1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মাল্টায় পাখিশিকার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বুকে যথেচ্ছ পাখিশিকার? সেও কি সম্ভব? সম্ভব বৈকি, যদি ব্রাসেলসের অনুমতি থাকে৷ অনুমতির সঙ্গে থাকে শর্ত: বছরের কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ পর্যন্ত পাখিশিকার করা চলবে৷

আবার পাখি শিকারের দিন এসেছে! লুকাস মিকালেফ যখন প্রথমবার বন্দুক হাতে ধরেন, তখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর৷ আজ তাঁর বয়স ছাব্বিশ৷ কিন্তু প্রতি বছর বসন্তে পাখিশিকার তাঁর কাছে আজও একটা বিশেষ অনুভূতি৷ কেননা এটা হল ঘুঘু আর তিতিরপাখি শিকারের মরসুম৷

লুকাস-কে অতি দ্রুত তাক করে গুলি চালাতে হয়৷ লক্ষ্য হলো, যে সব মরসুমি পাখি আফ্রিকা থেকে মাল্টা হয়ে ইউরোপের দিকে যাচ্ছে – স্থানীয় পাখিরা নয়৷ লুকাস বলেন: ‘‘পঁচিশ থেকে ত্রিশ মিটার দূরত্ব থেকে গুলি করলে, তাক ভালো হয়৷'' তারপর চালাও গুলি! সর্বত্র ঘাপটি মেরে বসে রয়েছেন শিকারিরা৷ ঘুঘুপাখি শিকারের আদর্শ দিন৷ তবে লুকাস কিছুটা হতাশ: ‘‘গুলি লাগানো শক্ত, ওরা অত্যন্ত তাড়াতাড়ি ওড়ে বলে৷ মুহূর্তের মধ্যে সরে যায়! কাজেই একবার মিস করলে, সেটাই শেষ সুযোগ৷''

মাল্টার বহু মানুষের কাছে পাখিশিকার একটি সুপ্রাচীন পারিবারিক ট্র্যাডিশন৷ অন্যান্য শিকারিদের মতো লুকাস-ও পাখিশিকার শিখেছেন তাঁর বাপ-পিতামহর কাছে৷ প্রতি বছর মাল্টার শিকারিরা এগারো হাজার ঘুঘু আর পাঁচ হাজার তিতির মারতে পারেন – সেটাই তাঁদের বরাদ্দ৷ মাল্টার শিকারিরা ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে আবার একটা বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা করেছেন – পরিবেশ সংরক্ষণকারীরা যা নিয়ে চিন্তিত৷

টিলার উপর

লুকাস আমাদের সাগরপারের টিলায় নিয়ে গেলেন৷ মরসুমি পাখিরা সাগর পার হয়ে এসে এখানেই বিশ্রাম নেয়৷ কাজেই জায়গাটা পাখিশিকারিদের স্বর্গ৷ প্রত্যেক পঞ্চাশ মিটার অন্তর বন্দুক হাতে একজন শিকারি৷ লুকাস মাইকেল-এর কাছে এসে দাঁড়ালেন৷ মাইকেল বন্দুক, গুলিবারুদ আমদানি করে থাকেন৷ আজ তিনি এক দঙ্গল পাখিশিকারিকে নির্দেশ দিচ্ছেন, পরিচালনা করছেন৷ দ্বিপ্রহর অবধি শিকার চলবে৷ ঠিক দুপুর একটায় শিকারিদের বন্দুক খাপে ভরতে হবে৷

পাখি বাঁচানোর নেশা

পশুপ্রেমীরা শিকারিদের ওপর নজর রেখেছেন; খেয়াল রাখছেন, যাতে তারা নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে গুলি না চালায়৷ আক্সেল হিয়র্শফেল্ড প্রতি বছর জার্মানি থেকে মাল্টা আসেন পাখিশিকারিদের হাত থেকে মরসুমি পাখিদের বাঁচানোর জন্য – অন্তত যতোটা পারা যায়৷ ‘পাখিহত্যা প্রতিরোধ কমিটি'-র পশুপ্রেমী আক্সেল হিয়রশফেল্ড বলেন, ‘‘মাল্টা সারা বিশ্বে একটা ব্যতিক্রম৷ দ্বীপটির আয়তন ও জনসংখ্যার কথা ভাবলে, পৃথিবীর আর কোনো জায়গায় একসঙ্গে এতোজন মানুষ শিকার করেন না৷ এর ফলে যে সব পাখি শিকার করা চলে অথবা চলে না, সকলেরই এই দ্বীপে এলে আর বাঁচার উপায় থাকে না৷''

সেই সঙ্গে রয়েছে বেআইনি পাখিশিকার৷ পশুপ্রেমীরা সেদিকেও নজর রাখেন৷ এখানে যেমন তারা একটি মরা কোকিল খুঁজে পেয়েছেন৷ কোকিল মারা আসলে নিষিদ্ধ৷ কিন্তু কিছু শিকারি পয়সার জন্য সব কিছু করতে পারেন৷ হিয়রশফেল্ড বলেন, ‘‘একটা ব্ল্যাক স্টর্ক বা সারসপাখি, কিংবা কোনো জাতের ঈগল পাখি মারতে পারলে, তা থেকে অনেক টাকা রোজগার করা যায়৷ কালোবাজারে ঐ ধরনের একটি খড়-পোরা, পালকসহ বাজপাখির দাম বেশ কয়েক হাজার ইউরো৷''

পাখিশিকার একটা ট্র্যাডিশন

অপরদিকে পাখিশিকারি লুকাস মিকালেফ-এর মতে: ‘‘ওরা বেআইনি পাখিশিকারে আইনসম্মত পাখিশিকারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে৷ যারা বেআইনিভাবে পাখি মারে, তারা শিকারি নয়, তারা অপরাধী৷''

শিকারিদের এখন পোয়াবারো৷ গত এপ্রিল মাসের একটি গণভোটে মাল্টার অধিবাসীদের একটি সব মিলিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পাখিশিকারের সপক্ষে ভোট দিয়েছে৷ কাজেই মাল্টা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র সদস্য দেশ, যেখানে বসন্তকালে পাখি মারা চলে৷

পাখিশিকারি আল্দো আৎসোপারদি বলেন, ‘‘আমাদের শিকারের শতকরা ৯৫ ভাগই হলো অলীক আশা! দু'টো পাখি মারলেই কোটা ফুরিয়ে বন্দুক কাঁধে করে বাড়ি যাওয়ার সময় – কেননা সেটাই আইন৷''

লুকাস এ যাবৎ একটিও পাখি মারতে পারেননি৷ কিন্তু তিনি আর অন্যান্য শিকারিদের কাছে ঐতিহ্যের মূল্য প্রাণী সংরক্ষণের চেয়ে অনেক বেশি৷ লুকাস বলেন, ‘‘আশা করব, আমার ছেলে কিংবা নাতিরাও পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারবে৷''

তবে পাখি শিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা থেকে যাচ্ছে৷ নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি পাখি মারা হলে সরকার পাখিশিকার নিষিদ্ধ করতে চায়৷ একটি পাখি ইউরোপ অভিমুখে তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে বলে আশা করা যেতে পারে – যদি না অন্য কোনো শিকারি ঘোড়া টিপে দেন!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক