1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কলকাতা

মিছিল বন্ধ কলেজ স্ট্রিটে?‌

যেহেতু পড়াশোনার জায়গা, কলেজ স্ট্রিট এলাকায় মিটিং-মিছিল বন্ধ করার এক প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কলকাতার কলেজ স্ট্রিট যেমন শহরের একমাত্র বইপাড়া, তেমনি একাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে এখানে৷ ফলে কলকাতার বহু ছাত্র আন্দোলনের আঁতুড়ঘরও এই কলেজ স্ট্রিট চত্বর৷ যদি ঐতিহ্যের কথা বলতে হয়, তা হলে সেই বিক্ষোভ-আন্দোলনও এখানকার ঐতিহ্য৷ কলেজ স্ট্রিটের কেন্দ্রে আছে এক বড় জলাশয়, যার নাম কলেজ স্কোয়্যার৷ এখানে যেমন লিটল ম্যাগাজিন মেলা হয়, দুর্গাপুজো হয়, তেমনি বিক্ষোভ জমায়েতও হয়৷ কিন্তু সেই প্রতিবাদী সংস্কৃতির কি এবার ইতি হবে?‌

এক প্রশাসনিক বৈঠকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক-ছাত্র সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান যে, বছরভর কলেজ স্ট্রিট এলাকায় মিটিং-মিছিল এবং সেই কারণে হই-হল্লা আর হাঙ্গামার জেরে পড়াশোনার খুব অসুবিধে হয়৷ এটা বন্ধ হওয়া দরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও সঙ্গে সঙ্গে বলেন, তিনিও অনেক দিন ধরেই কথাটা ভাবছিলেন৷ কলেজ স্ট্রিটে বিশ্ববিদ্যালয় আছে, মেডিকেল কলেজ আছে, একাধিক স্কুল ও কলেজ আছে— এখানে আন্দোলন, অবরোধ, মিটিং, মিছিল হওয়াটা আদৌ বাঞ্ছনীয় নয়৷ মুখ্যমন্ত্রী ওই ছাত্রটিকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে৷ তারপর তিনি দেখবেন, কলেজ স্ট্রিটে মিটিং মিছিল নিষিদ্ধ করতে যদি কোনও আইন করা যায়৷

অডিও শুনুন 02:11

‘কলেজ স্ট্রিট বরাবরই ছাত্রদের এই ধরণের প্রতিবাদ, বিক্ষোভের জায়গা’

এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই সহমত নয় বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক, যারা চিরকালই কলেজ স্ট্রিট এলাকাকেই তাদের জমায়েতের জায়গা হিসেবে দেখে এসেছে৷ রাজ্যের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি ‘‌এপিডিআর'‌-এর মধ্যেই কর্মসূচি নিয়েছে কলেজ স্ট্রিট এলাকাতেই প্রতিবাদ মিছিল, সমাবেশ করার৷ নকশালপন্থী সংগঠন সিপিআইএমএল–লিবারেশন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে৷ এছাড়া বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও প্রতিবাদ হচ্ছে৷

বিশিষ্ট কবি এবং প্রাবন্ধিক গৌতম ঘোষ দস্তিদার যেমন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১৯৭৭-৭৮ সাল নাগাদ ছাত্র পরিষদ আর এসএফআই-এর তুমুল বিরোধের দিনেও তাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ হলে নিয়মিত ক্লাস করেছেন৷ পড়াশোনায় কোনও অসুবিধে তো হয়নি৷ ডয়চে ভেলেকেও গৌতম সেই কথাই জানালেন, যে কলেজ স্ট্রিট বরাবরই ছাত্রদের এই ধরণের প্রতিবাদ, বিক্ষোভের জায়গা৷

অডিও শুনুন 01:03

‘সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, সেটাই হতো গণতান্ত্রিক এবং গ্রহণযোগ্য’

একদিকে যেমন মিছিল, মিটিং হয়েছে, অন্যদিকে ক্লাসও হয়েছে৷ অসুবিধে হয়নি৷ তবে গৌতম এমনটাও মনে করছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সম্ভবত কোথাও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে৷ কলেজ স্ট্রিট মানে শুধু কলেজ স্কোয়্যার, বা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের জায়গাটা নয়৷ চার পাশের বেশ কিছু রাস্তা আছে, যা এই এলাকার অংশ৷ এমন হতেই পারে, যে মুখ্যমন্ত্রী কেবল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের এলাকার কথাই বলতে চেয়েছেন৷

দীর্ঘদিন ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, এই কলেজ স্ট্রিট এলাকায় বহু মিটিং, মিছিলে অংশ নেওয়া, লেখক-সাংবাদিক দেবাশিস আইচ যদিও মনে করছেন, যেভাবে একজন গবেষক-ছাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক৷ এটা মেনে নেওয়া যায় না৷ যদিও পঠন-পাঠনের জায়গায় হই হল্লা, স্লোগানবাজি যে কাম্য নয়, নীতিগতভাবে তার সঙ্গে একমত দেবাশিস৷ তাঁর প্রধান আপত্তি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে, যা নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে৷ তাই তিনি বলছেন, যদি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, সেটাই হতো গণতান্ত্রিক এবং গ্রহণযোগ্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়