মিয়ানমারে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে ট্যাটু-সংস্কৃতি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.04.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মিয়ানমারে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে ট্যাটু-সংস্কৃতি

মা হিৎওয়ে সেই মর্মান্তিক দিনটির কথা স্মরণ করে এখনও কষ্ট পান৷ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগের কথা৷ যেদিন তাঁর মুখে ট্যাটু এঁকে দেওয়া হয়েছিল৷ যা এখনও মাকড়শার জালের মতো ঢেকে রেখেছে তাঁর মুখ৷

tattoo, artist, shop, customers, memorial, Myanmar, tattooed, women, lure, tourists, মিয়ানমার, পর্যটক, আকর্ষণ, ট্যাটু-সংস্কৃতি

নিজের দেহে ট্যাটু এঁকে নিচ্ছেন এক মহিলা (ফাইল ছবি)

পান সুপারি খেতে খেতে মা হিৎওয়ে বললেন, ‘‘তারা যখন আমার চোখের পাতার ওপর দিয়ে ট্যাটু আঁকছিল, তখন আমি ভেবেছিলাম এগুলো উঠে যাবে৷'' ৬৫ বছর বয়সের এই মহিলা তাঁর গ্রামের সবর্শেষ ব্যক্তি, যাঁর মুখে কালি দিয়ে ট্যাটু আঁকা হয়েছিল৷ সামরিক শাসক শাসিত মিয়ানমারের প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জাতিগত সংখ্যালঘু ‘চিন' সম্প্রদায়ের তরুণীদের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিল সে সময়ে৷ আজ থেকে প্রায় দুই প্রজন্ম আগে ঐ প্রথার সমাপ্তি ঘটলেও, মা হিৎওয়ে সেই সব দুর্ভাগাদের মধ্যে একজন যিনি এখনও মুখে সেই কালিমাখা ট্যাটুর চিহ্ন বহন করে চলেছেন৷ প্রাচীন ঐ ঐতিহ্য অনুযায়ী, একমাত্র মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই কোনো ব্যাক্তি তাঁর সেই চিহ্নের হাত থেকে মুক্ত হতে পারেন৷

তবে উধাও হয়ে যাওয়া ঐ প্রথাই এবার যেন এই ঘুমন্ত গ্রামটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে৷ লেমরো নদীর ধারের এই গ্রামটিতে সেই ট্যাটু-সংস্কৃতিই টেনে আনছে পর্যটকদের৷ এরমধ্যে আছেন এক জার্মান চিত্রগ্রাহক এবং লেখক ইয়েন্স উভে পার্কিটনি৷ যিনি গত দশ বছর ধরে ‘চিন' সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন দলের মধ্যকার ঐতিহ্য নথিভুক্ত কররে রাখছেন৷ তিনি বললেন, ‘‘মা হিৎওয়ে তাঁদের শেষ সন্তান৷'' ১৯৬০-এর দশকের সামাজিক শাসনামলে ঐ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়৷ আর তারপর, ট্যাটু আঁকার ঐ প্রথা ক্রিস্টান মিশনারিদের মধ্যেও চোখে পড়ে না বললেই চলে৷

প্রচলিত এক লোককাহিনীতে বলা হয়, চিন মহিলাদেরকে কুৎসিত দেখানোর জন্য এবং বার্মার শিকার সন্ধানি রাজাদের হাত থেকে তাঁদেরকে রক্ষা করার জন্যই ঐ ট্যাটু আঁকা হতো৷ তবে ট্যাটু আঁকার সৌন্দর্য এবং এর অসুন্দর দিক নিয়ে মতভেদ রয়েছে অনেকের মধ্যেই৷ ঐ গ্রামেরই আরেকজন মহিলা মা সেইন৷ তাঁর বয়স ৬০ বছর৷ তিনি কিন্তু মনে করেন, ট্যাটু আঁকার বিষয়টি ছিল আসলে নারীত্ব এবং তাঁর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন