1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মানুষটা দেখতে কেমন ছিল

একদিকে মড়ার মাথার খুলির ওপর প্লাস্টিসিন বসিয়ে মানুষের মুখ তৈরির চেষ্টা; অন্যদিকে ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বলে দেওয়া, মানুষটির চোখ বা চুলের রং কী হতে পারে৷ শিল্প বনাম হাইটেক৷ দু'টোই কিন্তু লাগে পুলিশের কাজে৷

অপরাধের তদন্তে যখন আর এগোনো যাচ্ছে না, শুধু যে খুন হয়েছে, তার হাড়গোড় কিংবা মাথার খুলিটা শুধু পাওয়া গেছে, তখন ডাক পড়ে মারিওন সাবোর৷ মারিওন মৃতের মুখাবয়ব তৈরি করেন৷ মডেল তৈরি করার জন্য তাঁর মাথার খুলিটার বেশি আর কিছুর দরকার পড়ে না৷

ফরেনসিক মেডিসিনে বহু বছর ধরে যে পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে, তারই ভিত্তিতে মৃতের মুখ কল্পনা করা হয়৷ মানুষের মুখ তৈরি হয় হাজার হাজার খুঁটিনাটি দিয়ে৷ সেই মুখ কি মাপজোক করে তৈরি করা যায়? জেনেটিসিস্ট মানফ্রেড কাইজারের স্বপ্ন হলো, তিনি ডিএনএ থেকে ফটোফিট তৈরি করবেন৷ মানফ্রেড বলেন, ‘‘ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা এ পর্যন্ত শুধু সেই সব ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারতাম, যাদের পরিচিতি আমাদের কাছে জ্ঞাত৷ অপরাধের অকুস্থলে যে ডিএনএ পাওয়া গিয়েছে, তা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়৷''

কিন্তু যদি মিলিয়ে দেখবার মতো কোনো ডিএনএ না থাকে? কাইজার ও তাঁর সতীর্থরা ডিএনএ থেকে একটি মানুষের চেহারা কেমন হতে পারে, তা বার করতে চান৷ ফেরারি আসামীদের ছবি তৈরি করার এক সম্পূর্ণ নতুন পন্থা৷ মানফ্রেডের বক্তব্য হলো, ‘‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বিকল্প বার করতে চাই; অকুস্থলে খুঁজে পাওয়া ডিএনএ থেকে অপরাধীকে কেমন দেখতে হতে পারে, তা বার করতে চাই৷''

শুধুমাত্র একটি আঙুলের ছাপ থেকে বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ পাওয়া যায়৷ আজই গবেষকরা ডিএনএ থেকে চোখ ও চুলের রং বলে দিতে পারেন৷ একটি মানুষের ডিএনএ থেকে আরেকজন মানুষের ডিএনএ-র প্রায় ৩০ লাখ পার্থক্য থাকতে পারে৷ এর মধ্যে কাইজার ২৪টি কোড খুঁজে পেয়েছেন, যা মানুষের চোখ ও গায়ের রং নির্ধারণ করে৷ কাজেই আঙুলের ছাপ থেকে পাওয়া ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, ‘‘চোখের রঙের ক্ষেত্রে ফলাফল পরিষ্কার: চোখ নীল হবার সম্ভাবনা ৯৬ শতাংশের বেশি৷ চুলের রঙের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ সম্ভাবনা এই যে, ডিএনএ-র অধিকারীর মাথার চুল ব্লন্ড বা সোনালি৷ এছাড়া সে নীলচোখো, এটুকু জানা গেছে৷''

বাস্তবেই তাই! তবে মানফ্রেড কাইজার শুধু চোখ আর চুলের রঙ নির্ধারণ করেই সন্তুষ্ট নন৷ তিনি জানালেন, ‘‘আমরা দেখছি, শরীরের দৈর্ঘ্য অথবা বয়সও বলা যায় কিনা৷ আমরা বুঝতে চাই, আমাদের জিন কিভাবে আমাদের মুখাবয়ব তৈরি করে, যাতে আমরা একদিন ডিএনএ থেকেই মানুষের চেহারাটা কেমন, তা জানতে পারি৷''

তবে ডিএনএ থেকে সম্পূর্ণ ফটোফিট পাবার জন্য এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন, ব্যাপারটা এতই জটিল৷ বিজ্ঞান সেই অবধি পৌঁছানোর আগে জার্মান পুলিশকে মারিওন সাবো-র মতো ‘শিল্পী'-দের ওপর নির্ভর করতে হবে, যারা জীবদেহের গঠন সম্পর্কে জানেন, আবার মূর্তিও গড়তে পারেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক