাই৷ কিন্তু পথের মধ্যেই না খেয়ে মারা গেলে তো কোন লাভ হবে না৷ তাই সাজেদা চৌধুরীর ফেরত টেলিগ্রামের নির্দেশনা অনুসারে আগরতলা পৌঁছাই৷ এরপর বিশ্রামগঞ্জে গিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম, ডা. এম এ মবিন, ডা. নাজিম, ডা. মোর্শেদ সহ সবাই আমাদের অভিনন্দন জানালেন৷ তাঁরা বললেন যে, তোমরা এসো৷ আমাদের সাথে কাজ করো৷ তোমাদের আর কোন চিন্তা নেই৷ কিন্তু তখনও আমরা বলছি যে, আমরা বন্দুক হাতে চাই৷ যেহেতু আমরা তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নিয়েছি৷ এসব কথা বলে আমরা প্রশিক্ষণের সনদও দেখালাম৷ তবুও আমাদেরকে চিকিৎসা সেবার কাজেই যোগ দিতে বলা হলো৷ সেখানে সুলতানা কামাল, তাঁর বোন সাঈদা কামাল, নিলীমা বৈদ্য, বাসনা চক্রবর্তী, পদ্মা রহমানসহ অনেকের সাথেই কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমাদের৷ এসময় আমাদের মনে একটু আশার সঞ্চার হলো যে, আমরা শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি৷''

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালেই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা গীতা ও ইরা কর৷ এতোদিন পর্যন্ত কোন আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ ছিল না তাদের৷ তাই সেখান থেকে বর্তমান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে সোনামুড়া সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লায় পৌঁছান৷ এরপর ঢাকায় এসে ইস্কাটন রোডে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ শুরু করেন তাঁরা৷ সদ্য স্বাধীন দেশে গরিব দুঃস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘গ্রামে চলো, গ্রাম গড়ো' স্লোগানে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র৷ সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে অবসর নিয়েছেন গীতা কর৷ আর ইরা কর এখনও সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন৷ ইতিমধ্যে ফ্রান্স থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দেড় বছরের কোর্স করেন গীতা কর এবং ইরা কর একই জায়গা থেকে অণু-জীববিজ্ঞান বিষয়ে কোর্স সম্পন্ন করেন৷

Geeta Kar

এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি গীতা কর

দেশ স্বাধীন করা এবং দেশ গড়ার কাজে এমন একনিষ্ঠভাবে কাজ করেও এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি সাহসী ও ত্যাগী দুই বোন গীতা ও ইরা কর৷ স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পার হলেও এখনও কেন নিজেদের কাজের স্বীকৃতি পাননি - এমন প্রশ্নের উত্তরে গীতা কর জানালেন, ‘‘ওসমানির কাছ থেকে সনদ পাওয়ার পর আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করি৷ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ এবং কাগজ-পত্র জমা দিতে বেশ কিছু টাকা খরচও করেছি৷ কিন্তু কোন কাজই হয়নি৷ স্থানীয় পর্যায় থেকে বলে ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে যেতে, আর মন্ত্রণালয় বলে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ করতে৷ এভাবে ঘুরে ঘুরে তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এখন আশা ছেড়ে দিয়েছি৷ এখন আমি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে অবসর গ্রহণের পর আর আয় উপার্জনও নেই৷ তাছাড়া শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি বলে আর ওদের পেছনে ঘুরতেও পারছি না৷ এখন একটিই প্রত্যাশা যদি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার নামটা সরকারের খাতায় উঠতো, তাহলে হয়তো মরার সময় জাতীয় পতাকা দিয়ে আমার দেহটা ঢেকে দিতো৷ তাই এখন আমার একমাত্র ইচ্ছা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও