1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মিশরে গণমৃত্যুদণ্ডে বিশ্বনেতাদের ক্ষোভ

মিশরে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' হিসেবে চিহ্নিত মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাদিয়ে-সহ ৬৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র৷ সোমবার মিশরের একটি আদালত এই রায় দেয়৷

দক্ষিণাঞ্চলের মিনা প্রদেশের একটি আদালতে মাত্র ১০ মিনিটের শুনানি শেষে এই রায় দেন বিচারক৷ জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘‘একসঙ্গে এত মানুষকে প্রাণদণ্ড দেয়া আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী৷ তাই রায় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ হোয়াইট হাউজ বলেছে, গত মাসের মতো একইভাবে বিচার এবং বিচারের রায় দেয়া হলো, যা আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে এটা সংঘাতপূর্ণ৷''

এত মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন৷ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ঘটনার প্রভাব ঐ অঞ্চলের প্রতিটি দেশে পড়বে৷ বান কি-মুনের বরাত দিয়ে তাঁর মুখপাত্র স্টেফান দুয়ারিচ বলেন, ‘‘সুষ্ঠু মানদণ্ডে বিচার হয়নি৷ এ বিষয়ে খুব শিগগিরই মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমির সাথে বান কি-মুন আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন৷''

এদিকে, সোমবার মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমি বলেছেন, হোয়াইট হাউজ এই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করায় দু'দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে৷ ওয়াশিংটনে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘তারা একটি আধু্নিক মিশর গড়তে চান৷ আর সে কারণেই পুরো দেশ একটা সংস্কারের পথে এগিয়ে চলেছে৷'' গত বছর জুলাই মাসে মুরসি সরকারের পতনের পর মিশরের কোনো শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তার এটাই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর৷

Mohammed Beltagy Prozess Ägypten 17. Februar 2014

মোহাম্মদ বাদিয়ে-সহ ৬৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র

হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সোমবার নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের ৬৮৩ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয় মিশরের আদালত৷ এদের মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাদিয়েও রয়েছেন৷ মিনা আদালতে বিচারক সাঈদ ইউসেফ সাবরি রায় ঘোষণার সময় আগামী ২১শে জুন ঐ ৬৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন৷ এঁদের মধ্যে ৫০ জন কারাগারে আছেন৷ অন্যরা আত্মসমর্পণ করলেই কেবল পুনর্বিচারের জন্য আবেদন করতে পারবেন৷

এর আগে গত মাসে সমালোচনার মুখে একই অপরাধে একই আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫২৯ জনের মধ্যে ৪৯২ জনের সাজা কমিয়েছে৷ তাঁদের বেশির ভাগকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷ ২০১৩ সালের ১৪ই আগস্ট দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ মিনায় সহিংসতা, হত্যার উসকানি, হামলা, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডকে অভিযুক্ত করা হয়৷ ঐ সময় আন্দোলন দমনে ব্রাদারহুড কর্মীদের অবস্থানস্থলে অভিযান চালায় মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী৷ অভিযানে ব্রাদারহুডের কয়েকশ' সদস্য নিহত হন৷ আর হাজার হাজার ব্রাদারহুড কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের এ সব রায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতির কাছে পাঠানো হয়৷ মুফতির পরামর্শ নেওয়ার পর রায় অনুমোদন করা হয়৷ অবশ্য, আইনগত দিক দিয়ে তাঁর মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক কিছু নয়৷ মোহাম্মদ মুরসিও গত ৩রা জুলাই আটক হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন