1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মিলনের ছলে স্বজাতিকে হত্যা ও ভক্ষণ

ব্ল্যাক উইডো স্পাইডার – মাকড়সার অদ্ভুত একটা প্রজাতি৷ এই প্রজাতির স্ত্রী মাকড়সা মিলনের পর পুরুষ সঙ্গীটিকে হত্যা করে তাকে খেয়ে ফেলে৷ প্রকৃতিতে এমন ঘটনা বেশ বিরল, তবে মাকড়সাদের মধ্যে ব্ল্যাক উইডোর বেলায় এ প্রবণতা রয়েছে৷

সাধারণত পুরুষ মাকড়সা নয়, নারী মাকড়সাটিই দেহমিলনের পর পুরুষটিকে হত্যা করে খেয়ে ফেলে৷ এতে স্বাভাবিকভাবেই, নিজ প্রজাতির কোনো প্রাণী বা পতঙ্গকে খেয়ে ফেলায় সে প্রজাতির বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷

তবে সম্প্রতি একটি গবেষণা করে সকলকে চমকে দিয়েছেন চেক গবেষকরা৷ তাঁরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, পুরুষ মাকড়সাগুলোও স্ত্রীদের হত্যা করে, তবে কোনো যৌনউদ্দীপনা ছাড়াই৷

বেশ কয়েক বছর আগে গবেষণাটা শুরু হয়েছিল৷ চেক প্রজাতন্ত্রের মাসারিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক স্ট্যানো পেকারের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি করেন তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী লেনকা সেনটেনস্কা৷

Tschechien Spinnenforschung in Prag

অধ্যাপক স্ট্যানো পেকারের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি করেন তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী লেনকা


অস্ট্রিয়া এবং ইটালির মোরাভিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে মিকারিয়া সোশ্যিয়াবিলিস বৈজ্ঞানিক নামের কালো আর বাদামি রঙের একটি বিরল প্রজাতির ক্ষুদ্র মাকড়সার দেখা পেয়েছিলেন লেনকা৷

প্রায় একশ বছর আগে মিকারিয়া সোশ্যিয়াবিলিসদের প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির এক প্রাণীবিদ৷ কিন্তু তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া কখনো দেখার সুযোগ তাঁর হয়নি৷

তাই অধ্যাপক লেনকাকে জোর করেছিলেন ঐ অঞ্চলে গিয়ে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালাতে৷ লেনকা তাই করেছেন৷ বেশ কিছু পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন কিভাবে মিকারিয়া সোশ্যিয়াবিলিস প্রজাতির মাকড়সাগুলো মিলিত হয়, কিভাবে খাবার গ্রহণ করে ইত্যাদি৷ হঠাৎ একদিন লেনকা তাঁর শিক্ষককে বললেন, পুরুষ মাকড়সাগুলো স্ত্রীদের খাচ্ছে৷

স্ত্রীরাই পুরুষদের ভক্ষণ করবে

অধ্যাপক বললেন, এটা একেবারেই অসম্ভব৷ মাকড়সার ক্ষেত্রে এটা হওয়ার কথা নয়, কেননা স্ত্রী মাকড়সাগুলোই পুরুষদের ভক্ষণ করবে এটাই নিয়ম৷ তাই বারবার তিনি তাঁর ছাত্রকে পর্যবেক্ষণ করতে বলেন এবং তারপরেও কিন্তু সব পরীক্ষায় একই ফল দেখা যায়৷ পরে এই গবেষণাটি বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল বিহেভিয়েরাল ইকোলজি অ্যান্ড সোশ্যিওবায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছিল৷

Czech Spider Sex In Professor Stano Pekar and Lenka Sentenska's laboratory, Masaryk University in Brno Ort / Datum: Brno, Czech Republic, June 2013 Copyright: Rob Cameron Geliefert von: Rob Cameron, Prag.

গবেষণাগারে



মিলন, মৃত্যু আর স্বজাতি ভক্ষণ

লেনকা সেনটেনস্কা জানালেন, সেক্সচুয়াল ক্যানিবালিজম পরিস্থিতিতে সাধারণত স্ত্রী মাকড়সা পুরুষগুলোকে হত্যা করে তাদের খেয়ে ফেলে৷ বলা হয়ে থাকে, যৌনদ্বন্দ্বের কারণে এটা হয়, কেননা পুরুষ মাকড়সা অনেক শুক্রাণু উৎপাদন করে, সে তুলনায় স্ত্রী মাকড়সার ডিম্বাণুর পরিমাণ নগন্য৷ তাই যৌনমিলনের ক্ষেত্রে স্ত্রী মাকড়সাদের ক্ষমতা কিছুটা কম হওয়ার কারণে দ্বন্দ্ব শুরু হয়৷ স্ত্রী মাকড়সারা তখন আরো বেশি করে যৌনমিলনের চেষ্টা করে৷

এক্ষেত্রে ব্ল্যাক উইডোরা আরো ধূর্ত৷ তারা কেবল পুরুষদের হত্যা করে খায়ই না, বরং মিলনের সময়ই তাদের হত্যা করে, এবং তারপর খায়৷ পুরুষগুলো তখন এমন আচরণ করে যাতে স্ত্রীরা তাদের আক্রমণ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মিলিত হয়ে বেশি বেশি শুক্রাণু উৎপাদন করা যায় এবং এর ফলে বেশি ডিম্বাণুও নিষিক্ত হতে পারে৷

কোন ক্ষেত্রে ভিন্নতা?

কিন্তু বিজ্ঞানীদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, কী কারণে মিকারিয়া সোশ্যিয়াবিলিস প্রজাতির নারী মাকড়সাদের সঙ্গে মিলিত না হয়ে পুরুষরা তাদের হত্যা করে এবং খেয়ে ফেলে৷ গবেষণায় দেখা যায়, তাদের এ মিলন সাধারণত গ্রীষ্মকালে হয়, যখন মাঠে তরুণ পুরুষ এবং বৃদ্ধা স্ত্রী মাকড়সাদের আনাগোনা বেড়ে যায়৷ এ সময় অন্তত ৭০ ভাগ মাকড়সার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হত্যা এবং স্বজাতি ভক্ষণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়৷ দেখা যায়, হত্যার জন্য স্ত্রী মাকড়সাটিকেই বেছে নিচ্ছে তরুণটি৷ পুরুষ মাকড়সাদের ক্ষেত্রে যৌন মিলনের সময় ভক্ষণ আসলেই বিরল৷ তবে পুরুষদের স্বজাতি ভক্ষণের বিষয়টি কেবল মিকারিয়া সোশ্যিয়াবিলিস এবং অন্য আর একটি প্রজাতির মধ্যে দেখা যায়৷

Czech Spider Sex Professor Stano Pekar (left), head of the Arachnology section, Department of Botany and Zoology, and Lenka Sentenska, PhD student (right), Masaryk University in Brno Ort / Datum: Brno, Czech Republic, June 2013 Copyright: Rob Cameron Geliefert von: Rob Cameron, Prag.

অধ্যাপক স্ট্যানো পেকার, শিক্ষার্থী লেনকা ও তাদের দুই বন্ধু



তবে অধ্যাপক পেকার জানান, এ বিষয়ে আরো অনেক প্রশ্ন সবার মনে দেখা দিয়েছে এবং সেগুলোর জবাব জানতে আরো গবেষণা প্রয়োজন৷ কারণ, মাকড়সার ৪৩ হাজার প্রজাতির মধ্যে মাত্র ৭০০ প্রজাতির মিলিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত গবেষণা করার সুযোগ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন