1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় অন্য রকম শিশু আদালত

শিক্ষক ও সমাজসেবক সেজে এক ব্রিটিশ নাগরিক কুয়ালালামপুরে বসে নিপীড়ন করেন বিপুল সংখ্যক শিশুকে৷ সেই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর গোটা মালয়েশিয়া জুড়ে পড়ে যায় হইচই৷

এছাড়া সার্বিকভাবেও সমাজে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়ন বাড়ছিল৷ এই অবস্থায় শিশুদের প্রতি এ ধরনের অপরাধের বিচারে মালয় সরকার এমন এক আদালত চালু করেছে, যেটা কেবল দেশটিতেই প্রথম নয়৷ বরং পুরো দক্ষিণ-পূর্বই এশিয়াতেই প্রথম৷ 

শিশুদের যৌন হয়রানির বিচার করতে অনন্য এই ফৌজদারি আদালতে কেবল দ্রুত শুনানির ব্যবস্থাই থাকবে না, বরং ঘটনার হোতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অনুকূল এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে৷

সোমবার প্রথম মামলা শুনানির মাধ্যমে এই আদালতের মূল কার্যক্রম শুরু হয়৷ তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আরো আগে, গত ২২ জুন৷ তবে এখনই দেশব্যাপী এই আদালত চালু হচ্ছে না৷ আপাতত পাইলটভিত্তিতে একটি হয়েছে৷ শীঘ্রই সারা দেশেও করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের৷

এই ধরনের ঘটনার শিকার শিশুরা এক ধরণের ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়৷ বিচার চলাকালে ঘটনা মনে করতে গেলেও তাদের ট্রমা বেড়ে যেতে পারে৷ তাই দরকার বিশেষ ব্যবস্থা আর সতর্ক পদক্ষেপের৷ তাতে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার আতঙ্ক থেকে তাঁরা বের হয়ে যেতে পারে৷

এই সব বিষয়কে মাথায় রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে এই আদালত৷ যা একদিকে দ্রুততম সময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ভিক্টিমদেরকে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে৷

এ বছর দেশটির সংসদ শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ আইন পাস করেছে৷ এই আইনের অধীনেই এই আদালত গঠন করা হয়েছে৷ এখানে শিশু পর্নোগ্রাফি, শিশুদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক স্থাপন করা, যা নিপীড়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে – এটাও এই আইনের অধীনে বিচার করা যাবে৷

সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ার শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলছে৷ অনেকে এক্ষেত্রে হয়রানির পূর্বে শিশুদেরকে প্রলব্ধ করতে মোবাইলের চ্যাট অপশনকেও ব্যবহার করে৷ এ কারণে নতুন আইন করার দরকার হয়ে পড়ে৷

গত বছর ব্রিটেনের সবচেয়ে ভয়ংকর শিশু নিপীড়নকারী রিচার্ড হাকল ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর মালয়েশিয়ার মানুষ আঁতকে উঠে৷ কুয়ালালামপুরে বসে তিনি ডজন ডজন দরিদ্র শিশুদের নিপীড়ন করেছিলেন৷

ইংরেজি শিক্ষক এবং সমাজ সেবকের আড়ালে অভিভাবকদের বিশ্বাস অর্জন করে তিনি এই কাজ করতেন৷ বর্তমানে তিনি ২২ বছরে কারাজীবন পার করছেন৷

নতুন এই আদালতেক স্বাগত জানিয়ে শিশু অধিকার গোষ্ঠীগুলো বিচারক, সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর, আসামীপক্ষের আইনজীবী, কল্যাণকাজে নিয়োজিতদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত হতে হবে৷ যাতে তাঁরা যথাযথভাবে সাক্ষী ও ঘটনার শিকার শিশুদের বক্তব্য নিতে পারেন৷

ভয়েস অফ চিলড্রেন নামে অ্যাডভোকেসি গ্রুপের চেয়ারপার্সন ও আইনজীবী শর্মিলা শেকারান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালতের বিচারক এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ হয়ে গেছে৷ তবে এখনও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ হয়নি৷

তাঁর কথায়, ‘‘শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন একটি আচরণবিধির কাঠামো করতে আমরা বার কাউন্সিলের ফৌজদারি আইন বিষয়ক কমিটিকে বলেছি৷ আমি যতদূর জানি, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ হয়েছে৷ আরো নিবিড় প্রশিক্ষণ দরকার৷’’

এছাড়া পুলিশ এবং ওয়েলফেয়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শেকারান৷ তিনি বলেন, শিশু যথাযথভাবে সহযোগিতা পাবে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে৷ যোগ্য আইনজীবীদের নিয়ে আসতে হবে৷ শিশু সাক্ষীদেরও যথাযথ কাউন্সেলিং এবং সমর্থন দরকার হয়৷

বর্তমানে দেশটিতে পুলিশ, সমাজকর্মী, হাসপাতালে ঘটনার শিকার শিশুদেরকে বারংবার সাক্ষাৎকারের মুখে পড়তে হয়৷ কোনো কোনো মামলা শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যায়৷ এই ধরনের মামলাগুলো এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী নাজিব নিজেই আশা প্রকাশ করেছেন৷

শেকারান বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলো অপসারণে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে৷ এতে শিশুরা এই সব অপরাধের বিষয়ে আরো সরব হবে, কেউ অপরাধ করলে বিচার চাইতে আসবে৷

শিশুদের প্রতি এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অধিকাংশ অপরাধীই পরিবারের সদস্য – এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেকারান বলেন, ‘‘আমাদেরকে এটা মনে রাখতে হবে৷ যেমন আমি এখন একটা ঘটনা নিয়ে কাজ করছি৷ যেখানে শিশুটি প্রথম তাঁর মাকে এই ঘটনা জানায়৷ কিন্তু তাঁর মা সেটা বিশ্বাস করেনি৷ শিশুদেরকে শেখাতে হবে ‘নিরাপদ এবং অনিরাপদ স্পর্শ’ কাকে বলে? কোথায়, কার কাছে কিভাবে – এ সব বিষয়ে অভিযোগ করতে হয়?''

ব্রেন্ডা হাস/এসএন

নির্বাচিত প্রতিবেদন