1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘মালাউনের বাচ্চা বলিনি, এলাকা ঠান্ডা, ঝামেলা নাই’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু বসতি এবং মন্দিরে হামলার ঘটনায় সমালোচিত ওই এলাকার সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এখন এলাকা ঠান্ডা, শান্তি বিরাজ করছে, কোনো ঝামেলা নাই৷’’

দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার রাতে নাসিরনগরে পাঁচটি বাড়ি এবং একটি মন্দিরে আগুন দেয়ার ব্যাপারে ছায়েদুল বলেন, ‘‘লাকরির ঘর, খোলা গোয়াল ঘরে রাতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, বড়জোর চার-পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে৷'’

ডয়চে ভেলেকে গত রবিবারের হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমি ঢাকায় ছিলাম৷ আর হামলার আগের দিন শনিবারই যে ছেলেটি ফেসবুকে ছবি দিয়েছে তাকে পুলিশে দিয়েছি৷ রবিবার হামলার খবর পেয়েই আমি ঢাকা থেকে টেলিফোন করে র‌্যাব, বিজবি পাঠিয়েছি৷ সকাল ১০ থেকে ১২টা'র ঘটনা-দুই ঘণ্টার মধ্যে সব শান্ত হয়ে গেছে৷ এখন সব ঠান্ডা৷ সমস্যা নাই৷''

ডয়চে ভেলের সঙ্গে ছায়েদুল হকের সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ এখানে তুলে দেয়া হলো: 

ডয়চে ভেলে: হিন্দুদের নিরপত্তায় কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

ছায়েদুল হক: র‌্যাব পুলিশ আছে৷ আমি এখন নাসিরনগরে৷ হিন্দুদের সাথে কথা বলছি৷ তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি৷

আপনি তো হামলার দু'দিন পর মঙ্গলবার নাসিরনগর যান। সেদিনও সারাদিন ডাকবাংলোয় ছিলেন, আক্রান্ত এলাকায় ওইদিন গেলেন না কেনো, আক্রান্ত এলাকাতো ডাকবাংলো থেকে একদম কাছে?

আমি তো নাসিরনগরেই৷ ডাকবাংলোয় সারাদিন দরবার ছিলো৷ প্রশাসন, পুলিশ সবার সঙ্গে সেখানে কথা বলেছি৷ সারাদিন হিন্দুরা এসেছে৷ আমি পরদিন মন্দিরে গিয়েছি৷ কথা বলেছি৷

অভিযোগ আছে আপনি আপনার কাছে যাওয়া হিন্দুদের ‘‘মালাউন '' বলে গালাগাল করেছেন?

এই... এই কথা? কে বলেছে? তাকে প্রমাণ করতে বলেন৷ যে বলেছে তাকে হাজির করেন৷ আমি হিন্দুদের ‘‘মালাউন'' বলেছি কেউ প্রমাণ করতে পারবে? প্রমাণ করতে পারবে না৷ নাসিরনগরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদেও নেতারা এসেছিলো৷ আমি জানি তাদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত এক সাংবাদিককে একথা বলেছে৷ সে বলেছে আমি হিন্দুদের ‘‘মালাউন'' বলেছি৷ সে কি নিজে শুনেছে? তাকে প্রমাণ করতে বলেন৷ তাকে ফোন করে বলেন, প্রমাণ দিতে৷

অডিও শুনুন 05:57

‘‘তিনি সাংবাদিকদেরও গালাগাল করেছেন’’

আপনি সাংবাদিকদেরও গালাগাল করেছেন বলে অভিযোগ আছে...

কিসের সাংবাদিক৷ এটা সাংবাদিকতা? আমি কার কাছে বিচার দেবো? কয়েকজন আছেন তারাতো হিন্দু নেতা৷ তারা আবার সাংবাদিক!

বৃহস্পতিবার রাতেওতো আবার আগুন দিয়েছে৷ হামলা হয়েছে৷

র‌্যাব ছিলো, পুলিশ ছিলো, পাহারা ছিলো৷ তারপরও হামলা হয়েছে৷ এটাইতো চিন্তার বিষয়৷ আর হামলা না৷ অনেক রাতে কে বা কারা লাকরির ঘর, খোলা গোয়াল ঘরে আগুন দিয়েছে৷ এই চার-পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে৷ কোনো ঘর বা মন্দিরে আগুন দেয়নি৷

রবিবারের (৩০.১১.১৬) হামলার জন্য কারা দায়ী? আপনি বলেছেন হেফাজত বা মৌলবিরা আগুন দেয়নি৷ তাহলে কারা দিয়েছে?

এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে৷ কয়েকজনকে পুলিশ ধরেছে৷ আমি কিছু তথ্য হেডকোয়োর্টারে পাঠিয়েছি৷ আমরা তাদের চিহ্নিত করতেই তদন্ত করছি৷ তদন্তে বেরিয়ে আসবে কারা জড়িত৷ আবার যে ছেলেটা ছবি দিয়েছে (ফেসবুক পোস্ট) সেই ছবিও হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়েছি৷ তারা চেষ্টা করছে বের করতে আসলে ছবিটি কে দিয়েছে৷

আপনি তো নাসিরনগরের এমপি৷ একই সঙ্গে মন্ত্রীও৷ আপনার এলাকার হিন্দুদের রক্ষায় কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

এখন সব কিছু ঠিক ঠাক আছে৷ র‌্যাব, পুলিশ আছে তারা থাকবে৷

রানা দাশগুপ্ত যা বললেন...

মন্ত্রী সায়েদুল হক টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় বারবার বলছিলেন রানা দাশগুপ্তকে আবার জিজ্ঞেস করতে, তাঁর চ্যালেঞ্জ জানাতে৷ রানা দাশগুপ্ত যে বলেছেন তিনি (সায়েদুল হক) হিন্দুদের ‘‘মালাউন'' বলেছেন তার প্রমাণ কী? তাই ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে রানা দাশগুপ্তের সঙ্গেও কথা বলা হয়৷ এখানে সেই কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:

ডয়চে ভেলে: আপনি বলেছেন মন্ত্রী সায়েদুল হক হিন্দুদের ‘‘মালাউন'' বলেছেন, তার প্রমাণ কী জানতে চেয়েছেন মন্ত্রী?

রানা দাশগুপ্ত: তিনি সাংবাদিকদেরও গালাগাল করেছেন৷ হিন্দুদের আপত্তিকর কথা বলেছেন৷ আমরা যখন মঙ্গলবার নাসিরনগরে যাই আক্রান্ত হিন্দুরাই আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন৷ যে হিন্দুরা অভিযোগ করেছেন তারা মন্ত্রীর কাছের লোক৷

আপত্তিকর কথাটা আসলে কী?

সেটা হলো মন্ত্রী হিন্দুদের ‘‘মালাউনের বাচ্চা'' বলে গালাগাল করেছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘মালাউনের বাচ্চা তোরা বেশি বাড়াবাড়ি করছিস৷''

অডিও শুনুন 01:55

‘‘এই কথা কে বলেছে? তাকে প্রমাণ করতে বলেন’’

এটা কি আপনারা সরকারের কাছে অভিযোগ হিসেবে পেশ করবেন?

অবশ্যই৷ শুধু আমরা কেনো, সংবাদমাধ্যমও আমাদের উদ্ধৃত না করেও নিজেদের দায়িত্বেই তাঁর এই আপত্তিকর কথার খবর ছেপেছে৷ আসল কথা হলো যে হিন্দুরা তাঁর আপন ছিলো তাদের তিনি গালাগাল করেছেন, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা নাসিরনগরে হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আমাদের অনুসন্ধান শেষ করেছি৷ রিপোর্ট প্রস্তুত হলে তা প্রকাশ করবো৷

স্থানীয় তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার

নাসিরনগর উপজেলায় মন্দিরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার যে প্রাথমিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷

বহিষ্কৃতরা হলেন, নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহমেদ ও চাপৈরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী৷ 

প্রসঙ্গত, রোববার এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়য়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের শতাধিক বাড়ি, কমপক্ষে ১০টি মন্দির এবং প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা৷ এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একই এলাকায় আবারো দুর্বৃত্তরা পাঁচটি বাড়ি এবং একটি মন্দিরে আগুন দেয়৷ পুড়িয়ে দেয় একটি প্রতিমা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়