1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মিশর এখন যে দু'জনের শাসনে

একজন আপাতত আড়ালে৷ নিকট এবং দূর অতীত খুব গৌরবের না হলেও জেনারেল আবদেল ফাতাহ আল-সিসিই এখন এক অর্থে সবচেয়ে ক্ষমতাবান৷ রাষ্ট্র শাসনের ভার অবশ্য প্রধান বিচারপতি আদলি মনসুরের কাঁধে৷ দুই বিপরীত মেরুর মানুষই এখন শাসন করছেন মিশর৷

৪৮ ঘণ্টার 'চরমপত্র' দিয়ে দেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে সেনাবাহিনী৷ জেনারেল আবদেল ফাতাহ আল-সিসির দেয়া ‘হুমকি'-কে শুরুতে আমলে না নিলেও মুরসি পরে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷ তাতে কাজ হয়নি৷ তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়া মুরসিকে গৃহবন্দী করে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন আল-সিসি৷ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি৷ সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট হয়েছেন আদলি মনসুর৷ নতুন দায়িত্বে শপথও নিয়েছেন স্বৈর শাসক হোসনি মুবারক এবং সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির অধীনে কাজ করা এই বিচারপতি৷

সেনা প্রধান আল-সিসিও কাজ করেছেন মুবারক এবং মুরসির আমলে৷ এই জায়গায় মিল থাকলেও আদলি মনসুর আর আল-সিসির অতীত কিন্তু দুজনকে ভিন্ন অবস্থানেই দাঁড় করিয়েছে৷ সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহের আল-বেহাইরিস অবসর নেয়ার পর গত মাস, অর্থাৎ জুনের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট মুরসি সেই দায়িত্ব দেন মনসুরকে৷ কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি হয়ে গেলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট৷ খুব তাড়াতাড়িই পেলেন বড় দায়িত্ব৷ তবে এ দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন সে সম্ভাবনা কম৷ মুরসির মুসলিম ব্রাদারহুড দল এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কারো কাছেই তাঁর ভাবমূর্তি খুব উজ্জ্বল নয়৷ মুবারকের পতনের পর তাঁর অনুসারীদেরও নির্বাচনে অংশ নেয়ার অধিকার দেয়ার দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় বরং দু'পক্ষেরই সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি৷

আল-সিসি আরো বেশি সমালোচিত৷ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো প্রশংসনীয় কাজ তিনি করেছেন কিনা – তা অনেকটাই অজানা৷ মিশরের মানুষের কাছে দুটি বিষয় খুব মনে রাখার মতো৷ এক, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩-এর যুদ্ধে তিনি অংশ নেননি৷ দুই, নারীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি মুরসির আমলেও খুব সমালোচিত হয়েছে৷ সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে নারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠায়, নিপীড়িতদের ‘প্রেগনেন্সি টেস্ট' করানোর কথা বলেছিলেন আল-সিসি৷ তুমুল সমালোচনার মুখে পরে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছিলেন৷

তবে আদলি মনসুর আর আল-সিসির মধ্যে একটা মিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে পড়েছে৷ জার্মানির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান আর্চরাইনারের মতে মিশরের সেনাবাহিনী এমনিতে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী৷ আর আদলি মনসুরের তো মুবারকের পতনের পরের আগুনে সময়েও স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অতীত রয়েছে৷ এই দুটো বিষয় সংকটাপন্ন মিশরের সংকট নিরসনে কি ভূমিকা রাখবে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন