1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মিশরে বিবাহবিচ্ছেদের কাহিনী প্রচারের জন্য রেডিও

মহসিন সাবের’কে চার বছর পার করতে হয় বিবাহিত সম্পর্কের ইতি টানতে৷ বিচ্ছেদের পর, মিশরের রক্ষণশীল সমাজে নানা গালগল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন তিনি৷ আর এ হাঙ্গামাময় পরিবেশ থেকে পুত্রকে বাঁচাতে এখনও লড়াই করে চলেছেন সাবের৷

default

এবার বিবাহবিচ্ছেদের কাহিনী প্রচার করছে রেডিও

এই সব কিছুর পর সাবের সিদ্ধান্ত নেন তিনি আর বিয়েই করবেন না৷ আর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে তিনি ‘রেডিও ডিভোর্সিস' নামে একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক বেতারকেন্দ্র গড়ে তোলেন৷

৩০ বছর বয়সি মহসিন সাবের বলেন, মিশরের সমাজ বিবাহবিচ্ছেদের জন্য নারীদেরকেই শুধুমাত্র দায়ী করে৷ তারা মনে করে, সব ভুল নারীর, তারাই খারাপ, তারাই মূলত বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী৷

‘রেডিও ডিভোর্সিস' তার অনুষ্ঠানে বলে যে নারীরা খারাপ নন৷ যখন মানুষ রেডিও শুনবে তখন তারা বুঝতে পারবে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া মহিলারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে৷ তাছাড়া স্বামীর সঙ্গে যাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তারা যে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে এমন নয়৷

আরবী ভাষায় এই ইন্টারনেট রেডিও-র নাম ‘‘মোতালাকাত রেডিও''৷ মাত্র কয়েক মাস আগে এর শুরু৷ নানা নামের অনুষ্ঠান প্রচার করছে এই রেডিও৷ তার কোনটার নাম ‘আপনাকে ভুল বোঝা হয়েছে' বা ‘বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া এক পুরুষের দিনলিপি'৷ এছাড়া আরও একটি অনুষ্ঠান প্রচার করছে এই রেডিওটি আর তার নাম হচ্ছে ‘আমি বিচ্ছেদ চাই একথা বলার আগে'৷ এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেয়েদের বড্ড তাড়াতাড়ি বিচ্ছেদের দাবি তোলার ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে৷

ইন্টারনেট ভিত্তিক এই রেডিও প্রচারের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে এবং মিশরের গণমাধ্যমগুলোতে তার খবর ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে৷ সাবের জানান, রেডিওতে তাঁর সহযোগী মাত্র ২০ জন৷ কিন্তু শ্রোতার সংখ্যা অনেক৷ মরক্কো ও লেবাননেও তাদের শ্রোতাও রয়েছে৷ ‘মোতালাকাত রেডিও' র ফেসবুক সদস্য সংখ্যা ১,৭০০ এর বেশি৷

মিশরে দিনদিন বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ ফলে এই ইন্টারনেট রেডিওর অনুষ্ঠান অত্যন্ত সময় উপোযোগী হয়েছে৷ সরকারি এক তথ্যানুযায়ী, মিশরে প্রতি ছয় মিনিটে একটি দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে৷যদিও সামাজিক দিক তেকে বিবাহের মূল্যবোধের ওপর জোর দেয়া হয়৷ বিচ্ছেদকে দেখা হয় অবমাননাকর ব্যাপার হিসেবে৷

রেডিওর এই প্রকল্পে সাবের-এর সঙ্গে কাজ করেন তাঁর বন্ধু দোওয়া ইওয়েদা সমাজে নারীর উপর সামাজিক চাপের মাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতার দিকে নির্দেশ করে বলেন, আরব সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ প্রেম ঘটিত কারণে অথবা বাবা-মার চাপে আরবে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে হয়ে যায়৷ আর এই চাপই একসময় বিবাহবিচ্ছেদের রূপ নেয়৷

২০০০ সাল থেকে মিশরের নারীরা স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছেনা, শুধু এই কারণেই তালাক পেয়ে যেতে পারেন৷ আর কিছুই প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না৷ এই প্রথা ‘খুলু' নামে পরিচিত৷ তবে সেক্ষেত্রে সেই নারীর সব আর্থিক অধিকার রদ হয়ে যাবে৷ এবং বিয়ের সময় পাওয়া পণও তাকে ফেরত দিতে হয়৷ এই প্রক্রিয়া শেষ হতে ছয় মাস লেগে যেতে পারে৷ তবে নিজের আর্থিক অধিকার বজায় রাখতে চাইলে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং খুবই কষ্টকর হতে পারে মেয়েদের জন্য৷

আরব সমাজে পুরুষদের ক্ষেত্রে অবশ্য স্ত্রীকে তালাক দেয়ার প্রক্রিয়া খুব সহজ৷ সরকারি তথ্য অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের ৮০ শতাংশ মামলাই হয়ে থাকে পুরুষদের কারণে৷

প্রতিবেদক : আসফারা হক

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়