1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মার্কিন মহাকাশ ফেরি ‘ডিসকভারি’র শেষযাত্রা

শেষ হয়ে যাচ্ছে মার্কিন ‘স্পেস শাটল’ বা মহাকাশ ফেরি কর্মসূচি৷ তারই শুরুটা হলো নাসা’র মহাকাশ ফেরি ডিসকভারি’র শেষযাত্রা দিয়ে৷ ফলে বাকী থাকছে শুধু দুটি ফেরি৷ এবছরই সেগুলোর শেষবারের মতো মহাকাশে যাবার কথা৷

default

মহাশূন্যে যাত্রা করছে মার্কিন নভোযান ডিসকভারি

পৃথিবী থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো কিলোমিটার উপরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র বা আইএসএস'এর অবস্থান৷ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আওতার বাইরে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার জন্য এই কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে৷ পাশাপাশি চলছে গবেষণাও৷ এই কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৯৮ সালে৷

আইএসএস'এ বিজ্ঞানী ও গবেষণার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে যেতে মহাকাশ ফেরি ব্যবহার করা হয়৷ ডিসকভারি হলো সেই ধরনেরই একটি মহাকাশ ফেরি৷ আইএসএস'এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই মহাকাশে আসা যাওয়া ডিসকভারি'র৷ নির্দিষ্ট করে বললে ১৯৮৪ সাল থেকে৷

তখন থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ বার মহাকাশে যাতায়াত করেছে ডিসকভারি৷ এসময় প্রায় দু'শো মহাকাশচারী ডিসকভারিতে চড়েছেন৷ সব মিলিয়ে মোট ৩৫২ দিন মহাকাশে থেকেছে এই ফেরি৷ যেটা যে কোনো ফেরি'র চেয়ে বেশি৷ এছাড়া নাসা'র তৈরি এটাই সবচেয়ে পুরনো ফেরি৷ ফলে ডিসকভারি যে একটি ইতিহাস, সেটা বলা যায়৷

এতদিন ধরে মহাকাশচারীদের সেবা দেয়ার পর এবার পালা এসেছে বিশ্রামের৷ তাই তো শেষবারের মত এখন আইএসএস'এ অবস্থান করছে ডিসকভারি৷ যাত্রা শুরু করেছিল গত বৃহস্পতিবার৷ আর সেখানে পৌঁছেছে শনিবার৷ থাকবে মোট ১১ দিন৷ তারপরই পৃথিবীতে ফিরে এসে চলে যাবে জাদুঘরে৷ আর সাক্ষী হয়ে থাকবে একটা ইতিহাসের৷

Space Shuttle Atlantis letzte Landung

মার্কিন আরেক নভোযান আটলান্টিসেরও সময় শেষ হয়ে এসেছে

তবে ডিসকভারি'র যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল গত নভেম্বরে৷ কিন্তু বহির্ভাগের জ্বালানি ট্যাঙ্কে ফাটল দেখা দেয়ায় সেটা সম্ভব হয় নি৷ পরে নাসার বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা করে প্রায় দু'মাস পর একটা উপায় বের করতে সক্ষম হন৷

তারপর উড্ডয়নের আগেও আবার কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল৷ কিন্তু সেটা তাড়াতাড়িই ঠিক করে ফেলেন বিজ্ঞানীরা৷ ফলে আর দেরি করতে হয় নি৷

শেষযাত্রায় ডিসকভারির যাত্রী ছিলেন ছ'জন মহাকাশচারী৷ সঙ্গে আইএসএস'এ স্থাপনের জন্য একটি মডিউল৷ তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে জিনিসটি এবার গেছে সেটা হলো মনুষ্যাকৃতির একটি স্বয়ংক্রিয় রোবট – যা ইতিহাসে প্রথম৷ এই রোবট স্থায়ীভাবে আইএসএস'এ থেকে যাবে৷ এমনই বেশ কিছু ইতিহাসের সাক্ষী ডিসকভারি৷ যেমন প্রথম নারী শাটল কম্যান্ডার ডিসকভারিকে নিয়েই মহাকাশে গেছেন৷

এতকিছুর কারণে ডিসকভারিকে ঘিরে মহাকাশচারীদের মাঝে সবসময় একটা আবেগ কাজ করে৷ যেটা টের পাওয়া গেছে শেষযাত্রার দিন৷ আবেগতাড়িত হয়ে এক প্রকৌশলী বলেন, ‘ডিসকভারি আমার সন্তান৷'

কিন্তু কেন ডিসকভারি শেষযাত্রা করছে? এর কারণ, এর নকশা অনেক পুরনো হয়ে গেছে৷ ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও নকশা তৈরি হয়েছিল তারও প্রায় ১০ বছর আগে, বলছেন নাসা'র প্রধান প্রযুক্তিবিদ৷

ডিসকভারি'র পর বাকী থাকছে আরও দুটি মহাকাশ ফেরি৷ এর মধ্যে ‘এন্ডেভার' শেষযাত্রা করবে এপ্রিলের ১৯ তারিখে৷ আর ‘আটলান্টিস' জুনের ২৮ তারিখে৷

এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে এরপর থেকে মার্কিন মহাকাশচারীরা কীভাবে চলাচল করবেন? উত্তর - তাদেরকে রাশিয়ার ‘সোয়ুজ' মহাকাশযান ব্যবহার করতে হবে৷ যেটা অবশ্য মার্কিন যানগুলোর চেয়ে আকারে ছোট৷

তবে ২০১৫ সালের মধ্যে মার্কিন নতুন মহাকাশযান ‘ওরিয়ন' তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ তখন আবার নিজেদের যানে করে আইএসএস'এ যেতে পারবেন মার্কিন মহাকাশচারীরা৷

এখন পর্যন্ত যে পরিকল্পনা তাতে আইএসএস থাকবে ২০২০ সাল পর্যন্ত৷ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাজেট কম থাকায় একবার কথা উঠেছিল ২০১৫ সালের মধ্যেই এই কর্মসূচি শেষ করে দেয়ার৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেটা হয় নি৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম