1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মিরাট ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ

ভারতে ২০ বছরের একটি তরুণীকে অপহরণ, মাদ্রাসায় আটকে রেখে গণধর্ষণ এবং পরে জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ করেছে তরুণীর পরিবার৷ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দিতে চেয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি৷ দাবি জানিয়েছে সিবিআই-এর তদন্তের৷

সমাজবাদী পার্টি শাসিত উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলায় গত ২৩শে জুলাই ২০ বছরের এক তরুণীকে অপহরণ করে প্রথমে হাপুর মাদ্রাসায় আটকে গণধর্ষণ করা হয়৷ তারপর ঐ তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয় মুজফ্ফরনগরের অন্য একটি মাদ্রাসায়৷ সেখানেও মেয়েটিকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয় এবং পরে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয় তরুণীটিকে৷

মেয়েটি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে – এই মর্মে এক হলফনামায় জোর করে সই করিয়ে নেয়া হয়, এমনটাই অভিযোগ৷ গত ৩রা আগস্ট মেয়েটি অপহরণকারীদের খপ্পর থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে তাঁর পরিবারকে সব কথা জানায়৷ এও জানায় যে, ঐ মাদ্রাসায় আরো হিন্দু মেয়েদের আটকে রাখা হয়েছে৷ তরুণীটির কথা অনুযায়ী, ধর্মান্তরিত করার পর তাঁদের নাকি দুবাই নিয়ে গিয়ে শেখদের সঙ্গে বিয়ে দেবার চক্রান্ত হচ্ছিল৷

বলাবাহুল্য, এ ঘটনার পর তরুণীর পরিবার পুলিশের কাছে সেইমতো অভিযোগ দায়ের করে৷ আর দাবি জানায় ঘটনাটির তদন্ত করা হোক কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই-এর আওতায়৷ ধর্ষিতা মহিলার পরিবার মনে করে, একমাত্র তবেই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে৷ তাঁরা এও জানান, তাঁদের মেয়ে ঐ মাদ্রাসায় কিছুদিন ইংরেজি এবং হিন্দি শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন, যা পরে তিনি ছেড়ে দেয়৷

উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীল এলাকা বলে দ্রুত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেয় সেখানে৷ দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে-অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে৷ উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকলে পাঠানো হয় দাঙ্গা দমন পুলিশ বাহিনী৷ উল্লেখ্য, কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত আড়াই মাসে ঐ এলাকায় ছোট-বড় ৬০০টি সাম্প্রদায়িক অসহনশীলতার ঘটনা ঘটে৷ মজার ব্যাপার হলো, এর বেশিরভাগ অবাঞ্ছনীয় ঘটনার সূত্রপাতই মন্দির ও মসজিদে ‘লাউডস্পিকার' বাজানোকে ঘিরে৷ সন্ধ্যায় মসজিদে আজানের সময় লাউডস্পিকার বাজানো হয় আর ঠিক তখনই হিন্দু মন্দিরে সন্ধ্যারতির সময়৷ কাজেই সেখানেও বাজে লাউডস্পিকার৷ মুসলিমদের অভিযোগ, মন্দিরে এত জোরে লাউডস্পিকার বাজে যে নামাজ পড়ায় বিঘ্ন ঘটে৷ একই অভিযোগ হিন্দুদেরও৷ তাই এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই আছে, কখনো কখনো যা সহিংস চেহারা নেয়৷ এর জন্য অবশ্য রাজ্য সরকারকেই সবাই দায়ী করছে৷

Neu Delhi Proteste Demonstration Vergewaltigung Indien

মেয়েটিকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়

এহেন ঘটনায় প্রথমদিকে পুলিশ এতটা গা করেনি৷ পরে অবশ্য পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে৷ এঁদের একজন গ্রাম প্রধান নবাব খান, অন্যজন মাদ্রাসার মৌলবি হাফিজ সানাউল্লা, তাঁর স্ত্রী সামার জাঁহা এবং মেয়ে নিশাত৷ তবে পুলিশ ঐ মাদ্রাসায় তল্লাসি চালিয়ে অন্য কোনো হিন্দু মেয়ের খোঁজ পায়নি৷ মিরাট মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পরীক্ষায় তরুণীকে ধর্ষণ করার চিহ্ন ধরা পড়েছে৷ শুধু তাই নয়, তরুণীর তলপেটে অপারেশনের দাগ দেখে আলট্রাসাউন্ড এবং এক্সরে করার পর দেখা যায় যে, তরুণীর একটি ফেলোপিয়ান টিউব বাদ দেয়া হয়েছে৷ ফলে তরুণী কোনোদিনই সন্তান ধারণে সক্ষম হবেন না৷

পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে রাজ্যের বিজেপি আসরে নেমে পড়ে৷ মিরাটের বিজেপি সাংসদ এই ধর্ষণকাণ্ডের ইস্যুটি সংসদে তুলে পুলিশের নিস্ক্রীয়তার অভিযোগ তোলেন৷ ধর্ষিতা তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাঁকে মিরাট আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে আদালতের বাইরে মৌলবাদী হিন্দু শিবসেনা এবং বজরংগ দলের সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখায়৷ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা কপিল ত্যাগী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, হিন্দু মেয়ে বোনেদের সম্মান রক্ষায় তাঁরা যে-কোনো পর্যায়ে যেতে রাজি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়