1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মীর কাসেমের বিরুদ্ধে রায় রবিবার

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায়ের ৪ দিনের মাথায় রবিবার জামায়াতের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং অর্থের মূল জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রায় দেয়া হবে৷

এরইমধ্যে জামায়াতের আমির এবং সেক্রেটারি জেনারেলসহ ১১ শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷

মীর কাসেম আলীকে শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল-২-এ রবিবার তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে৷

২০১২ সালের ১৭ জুন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মীর কাসেম আলীকে গ্রেপ্তার করে৷ গত বছরের ১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে৷ ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইবুন্যাল-১৷ পরে মামলাটি ট্রাইবুন্যাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়৷ রাষ্ট্রপক্ষে ২৪ জন ও আসামিপক্ষে তিনজন সাক্ষ্য দেন৷ ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়৷

Matiur Rahman Nizami im Gefängnis Archiv Januar 2014

বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় হয়েছে

মীর কাসেম আলী চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের হোতা ছাড়াও বুদ্ধিজীবী হত্যার তালিকা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন৷ কাসেম আলীর নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী চট্টগ্রামের টেলিগ্রাফ অফিস সংলগ্ন ডালিম হোটেলসহ টর্চার সেলগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা, তাদের স্বজন এবং স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ধরে এনে নির্যাতন ও হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ৷

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে ওই টর্চার সেল থেকে অনেকের সঙ্গে মুক্ত হন চট্টগ্রামের সৈয়দ মো. এমরান৷ তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘একাত্তরে বদর কমান্ডার মীর কাসেম চট্টগ্রাম শহরে যে অপরাধ করেছেন সে ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি প্রত্যাশা করা যায় না৷ আশা করছি রোববারের রায়ে মৃত্যুদণ্ডই হবে৷''

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরু বাঙালি মীর কাসেমকে চট্টগ্রামে বদর বাহিনীর নির্যাতন ও হত্যা পরিকল্পনার ‘রিং মাস্টার' আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘‘মৃত্যুদণ্ড ছাড়া তার আর অন্য কোনো শাস্তি হতে পারে না৷''

৬২ বছর বয়সি মীর কাসেমের পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায়৷ তবে বাবার চাকরির সূত্রে তিনি ছোটবেলা থেকে চট্টগ্রামে থাকতেন৷ একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম শহর শাখার সভাপতি ছিলেন৷ ৭ নভেম্বর তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক হন৷ স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ নাম বদলে ইসলামী ছাত্রশিবির নামে আত্মপ্রকাশ করে৷ মীর কাসেম ছিলেন ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি৷

Internationales Gericht in Dhaka Bangladesch ARCHIVBILD

মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গেছেন সাঈদী

১৯৮০ সালে তিনি রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী নামের একটি বিদেশি বেসরকারি সংস্থার বাংলাদেশের পরিচালক হন৷ ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি জামায়াতের শূরা সদস্য৷ দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের প্রধান মীর কাসেম জামায়াতের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত৷

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

বুধবার নিজামীর মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুটি ট্রাইবুন্যাল মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন৷

এরমধ্যে তিনটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে৷ ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইবুন্যাল-১ -এর দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ৷

আর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইবুন্যাল-২ এর দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আপিল বিভাগ৷ ১২ ডিসেম্বর রাতে ওই রায় কার্যকর করা হয়৷

এছাড়া বিএনপির সাবেক নেতা আবদুল আলীম মারা যাওয়ায় তাঁর মামলাটি আপিল বিভাগ বাতিল করেছেন৷ ট্রাইবুন্যাল-২ তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন৷

ট্রাইবুন্যাল-১ এর রায়ে ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমও কারাগারে আটক অবস্থায় ২৩ অক্টোবর মারা যান৷ নিয়ম অনুসারে আপিল বিভাগে বিচারাধীন তাঁর মামলাটিও আর চলবে না৷

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ পর্যন্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলবদর বাহিনীর দুই নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান, জামায়াতের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদ, বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়