1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর ঘোষণা আইন বিরুদ্ধ’

ঢাকায় আর কোনো যুদ্ধাপরাধীর জানাজা হবে না বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা আইন বিরুদ্ধ বলে দাবি করেন যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম৷

বলেন, বিশ্বের কোনো দেশে এর নজির নেই৷

মঙ্গলবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ২১ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ঘোষণা করেন, ‘‘রাজধানী ঢাকার মাটিতে আর কোনো যুদ্ধাপরাধীর জানাজা হবে না৷''

মন্ত্রী বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অনেক মুক্তিযোদ্ধা মুত্যুবরণ করেছেন, শহিদ হয়েছেন৷ তাঁদের শতকরা এক ভাগও জানাজা পাননি; শকুনে, কুকুরে ও শিয়ালে তাঁদের লাশ খেয়েছে৷ নদীতে, খাল-বিলে বা বাগানে সেই লাশ পচেছে৷ তাই ঢাকায় কোনো যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পরস জানাজা করতে দেওয়া হবে না৷''
তিনি আরো বলেন, ‘‘আজকে মানবতার কথা আসে, ধর্মের কথা আসে৷ ১৯৭১ সালে আমাদের সহযোদ্ধা মুসলমানরা কেন জানাজা পাননি? তার আগে কৈফিয়ত দেওয়া হোক, বিচার করা হোক৷ তারপর আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়টি বিবেচনা করব, এর আগে নয়৷''

এ নিয়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ঢাকায় জানাজা পড়তে না দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বেআইনি৷ তিনি এ কথা বলে আইনের লঙ্ঘন করেছেন৷ বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম আইন বা নিয়ম নেই৷ তিনি আইন বিরুদ্ধ কথা বলেছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রীর এ ধরণের কথা উসকানিমূলক৷'' আইন করে যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ঢাকায় জানাজা বন্ধ করা যায় কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এ ধরণের আইনের কথা হাস্যকর৷ পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম আইন আছে বলে আমার জানা নেই৷'' এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে বলেননি৷ তিনি নিজে থেকেই বলেছেন৷ এর পিছনে সরকাররের আইন প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ বা প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়৷

অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স ম রেজাউল করিম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর কথা আমি সরাসরি শুনিনি, সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছি৷ তিনি কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, কেন বলেছেন, তাঁর ব্যাখ্যা তিনিই দিতে পারবেন৷ তবে বাংলাদেশের আইনে কোনো জায়গায় কারুর জানাজা নিষিদ্ধ বা বন্ধ করার বিধান নেই৷ এছাড়া এ সবের জন্য আইন করা যায় কিনা – তাও প্রশ্ন সাপেক্ষ৷''

উল্লেখ্য, গত ২৫শে অক্টোবর জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের জানাজা হয় ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে৷ সেখানে তাঁর জানাজার বিরোধিতা করেছিল গণজাগরণ মঞ্চসহ আরো কিছু সংগঠন৷ তারা প্রতিবাদও জানিয়েছিল৷ কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জানাজায় কোনো বাধা দেয়া হয়নি৷ বরং জানাজার নিরপত্তায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়৷ জানাজা নির্বিঘ্নে হয়ে যাওয়ার পর, গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহ হিল আমান আযমি সরকারকে ধন্যবাদও জানান৷ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৯০ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দি অবস্থায় গোলাম আযম ২৩শে অক্টোবর রাতে মারা যান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়