1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব রইলেন কেন মোদী?

প্রশ্নটা নিয়ে কূটনৈতিক শিবিরে রীতিমতো বিতর্ক৷ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গ না তোলার প্রধান কারণ প্রধান চীনের বৃত্ত থেকে মিয়ানমারকে ভারতমুখী করা৷ যৌথ বিবৃতিতে এই প্রসঙ্গ ধামাচাপা পড়ায় মনঃক্ষুণ্ণ বাংলাদেশ৷

কূটনৈতিক শিবির মনে করছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে চীনের আগ্রাসী ভূমিকায় ভারতের কপালে ভাঁজ৷ তার পালটা হিসেবে মিয়ানমারকে কাছে টানতে কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন আনতে চাইছে মোদী সরকার৷ কারণ নতুন দিল্লির কাছে মিয়ানমারের গুরুত্ব ক্রমশই বাড়ছে৷ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ভৌগোলিক যোগসূত্র মিয়ানমার৷ ‘লুক ইস্ট' পলিসি কার্যকর করতে ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো মজবুত করা দরকার, সম্ভবত এমনটাই  মনে করছে মোদী সরকার৷ তাই চীনে ব্রিকস সম্মেলনশেষে ফেরার পথে ইয়াঙ্গুন সফরে অং সান সু চি ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী৷

কিন্তু শেষ র্যন্ত দেখা গেল ৬ই সেপ্টেম্বরের যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার কোনো উল্লেখই নেই৷ কূটনৈতিক মহল এবং বাংলাদেশ আশা করেছিল যে, শরণার্থীদের ফেরত পাঠাবার একটা সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাতে মিয়ানমার নেতৃত্বকে মোদী রাজি করাতে পারবেন৷কিন্তু যৌথ বিবৃতি যদি কোনো ইঙ্গিত হয়ে থাকে, তাহলে বলা বাহুল্য সে গুড়ে বালি৷ মোদীর এই নীরবতা নিয়ে স্বভাবতই মনঃক্ষুন্ন বাংলাদেশ৷ যদিও রাখাইন প্রদেশে হিংসা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, কিন্তু একটি বারের জন্যও রোহিঙ্গা ইস্যু উচ্চারণ করেননি তিনি৷ উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইন প্রদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা৷ কূটনৈতিক সূত্রের একাংশের বক্তব্য, প্রকাশ্যে না বললেও অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকে সম্ভবত রোহিঙ্গা ইস্যু তুলেছিলেন মোদী৷ কিন্তু মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার বিষয়ে একেবারেই রাজি নয় বলেই হয়ত যৌথ বিবৃতিতে তার উল্লেখ নেই৷ শরণার্থীদের ফেরত না নেবার কারণ, রোহিঙ্গারা নাকি রাখাইন প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত৷ তারা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালাচ্ছে– এমনটাই দাবি ইয়াঙ্গুনের৷

রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারতেরও গলার কাঁটা৷ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা আর ভারতে ৪০ হাজার৷ এর একটা বিহিত করতে গত শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেন নতুনদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী৷ হাইকমিশন সূত্রে বলা হয়, রোহিঙ্গা সমস্যার মানবিক সমাধানের জন্য ইয়াঙ্গুনের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ঢাকা৷ সেজন্য দিল্লিকে পাশে পাওয়া দরকার৷ বৈঠকের পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরেকটি বিবৃতি প্রকাশ করে দিল্লির অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়৷ তাতে বলা হয়, রাখাইন প্রদেশের হিংসা এবং ঐ অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নজনিত পরিস্থিতিতে ভারত উদ্বিগ্ন৷ ঢাকা এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে৷ পাশাপাশি, গত সপ্তাহে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে মত বিনিময় হয় পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের মধ্যে৷ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশে যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার প্রতি তিনিও দিল্লির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ নতুন দিল্লির পূর্বতন বাংলাদেশ হাইকমিশনার তারেক করিম মনে করেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটা মাপকাঠি৷ শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে প্রচণ্ড চাপের মুখে, সেটা দিল্লির অনুধাবন করা বাঞ্ছনীয়৷

উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতবিরোধী জঙ্গি তত্পরতা দমনে ঢাকা যে সাফল্য দেখিয়েছে, সেটা ভারতের ভুলে যাওয়া অনুচিত৷ দিল্লির তরফে বলা হয়,ভারতের ৪০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ১৪ হাজার রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে৷ অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে৷ কোন রাজ্যে কত সংখ্যক রোহিঙ্গা আছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি রাজ্যকে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে৷ দিল্লি এদের ফেরত পাঠাতে মরিয়া, কারণ ভবিষ্যতে এদের সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে৷ মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকার বলেছেন, মিয়ানমার থেকে উত্খাত যেসব রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু এই রাজ্যে রয়েছে, তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না৷ মানবিকতার খাতিরেই তাদের এই রাজ্যে থাকতে দেওয়া হবে৷

গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি ধীরাজ সেনগুপ্ত ডয়চে ভলেকে বলেন, ‘‘ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির উচিত রোহিঙ্গা সমস্যার মানবিক সমাধানে জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানানো৷ ভারতেরও উচিত নয় শরণার্থী ইস্যু নিয়ে এতটা স্পর্শকাতর না হওয়া৷ ভারত অতীতে তিব্বতি, পাখতুন ও সিংহলি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে৷ তারা যদি জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদ না হয়ে থাকে, তাহলে রোহিঙ্গারা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদের কারণ হবে কেন ?''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়