1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মাসদার চলবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে

পরিবেশ বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই৷ দিন দিন বেড়েও চলেছে এর ব্যবহার৷ তবে এখনো এমন কোনো শহর নেই যেখানে শুধুই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে৷ অবশ্য এবার সেই শহর তৈরি হচ্ছে৷

default

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চলবে সবকিছু

আবুধাবি৷ মধ্যপ্রাচ্যের এই শহরটি বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক শহর হিসেবে পরিচিত৷ এই শহরের কাছেই গড়ে তোলা হচ্ছে ছোট্ট আরেকটি শহর যার নাম ‘মাসদার'৷ আরবি এই শব্দের অর্থ উৎস৷ অনেকের জন্যই ভবিষ্যতে প্রেরণার উৎস হতে যাচ্ছে এই শহর৷ কারণ এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম শহর যার জ্বালানি সরবরাহ আসবে শুধুমাত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে৷ ছয় বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট এই শহরটির বাসিন্দা হবেন প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ৷

ইতিমধ্যে শহর গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়ে গেছে৷ প্রথম পর্যায়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজ শেষ হয়েছে৷ যার নাম ‘মাসদার ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি'৷ এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই শহরটি গড়ে উঠবে৷ যেনতেন কোনো প্রতিষ্ঠান নয় এটি৷ এর মূল লক্ষ্যই হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া৷

মাসদার ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম অবশ্য শুরু হয়েছে গত বছর৷ প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বের হবেন আগামী বছর৷ এসব পুরনো খবর৷ নতুন খবর হলো, সম্প্রতি প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করেছেন তাঁদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে৷ অর্থাৎ মাসদার ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ভবনে৷ যেটা পুরোপুরিভাবেই চলছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্বারা৷ এক হিসেবে এই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন৷ কারণ বিশ্বের প্রথম নবায়নযোগ্য জ্বালানির শহরের প্রথম বাসিন্দা যে তাঁরাই!

Baustellenschild Masdar City

গড়ে তোলা হচ্ছে মাসদার

মাসদার ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭০৷ এর মধ্যে একশো'রও বেশি শিক্ষার্থী বাস করছেন মাসদার শহরে তাঁদের জন্য গড়ে তোলা হোস্টেলে৷ এই হোস্টেলের ছাদে জ্বালানি সরবরাহের জন্য বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল৷ আর ক্লাসরুম ও গবেষণাগারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন জ্বালানি ব্যবহার কম হয়৷ এছাড়া ইন্সটিটিউটের ‘নলেজ সেন্টার' যেখানে লাইব্রেরি অবস্থিত সেই ভবনের ছাদেও রয়েছে সোলার প্যানেল৷ এই ভবনের সামনের অংশ দেখলে মনে হবে পুরোটাই তৈরি হয়েছে অনেকগুলো জানালা দিয়ে৷ এই জানালাগুলো সূর্যের আলো থেকে তাপ সরিয়ে নিয়ে শুধু রশ্মিটা ভেতরে পাঠায়৷ ফলে ভবনের ভেতরটা থাকে শীতল এবং আলোকিত৷

কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো ক্যাম্পাসকে বাসযোগ্য রাখার জন্য ক্যাম্পাসের মাঝখানে বসানো হয়েছে একটি ‘উইন্ড টাওয়ার'৷ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই টাওয়ার সব জায়গাতেই দেখা যায়৷ এর কাজ হলো ভবনের মধ্যে বাতাস চলাচলের পথ তৈরি করা৷ এমনই একটি টাওয়ার বসানো হয়েছে ক্যাম্পাসে৷ যার কাজ বাতাস ধরে রাস্তায় ছড়িয়ে দেয়া৷ ফলে শীতল থাকে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা৷

‘আবুধাবি ফিউচার এনার্জি কোম্পানি' তৈরি করছে শহরটি৷ যার বেশিরভাগ অর্থই আসছে আবুধাবি সরকারের পক্ষ থেকে৷ প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার দুইশো কোটি ডলার৷ ২০০৬ সালে শুরু হয়েছে শহর তৈরির কাজ৷ শেষ হওয়ার কথা ২০১৪ সালে৷ ব্রিটিশ কোম্পানি ‘ফস্টার এন্ড পার্টনারস' পুরো শহরের নকশা করেছে৷ জার্মানির সংসদ ভবন সহ বিশ্বের আরও সব বিখ্যাত ভবনের নকশা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই কোম্পানির৷

নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারে জার্মানির একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে৷ মাসদার নামের এই শহরটি গড়ে তুলতেও কাজ করছে কয়েকটি জার্মান কোম্পানি৷ এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিষয়ক কোম্পানি ইডটঅন, কেমিক্যাল কোম্পানি বিএএসএফ এবং ওষুধ খাতে বিখ্যাত, তবে নির্মাণক্ষেত্রেও সমান ভূমিকা রাখা কোম্পানি বায়ার৷ এছাড়া দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে মাসদার শহর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়