1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ

পূর্ব-পশ্চিমে দুই বাণিজ্য চুক্তি, কিউবার সঙ্গে নতুন দোস্তি, মার্কিন কংগ্রেস ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় বাগড়া দেবে কিনা, গুয়ান্টানামো বন্দিশিবির বন্ধ করা যাবে কিনা – মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সামনে এখন অনেক রকম হেঁয়ালি!

প্রথমত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যার নাম রাখা হয়েছে ট্র্যান্সঅ্যাটল্যান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ বা টিটিআইপি৷ এটি হলো পূর্বমুখী চুক্তি – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থানের হিসেবে৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যে পশ্চিমমুখী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি, সেটির নাম ট্র্যান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিটিপি: এর আওতায় পড়বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তথাকথিত প্যাসিফিক রিম দেশগুলি, যথা অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, চিলি, জাপান, ক্যানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনাম – কিন্তু চীন নয়৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তিটি ডুবতে বসেছিল শুধুমাত্র ‘‘ক্লোরিন চিকেন''-এর কারণে৷ ব্যাপারটা এই: যুক্তরাষ্ট্রে পোলট্রি চিকেন মাংস হিসেবে বিক্রি করার আগে তা ক্লোরিন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া হয়, ইউরোপের হবু ক্রেতাদের যা-তে আপত্তি৷ ব্যাপারটা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছায় যে, খোদ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে আশ্বাস দিতে হয়, ইউরোপের গ্রাহকদের ক্লোরিন চিকেন খেতে হবে না৷ অপরদিকে ইউরোপে উচ্চ বেকারত্বের পরিপ্রেক্ষিতে টিটিআইপি-র মূল্য হবে অসীম, বলে ম্যার্কেল মন্তব্য করেন৷

BdT Deutschland Umweltaktivisten TTIP Chlorhühnchen

জার্মানিতে ‘‘ক্লোরিন চিকেনের’’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

বলতে কি, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বর্তমান৷ টিটিআইপি বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক প্রতিবন্ধক দূর করার চেষ্টা করবে, ফুড সেফটি স্ট্যানডার্ড বা খাদ্য নিরাপত্তার মান নির্দেশ করবে, এছাড়া তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং শুল্ক ছাড়া অপরাপর প্রতিবন্ধক দূর করবে৷ টিটিপি নামধারী এশীয় চুক্তিটি আর একটু বেশি প্রথাগত বলা চলতে পারে৷ এই চুক্তি শুল্ক কমাবে, পেটেন্ট এবং কপিরাইট সম্পর্কে নীতিমালা দেবে, এছাড়া আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা থেকে উদ্ভূত সমস্যাবলীর সমাধান নির্দেশ করবে৷ ওবামা দু'টি চুক্তিকেই উদ্যমের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শ্রমিক সংগঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ গোষ্ঠী, এমনকি ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরাও তাদের বিরোধিতা জ্ঞাপন করেছেন৷

ইরান প্রসঙ্গে ওবামা বনাম সেনেট

ইরানের সঙ্গে পশ্চিমের পরমাণু বিরোধ চলেছে প্রায় এক দশক ধরে৷ অবশেষে ২০১৫ সালের পয়লা জুলাইয়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল চুক্তি সম্পাদিত হবার কথা – আলাপ-আলোচনা চলেছে৷ এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনেট হুমকি দিচ্ছে, ইরানের উপর আরো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করার – যা করলে আলাপ-আলোচনার ভরাডুবি ঘটতে বাধ্য, বলছে মার্কিন প্রশাসন এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বয়ং ভেটো প্রয়োগ করার কথা বলেছেন৷

হোয়াইট হাউস চায় এমন একটি চুক্তি, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কার্যকরি হবে৷ ঠিক সে গুড়ে বালি দিয়ে সেনেটর মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার একটি বেতার সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, রিপাবলিকান অধ্যুষিত কংগ্রেসে নাকি একটি ‘‘ভেটো-প্রুফ সুপার-মেজরিটি'' আছে, যারা একাই ইরানের উপর উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করার ক্ষমতা রাখে৷

কিউবায় আবার ধরপাকড়

Tania Bruguera

কিউবার পার্ফর্মেন্স আর্টিস্ট তানিয়া ব্রুগেরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিউবার মধ্যে নতুন দহরম মহরম শুরু হওয়া যাবৎ এই প্রথম দু'টি দেশের মধ্যে আবার একটি কূটনৈতিক কোঁদলের সূত্রপাত ঘটতে চলেছে৷ গত বুধবার কিউবা কর্তৃপক্ষ আবার ৫১ জন ‘ডিসিডেন্ট' বা ভিন্নমতাবলম্বী, অর্থাৎ সরকার-বিরোধীদের গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দেন৷ এর মাত্র দু'সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো ঘোষণা করেছিলেন যে, দু'টি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হতে চলেছে৷

ঘটনায় কিউবার পার্ফর্মেন্স আর্টিস্ট তানিয়া ব্রুগেরা তাঁর দেশবাসীদের আহ্বান জানিয়েছিলেন হাভানার প্রখ্যাত ‘‘বিপ্লবের চত্বরে'' জড়ো হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজেদের স্বপ্নকে অভিব্যক্তি দেবার৷ তানিয়া অকুস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ওয়াশিংটন মানবাধিকার সম্পর্কে হাভানা সরকারের ‘‘শ্রদ্ধাহীনতার'' সমালোচনা করেছে৷

সেই গুয়ান্তানামো

US Präsident Obama will Guantanamo Verfahren aussetzen

গুয়ান্তানামো বন্দিশিবির

সবশেষে বাকি থাকছে ওবামার সেই আদি ও অকৃত্রিম প্রতিশ্রুতি যে, তিনি গুয়ান্তানামো বন্দিশিবির বন্ধ করবেন৷ এক ধাক্কায় না হলেও, সে কাজ দৃশ্যত ধীরে ধীরে এবং ধাপে ধাপে এগোচ্ছে৷ ২০১৪ সালের শেষেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দু'জন তিউনিশীয় এবং তিনজন ইয়েমেনি বন্দিকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান সহযোগে কাজাখস্তানে পাঠিয়েছে৷ এই পাঁচজন ১১ বছরের বেশি সময় ধরে গুয়ান্তানামো বন্দিশিবিরে অন্তরীণ ছিল৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন