1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

তাঞ্জানিয়া

মানুষ বাঁচাতে ‘মশার নগর'

আফ্রিকায় প্রতি মিনিটে ম্যালেরিয়ায় ভুগেই মারা যায় অন্তত দু'জন শিশু৷ তাই মশার কামড় থেকে মানুষকে বাঁচাতে সারা দিনমান কাজ করছে তাঞ্জানিয়ার ছোট্ট শহর ‘সিটি অফ মসকিটো', অর্থাৎ ‘মশার নগর'৷

তাঞ্জানিয়ার প্রত্যন্ত এক শহর ইফাকারা৷ ইফাকার শব্দের অর্থ ‘যেখানে আমি মৃত্যু বরণ করি'৷ নামেই বোঝা যায় বসবাসের জন্য শহরটি আসলে কেমন৷ মানুষ যেন সেখানে জীবন উপভোগের কথা, সুখে-স্বাচ্ছ্যন্দে কিছুদিন বাঁচার কথা ভাবতেই পারে না, জন্মের পর থেকে আসল কাজই যেন মশার কামড়ে রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা৷

সেখানে মশার কবল থেকে মানুষ বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ইফাকারা হেল্থ ইন্সটিটিউট (আইএইচআই)৷ তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মশা এবং মশাবাহিত রোগে মৃত্যুহার অনেক কমেছে৷ কতটা কমেছে তা জানানোর আগে শহরটিতে মশা কত বেশি ছিল সে সম্পর্কে একটু ধারণা নেয়া যাক৷ আইএইচআই-এর গবেষক বলছিলেন, ‘‘আমি যখন এখানে কাজ শুরু করি, তখন আলোর ফাঁদ পেতে যে মশাগুলো ধরা হতো, সেগুলো গুনে শেষ করা যেত না৷ প্রতিদিন ওজন করা হতো৷ কোনো কোনো রাতে মশা সংগ্রহের ব্যাগ ভরে মশা উপচে পড়তো৷''

তবে অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে৷ গত ১৭ বছরে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুহার ৬০ ভাগ কমেছে৷ মশার কামড়ে সংক্রমণও কমেছে শতকরা তেত্রিশ ভাগ৷ আরেক হিসেব বলছে, ১৯৮০ সালে ইফাকারায় একজন মানুষের প্রতি বছর গড়ে যেখানে ২০০০ সংক্রামক মশা কামড়াতো, সেখানে এখন বছর কামড়ায় মাত্র ১৮টি সংক্রামক মশা৷

শুধু তাঞ্জানিয়ার ইফকারায় নয়, মশাবাহিত রোগ কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সারা বিশ্বেই৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের তুলনায় বিশ্বে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকা এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অন্তত শতকরা ১৮ ভাগ কমেছে৷ কমলেও এখনো যা রয়েছে সেই সংখ্যাই অবশ্য রীতিমতো ভীতিকর৷ ২০১৬ সালে সারা বিশ্বে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে ছিল অন্তত ৩২০ কোটি মানুষ এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে ২১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ৷

এক মশা নগরের কথা

‘মশার নগর' ইফাকারায় মশানিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি মশা এবং ম্যালেরিয়া নিয়ে গবেষণাও চলছে জোর কদমে৷ আইএইচআই-এর গবেষকরা তো রয়েছেনই, স্থানীয়রাও বাঁচার তাগিদে নানাভাবে সহায়তা করছেন তাঁদের৷

ইফাকারার অধিকাংশ মানুষই খুব গরিব৷ তাঁদের ঘরগুলোও খুব ছোট ছোট৷ বেশির ভাগ মানুষই বাস করেন এমন ঘরে যেখানে একটি বা দু'টি বিছানা পাতার পর আর জায়গা থাকে না৷ ফলে ঘুমানো ছাড়া বাকি সব কাজই করতে হয় ঘরের বাইরে৷

আইএইচআই তাই মশা ধরতেও মানুষকে কাজে লাগায়৷ অল্প পারিশ্রমিকে অনেকেই ঘরের বাইরে বিশেষ ধরনের মশারির নীচে বসে থাকেন৷ মশারির সঙ্গে এক ধরনের মশা ধরার ফাঁদের সংযোগ থাকে৷ ফলে মানুষের রক্তের লোভে মশারিতে বসতে গিয়েই ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা৷

টাকার বিনিময়ে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরের বাইরে মশারির নীচে বসিয়ে রেখেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না৷ তাই ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হলো বিষ মাখানো মশারি৷ এক সময় মশারি যে মরণফাঁদ তা-ও টের পেয়ে গেল মশা৷ তাই মানুষ যখন ঘুমাতে যায় তার ঠিক আগে এবং ভোরে যখন ঘুম থেকে ওঠে, তখন রক্তক্ষুধা মেটানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়ল তারা৷ অবস্থা সামাল দিতে তাই এবার এসেছে  ‘মসকিটো ল্যান্ডিং বক্স' (এমএলবি)৷ কাঠের তৈরি কালো রঙের এ এমন এক বাক্স, যা আসলে মশা মারার নতুন ধরনের ফাঁদ৷ বাক্সে যাতে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা এসে বসে, সে ব্যবস্থা করতে অভিনব উপায়ে বাতাসে ছড়নো হয় মানুষে ঘামের গন্ধ৷ সেই গন্ধ পেলেই মশারা ভাবে বুঝি যন্ত্রটির ভেতরেই রয়েছে তাদের ‘সুস্বাদু' খাবার৷ খাবারের লোভে উড়ে এসে বসলেই তাদের জীবনাবসান৷

ইউলিয়া গ্রস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন