1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

মিউনিখের অক্টোবারফেস্ট গেছে এশিয়ায়

জার্মান কথাটা হলো ‘অক্টোবারফেস্ট', অর্থাৎ অক্টোবর মাসের ফেস্টিভাল কিংবা উৎসব – যার প্রধান পানীয় বিয়ার৷ সেই অক্টোবারফেস্টের ছোঁয়াচ লেগেছে এশিয়ায়, কারণ এশিয়ার মানুষ বিয়ার ফেস্টের মজা আবিষ্কার করেছেন৷

মল্ট এবং হপ্স থেকে যে হাল্কা সুরাজাতীয় – তেতো স্বাদের – পানীয়টিকে জার্মানরা সুরা না বলে ‘খাদ্যদ্রব্য' বলেন, যে পানীয়টিকে বাদ দিয়ে অক্টোবারফেস্ট কেন, জার্মানির কথাই কল্পনা করা যায় না, সেই বিয়ারের কাহিনি৷

চটুল সংগীত আর বিয়ার সহযোগে বন্ধুবান্ধব – প্রসঙ্গান্তরে বান্ধবীদের নিয়ে আমোদ করাটাই যদি অক্টোবারফেস্টের সংজ্ঞা হয়, তবে সে'ধরনের ‘ফেস্ট' ফিলিপাইন্সের রাজধানী ম্যানিলাতেও পাবেন৷ এখন প্রশ্ন হলো: সুদূর জার্মানির অক্টোবারফেস্টের ‘স্পিরিট' বা প্রেরণার সঙ্গে সাধারণ ফিলিপিনোরা কতটা পরিচিত?

ফিলিপাইন্সের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম ব্রুয়ারি হলো সান মিগুয়েল৷ সেখানকার মার্কেটিং ম্যানেজার ভিঙ্কি আবালোস বলেছেন, ‘‘অক্টোবারফেস্ট হলো বন্ধুত্ব উদযাপন করার একটা বাস্তবিক সুযোগ৷ এর মতো আর কিছু নেই৷'' এছাড়া ‘‘বিয়ার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের মধ্যে ‘বন্ডিং'-এর (সম্পর্ক ঘনীভূত করার) পানীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে,'' বলে ভিঙ্কি মনে করেন৷

বিয়ার একটি পানীয়

এশীয়রা বিয়ার পান করতে শিখেছেন ও শিখছেন৷ সারা বছর ধরেই এই মহাদেশে নানা বিয়ার ফেস্ট চলে৷ কিরিন বিয়ার ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিশ্বের বিয়ার সরবরাহের মোট ৩৪ শতাংশ উৎপাদন করা হয় এশিয়া মহাদেশে৷ অপরদিকে হাইনেকেন জানাচ্ছে যে, এশীয়রা গতবছর মাথা পিছু ২৯ লিটার বিয়ার পান করেছেন৷

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল আর ইউরোপ জুড়লে বিশ্বব্যাপী বিয়ারপানের গড় দাঁড়ায় মাথা পিছু ৪৮ লিটার – কিন্তু আপাতত ইউরোপের মানুষরা গড়ে মাথা পিছু ৫৯ লিটার বিয়ার পান করে থাকেন, বলছে হাইনেকেন কোম্পানির রিপোর্ট৷ কাজেই এশিয়ার ইউরোপকে ধরে ফেলতে এখনো অনেক বাকি৷ অপরদিকে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী বিয়ার পানের পরিমাণ যতটা বাড়বে, তার ৭০ ভাগই আসবে এশিয়া থেকে – এই হলো পণ্ডিতদের ভবিষ্যদ্বাণী৷

এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ

এশিয়ায় বিয়ার পানে যে সব দেশ এগিয়ে, তাদের মধ্যে প্রথমেই জাপানের নাম করতে হয়৷ জাপানে বিয়ার ফেস্ট চলে সারা বছর ধরে; শুরু হয় বসন্তে, অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকেই৷ টোকিও-র বড় বড় পার্কে জার্মানির অনুকরণে বিয়ার ফেস্টের আয়োজন করা হয়৷ এশীয় অক্টোবারফেস্টের কথা ভাবতে গেলে, জাপানের পরেই আসবে চীন৷ ২০১৩ সালে চীনে বিয়ার উৎপাদনের পরিমাণ ছিল চার হাজার ছ'শো কোটি লিটার, যা কিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিগুণ এবং জার্মানির বিয়ার উৎপাদনের প্রায় পাঁচগুণ৷

বেইজিং অথবা শাংহাই-এর মতো বড় শহরগুলিতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নানা বিয়ার ফেস্টের আয়োজন করা হয়, যদিও চীনের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নাম করা ‘অক্টোবারফেস্ট' আয়োজিত হয় পুবের চিংদাও বন্দরে৷ চীনের সবচেয়ে পুরনো বিয়ার ব্রুয়ারি এখানেই, যার প্রতিষ্ঠা ১৯০৩ সালে৷ চিংদাও বিয়ার ফেস্টিভাল সংঘটিত হয় আগস্ট মাসে, চলে ১৬ দিন ধরে; গতবছর ৪০ লাখ অতিথি এসে এখানে মোট এগারো'শো টন বিয়ার সেবন করেছিলেন৷

এশীয়রা বিয়ারের স্বাদ পান ঔপনিবেশিকতার আমলে৷ কাজেই পশ্চিমি বিয়ার কোম্পানিগুলি এশিয়ায় ভালোই ব্যবসা করে থাকে, যেমন মালয়েশিয়ায় কার্লসবার্গ কিংবা গিনেস৷ তারাও নিজের নিজের বিয়ারের বিক্রি বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের বিয়ার ফেস্টের আয়োজন করে থাকে৷ তবে জার্মানির অক্টোবারফেস্টের একটা নিজস্ব টান ও আকর্ষণ আছে, যে টানে ভারতের ব্যাঙ্গালোর শহরে প্রতিবছর ১৭ থেকে ১৯শে অক্টোবর ‘‘ব্যাঙ্গালোর অক্টোবার ফেস্ট'' আয়োজিত হয়ে থাকে৷ এই ফেস্টে গতবছর এসেছিলেন ৭৫ হাজার অতিথি৷ এভাবেই অক্টোবর মাস এলে ভিয়েতনামের হ্যানয় ও হো চি মিন সিটি-তে পাওয়া যাবো ‘‘অক্টোবারফেস্ট ভিয়েতনাম'' – এবং সিঙ্গাপুরে ‘‘অক্টোবরফেস্ট এশিয়া'', যেখানে নাকি খাঁটি বাভেরীয় খানা-পিনা-নাচনা-গাওনা, সব কিছুই পাওয়া যাবে, মায় বাভেরিয়ান বিয়ার সুদ্ধু৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন