‘মানুষ চিন্তা করে চাঁদে যাওয়ার, আমরা চিন্তা করি কে আস্তিক, কে নাস্তিক′ | বিশ্ব | DW | 14.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

‘মানুষ চিন্তা করে চাঁদে যাওয়ার, আমরা চিন্তা করি কে আস্তিক, কে নাস্তিক'

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে ফিরেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল৷ বিমানবন্দরে তাঁর উপর হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি জানান, হামলাকারীর ওপর রাগ নেই তাঁর৷

গত ৩রা মার্চ সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠান চলাকালে ফয়জুল হাসান, ওরফে শফিকুর নামের এক তরুণ ছুরি হাতে লেখক ও অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায়৷ এতে গুরুতর আহত হন তিনি৷

সেই উগ্রপন্থি তরুণের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ড. জাফর ইকবাল জানিয়েছেন, হামলাকারীর ওপর কোনো রাগ নেই, বরং তাদের মতো তরুণদের জন্য তিনি দুঃখ অনুভব করেন৷ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসা শেষে সিলেটে ফেরার পথে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জনপ্রিয় এই লেখক৷

তিনি আরও বলেন, ‘‘এত সুন্দর পৃথিবী৷ সেখানে এত সুন্দর সুন্দর কাজ করা সম্ভব৷ তারা সেগুলো না করে এই ধরনের একটা কাজকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়েছে, সেজন্য তাদের প্রতি আমি দুঃখ অনুভব করি৷'' কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তরুণরা ভুল পথে না যায়, তারা যেন সাধারণ মানুষের মতো সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে৷''

তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠা এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে৷ সাংবাদিক মাহবুব স্মারক লিখেছেন, ‘‘ড. জাফর ইকবাল স্যার সুস্থ হয়ে সিএমএইচ ছেড়ে গেছেন আজ সকালে৷''

আশরাফুল হক লিখেছেন, ‘‘তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইকবাল বলেন, ‘তোমরা দেশটাকে ভালোবাসো, দেশও তোমাদের ভালোবাসবে৷''

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক প্রথম আলো তাদের ফেসবুক পাতায় লেখকের বক্তব্য পোস্ট করার পর তাতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন৷ ইতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি আছে কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও৷

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় কোনো রাগ-ক্ষোভ নেই, ভয়ও পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল৷ নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ হামলার ঘটনার ভয় পাচ্ছেন কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমি বোকাসোকা মানুষ, আমার ভয়টয় নেই৷ প্রধানমন্ত্রী, আশপাশের মানুষ, আমার ছাত্ররা, সহকর্মীরা, আত্মীয়-পরিজনেরা আছে৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আছেই৷ এরপর আর অনিরাপদ বোধ করার কোনো কারণ দেখি না৷''

এই খবরে মন্তব্য করেছেন শ্রীকান্ত ঘোষ৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘স্যার, ভালো মানুষ৷ অন্তত নিরস্ত্র মানুষের উপর সশস্ত্র আক্রমণ করেন না৷যারা নিরস্ত্র মানুষের উপর সশস্ত্র আক্রমণ সমর্থন করে, তারা মানুষ নয়, হিংস্র পশু৷''

আসাদ রাজীব তাঁর সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফেরাকে সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আপনিসহ সবাই নিরাপদে থাকি, সুস্থ থাকি এটাই তো চাওয়া৷ কিন্তু আপনার নাম আছে, খ্যাতি আছে, তাই আপনার পাশে পুলিশসহ সবাই আছে, কিন্তু যারা আপনার মতো নামি-দামি খ্যাতিমান নয় কিন্তু বিপন্ন বোধ করে, পুলিশ বা রাষ্ট্রের কাছেও তেমন গুরুত্ব পান না, যাদের উপর বোমা মারলেও গণমাধ্যমের তেমন জোর মনোযোগ পান না, যারা প্রতিনিয়ত বেপরোয়া গাড়ীর চাকার নিচে ভর্তা হয়ে মরছে, তাদের কী হবে?''

রাহুল রায় সাগর লিখেছেন, ‘‘মানুষ চিন্তা করে চাঁদে যাওয়ার, আমরা চিন্তা করি কে আস্তিক কে নাস্তিক তা প্রমাণ করার৷ মেডিকেল, ডেন্টাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি, এইচএসসি এসব প্রশ্ন আউট যারা করে, তাদের কেউ কোপায় না কেন?''

প্রবাল চাকমা লিখেছেন, ‘‘সত্যিকারের মানুষ কাকে বলে জাফর ইকবাল স্যার বুঝিয়ে দিলেন এ কথাগুলোর মাধ্যমে ৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

জাহিদুর রহমান শাকিল অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনাটিকে নাটক বলে উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘যদি জাফর ইকবালকে সত্যি সত্যি আঘাত করা হয়ে থাকে, তবে তার এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার কথা না৷ যেখানে সাকিব আল হাসানের আঙুলে ৪টা সেলাই শুকাতে কত সময় লাগছে, সেখানে জাফর ইকবালকে নাকি ২৬টা সেলাই করা হয়েছে, তা-ও আবার মাথায়৷ এবারের মেরিল প্রথম আলো অনুষ্ঠানে সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কারটি জাফর ইকবালেরই প্রাপ্য৷''

নেতিবাচক কমেন্টগুলোর নীচে মন্তব্য করেছেন জুলফিকার ইসলাম আজাদ৷ তিনি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন,‘‘মন্তব্যগুলো পড়লেই বোঝা যায়, এই দেশে সবাই সভ্য৷ শুধু জাফর ইকবাল স্যার অসভ্য, যত দোষ এই ব্যক্তির৷ তা এত সভ্য থাকতে দেশে এত হানাহানি, মারামারি লুণ্ঠন কেন? সভাই এত সভ্য-ধার্মিক হলে সরকার যতই খারাপ হোক, সমাজ তথা রাষ্ট্র এমনিতেই ভালোভাবে চলতো৷ তাই নয় কি ?''

মুত্তাসিন মেহেদী লিখেছেন, ‘‘নাস্তিক কাফের মুশরিক তারাই, যারা পিছন থেকে কাপুরুষের মতো নিরস্ত্র ব্যক্তির উপর হামলা করে৷ এদের নিয়ে ভয়ের কিছু নেই৷ এরা মোটেও মুসলিম না৷ এরা নিজেদের জিহাদি ভাবে৷ মনে করে ইসলাম ধর্ম এরা নিজেরাই রক্ষা করবে৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়