1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মিশরে হয়ে গেল ‘প্রথম বিশ্ব ওয়েব যুদ্ধ’

‘প্রথম বিশ্ব ওয়েব যুদ্ধ’ দেখে ফেলল বিশ্ববাসী৷ চলেছে ১৮ দিন ধরে৷ বলছিলাম মিশরের সরকার-বিরোধী আন্দোলনের কথা৷ জনগণের বিক্ষোভের কারণেই হোসনি মুবারক ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে ছিল ইন্টারনেট প্রযুক্তির হাত৷

default

যুদ্ধের দুই পক্ষ

যুদ্ধ বলতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বোঝায়৷ সে হিসেবে ‘প্রথম বিশ্ব ওয়েব যুদ্ধ'র এক পক্ষে ছিলেন মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক৷ আর অন্য পক্ষে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট৷

মিশরে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের শুরুটা হয় ফেসবুক থেকে৷ কয়েকজন তরুণ প্রথমে ফেসবুকে একটি গ্রুপ তৈরি করে৷ সেটা ২০০৮ সালের কথা৷ একটা কোম্পানির শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলন সমর্থন জানাতে তৈরি হয় গ্রুপটি৷ কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনাচক্রে এটি সরকার-বিরোধী একটি গ্রুপে পরিণত হয়৷ আর দিন দিন বাড়তে থাকে এর সদস্য সংখ্যা৷ তারপর এক সময় একটি নির্দিষ্ট দিন ও স্থান ঠিক করে সবাইকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকতে অনুরোধ করা হয়৷

দিনটা ছিল ২৫ জানুয়ারি৷ শুরু হয় আন্দোলন৷ প্রথমে তরুণরা যোগ দেয় তাতে৷ পরে সাধারণ জনগণও এগিয়ে আসে৷ ফলে বাড়তে থাকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা৷ গতি পেতে থাকে আন্দোলন৷ যেটা পরে শেষ হয় মুবারকের ক্ষমতা ছাড়ার মধ্য দিয়ে৷

অ্যাকশন-পাল্টা অ্যাকশন

Ägypten Blogger Prozess gegen Abdel Kareem Nabil

আন্দোলনের সময় আটক এক ব্লগার

তবে শুরু থেকেই সরকার চেয়েছে বিক্ষোভকারীদের থামাতে৷ ইন্টারনেটের মাধ্যেমে বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বুঝতে পেরে ইন্টারনেট যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় মুবারকের সরকার৷ কিন্তু ততোদিনে সারা বিশ্বের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে মিশরের বিক্ষোভ৷ তাই খবর পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠে বিশ্ববাসী৷

ঠিক এই অবস্থায় আগমন ঘটে যুদ্ধের বিরোধী পক্ষ মানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের৷ সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র নিয়ে আসে গুগল আর ট্যুইটার৷ ব্যাপারটা এরকম, কেউ একজন একটা নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করে ভয়েসমেল রাখতে পারবে৷ আর সঙ্গে সঙ্গে সেটা টেক্সটে পরিণত হয়ে ট্যুইট হয়ে যাবে৷ ফলে বিশ্বের যে কেউ ঐ নাম্বারে ফোন করলে ভয়েসমেলটা শুনতে পারবে৷ অর্থাৎ এজন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন হবে না৷ শুধু ল্যান্ডফোন হলেই চলবে, যেটার নেটওয়ার্ক সবসময় চালু ছিল৷ বন্ধ ছিল শুধু মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক৷

আবার ল্যান্ডফোন চালু থাকার এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার৷ তারা আগ্রহী মিশরীয়দের বিনামূল্যে ‘এক্সেস কোড' আর টেলিফোন নাম্বার দিয়েছে৷ যেটা দিয়ে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া গিয়েছিল৷

এসব ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, মুবারক সরকারের ছোঁড়া অস্ত্র ভোতা করতে মাঠে নেমেছিলেন প্রযুক্তিবিদরা৷ আর তাঁরা জয়ী হয়েছেন বলেই মিশরে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে৷

বিখ্যাত ‘টাইম' ম্যাগাজিনের সাংবাদিক বার্টন গেলম্যান মুবারকের সঙ্গে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের এই যুদ্ধের নাম দিয়েছেন ‘প্রথম বিশ্ব ওয়েব যুদ্ধ'৷

তবে আশঙ্কা...

মিশরের ঘটনা একটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে৷ সেটি হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের সরকার এখন থেকে ইন্টারনেটে তাদের নজরদারি বাড়িয়ে দেবে৷ আগে যেমন মনে করা হতো, ইন্টারনেট হচ্ছে স্বাধীন মত প্রকাশের জায়গা৷ কিন্তু এখন দেখা যাবে, কেউ সরকার-বিরোধী মন্তব্য করলে সেটা সহজেই সরকারের নজরে চলে আসবে৷ ফলে স্বাধীনভাবে লেখার বিষয়টি আর থাকবে না৷ ইতোমধ্যে মিশরে বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে গোয়েন্দারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নজরদারি শুরু করেছিলেন৷ সেখান থেকে পরিচয় পেয়ে তারা বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে৷

ইন্টারনেট নিয়ে লেখালেখি করেন এমন একজন, এভগেনি মরোজোভ৷ তিনি বলেন, সন্দেহ নেই, এখন থেকে অনলাইনে আরও বেশি নজর রাখা শুরু করবে বিভিন্ন দেশের সরকার৷ এছাড়া বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেটের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোরও চেষ্টা থাকবে তাদের৷ আর এই বিষয়টির দিকে নজর দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট আল গোর৷ তিনি বলেন, গণতন্ত্র চর্চার জন্য বেশ সহায়ক একটি ব্যবস্থা হলো ইন্টারনেট৷ তাই সরকার বা অন্য কেউ যেন এর উপর খবরদারি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: ফাহমিদা সুলতানা

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়