1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মানুষের উপর আলোর প্রভাব

আলো যে আমাদের জন্য কতটা জরুরি তা আমরা ভুলে যাই৷ কর্মক্ষমতা থেকে শুরু করে ঘুম, অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে আলো৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা ‘ডায়নামিক লাইট'-এর মাধ্যমে ঘরের মধ্যে আলোর চরিত্র বদলে দেবার চেষ্টা করছেন৷

অফিস-আদালতে আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে অনেক ভুল করা হয়৷ তাতে শুধু বিস্তর বিদ্যুৎ খরচ হয় তাই নয়, কর্মীদের কর্মক্ষমতাও কমে যায়৷ বাল্ব ও কম্পিউটার মনিটর থেকে আলোর কারণে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব বা মাথাব্যথা দেখা দেয়৷

শরীরের উপর আলোর নানা প্রভাবের কারণেই এমনটা ঘটে৷ আলো গবেষক অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘‘আমাদের উপর আলোর মোটামুটি ৩ রকমের প্রভাব রয়েছে৷ একটা অবশ্যই বায়োলজিক্যাল প্রভাব৷ অর্থাৎ আলো আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণ করে৷ তাছাড়া অবশ্যই আলোর কারণে আমরা দেখতে পাই৷ সেই দৃশ্য মনের মধ্যে আবেগেরও সৃষ্টি করে৷ সেই আবেগ আমাদের ভালো থাকার জন্য জরুরি৷''

Indien Lichtfest Diwali

দীপাবলী: আলোকের ঝর্ণাধারা

সবচেয়ে উপযুক্ত হলো স্বাভাবিক দিনের আলো৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের আলো গবেষকরা তাই অফিসের মধ্যেই আকাশ নিয়ে এসেছেন৷ গোটা ঘর জুড়েই যেন আকাশ ছেয়ে রয়েছে, এমনকি মেঘের ছায়াও নকল করা হচ্ছে৷ ঠিক যেন মনে হবে, ঘরে নয় – বাইরে বসে রয়েছি৷ প্রায় ৩৫,০০০ এলইডি বাতি দিয়ে কৃত্রিম এই ‘ডায়নামিক' আকাশ তৈরি করা হয়েছে, যা ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি রং ফুটিয়ে তুলতে পারে৷ অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘‘মানুষ এই এই ডায়নামিক লাইট পছন্দ করছে, সেটাই বড়ো কথা৷ তাদের ভালো নাও লাগতে পারতো৷ এই আলো মানুষকে আরও সজাগ রাখে, মনকে তরতাজা করে তোলে৷ আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে মানুষ ডায়নামিক লাইট বেশি পছন্দ করেন৷''

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সকালের দিকে এই আলোর মধ্যে নীল অংশ বেশি থাকে এবং সক্রিয় থাকতে ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে৷ বিকালের দিকে বেশি লাল অংশসহ আরেকটু উষ্ণ আলোই ভালো৷ এই আলো ছুটির আগাম আভাস দেয়৷

‘ইন্টেলিজেন্ট' টেবিলও একই ভাবে কাজ করে৷ এর মূল সুবিধা হল, আলোর শক্তি ও রংয়ের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব৷ পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ সকালের দিকে নীল আলো পছন্দ করে, যা সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে৷ বিকালের দিকে লাল আলোই তাদের পছন্দ, যা মনকে শান্ত রাখে৷ গ্রীষ্মে আলোর ছটা শীতল হলেই ভালো, আর শীতে উষ্ণ৷

শুধু বাতি নয়, কম্পিউটার মনিটরের আলোও চোখের মাধ্যমে আমাদের ভালো-মন্দ বোধ ও কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে৷ সন্ধ্যায় পর্দায় নীল আলো কমাতে বিজ্ঞানীরা বিশেষ এক ধরনের মনিটর তৈরির কাজ করছেন, যাতে নীল অংশ কম৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট-এর আখিম প্রস বলেন, ‘‘আমরা এই মনিটরে লাল, সবুজ ও নীলের সংমিশ্রণে সাদা রং তৈরি করছি৷ লাল ও নীল রংয়ের বিভিন্ন মাত্রা দিয়ে সেটা করা সম্ভব৷ নীলের একটি শেড বা মাত্রা মানুষকে দিনের বেলা সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে৷ অন্য একটি শেড ততটা শক্তিশালী নয়, তার প্রভাব অনেক শান্ত৷ অর্থাৎ রাতের জন্য তা উপযুক্ত৷''

আলোর মাধ্যমে কম্পিউটার বা মনিটরের কাজ সহজ করে তোলা সম্ভব৷ যেমন এক্ষেত্রে কম্পিউটার, মনিটর, কিবোর্ড ও মাউসের মধ্যে বিভাজন ঘুচিয়ে তোলা হয়েছে৷ দুটি শক্তিশালী প্রোজেক্টর এক সাধারণ টেবিলের উপর নানা ডিজিটাল ডকুমেন্ট ফুটিয়ে তোলে৷

আলো আমাদের ঘুম ও জেগে থাকার ছন্দও নিয়ন্ত্রণ করে৷ মনমেজাজ ও শরীরের অনেক ক্রিয়ার উপরেও তার প্রভাব রয়েছে৷ তাই ঘরের মধ্যে সচেতনভাবে আলোর ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷ অলিভার স্টেফানি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে আলোর বিষয়টি আরও ইন্টেলিজেন্ট হয়ে পড়বে৷ অর্থাৎ ভবিষ্যতের আলোকসজ্জা আমাদের উপর লক্ষ্য রাখবে৷ কখন ঘুম ভাঙলো, কীভাবে অফিসে গেলাম, এর মধ্যেই যথেষ্ট দিনের আলো পেয়েছি কিনা, সে সব জেনে নেবে৷ সেই অনুযায়ী তা আলোর ছটা স্থির করবে৷''

আপাতত অনুকূল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে৷ তবে আজও ‘সঠিক আলো' মনঃসংযোগ বাড়াতে ও ভালো থাকতে সাহায্য করতে পারে৷ স্বাস্থ্যের জন্যও তা ভালো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন