1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে মজা নেয়া অনৈতিক'

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন নিয়ে পুরো দেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়েও৷

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে এই প্রতিবেদনের জন্য ঐ চ্যানেলকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘

আর সব কিছু বাদ দেন, এই রিপোর্টের কারণে যে এই ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে আমরা অনেকেই আমাদের মহাউন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের ফাঁপা দিকটা নিয়ে একটু কথা বললাম, আমাদের জিপিএ ফাইভ আর রেকর্ড পাসের হারের ফাঁপা আত্মপ্রসাদ যে একটু টোকা খেলো, সেটার জন্য হলেও আমি এটাকে ধন্যবাদ দিবো৷' তবে ছেলে মেয়েদের চেহারা আড়াল করে প্রতিবেদনটি প্রচার না করায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাছঙাঙার সমালোচনাও করেছেন তিনি৷ পাশাপাশি ঐ শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন ফারুকী৷

ফারুকী আরো লিখেছেন, ‘‘অনেক সহজ ব্যাপার ছিল যেগুলোর উত্তর না জানা একটু অস্বাভাবিকই৷

কিন্ত রিপোর্টে যে চিত্র ভেসে এসেছে বাস্তব অবস্থা তার কাছাকাছি বলেই বিশ্বাস করি৷ এটা স্বীকার করে না নিলে অবস্থা কোনো দিনই বদলাবে না৷''

ফারুকীর মতে, ‘‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় যখন লিখিত নির্দেশনা পাঠায় তিরিশ পেলে তেত্রিশ করে দিতে, তখন এটা এক সামগ্রিক শিথিলতার বার্তা বহন করে৷ এই শিথিলতার ফোকর দিয়ে ফাঁস হয় প্রশ্ন, প্রসব করা হয় হাজারে হাজার কাতারে কাতার জিপিএ ফাইভ৷ পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মেশিনটাই তখন হয়ে পড়ে রুগ্ন৷''

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেলেও জাতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে আশা করা যায়৷ কিন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ধসে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন৷ তাই এটা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি না করে সবাই কথা বলেন৷''

চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর সাংবাদিক রাশেদ নিজাম ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের শিশু বিষয়ক আইন নিয়ে৷ তিনি লিখেছেন,‘‘

‘‘কয়েকজনকে দেখলাম, মাছরাঙ্গার একটি রিপোর্ট নিয়ে সাংবাদিকদের ধুয়ে দিচ্ছেন,কারণ, এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের চেহারা দেখিয়েছে তাই৷'' এক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন,‘‘বেশ ক'জন শিক্ষকের সাথে আমার নানা সময়ে কথা হয়েছে, মার্কস দেয়ার জন্য তাদের কাছে লিখিত দেয়া হয় নাই, কিন্তু মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে, কয়েকবছর ধরে৷ কোনো তথ্য-প্রমাণ পাইনি, তাই রিপোর্টটা করতে পারছি না৷ আর আশঙ্কা থেকে কোনো শিক্ষকও ক্যামেরায় কিছু বলবে না৷ ২৬ ডিসেম্বর যদি স্বাধীনতা দিবস, জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা যদি কাজী নজরুল ইসলাম হয়, তবে সে সমস্ত গোল্ডেন প্লাস দেশকে কি দেবে?''

শেখ সিরাজুম মুনিরা নীরা ফেসবুকে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন৷ লিখেছেন,

‘‘দেশের বিখ্যাত চ্যানেলে যখন ধর্ষণের শিকার কিশোরীর শুধু চেহারা ব্লার করে দেখানো হয় আর পেছনের বাড়ি ঘর, ব্যাকগ্রাউন্ড সব স্পষ্ট দেখানো হয় তখন সাংবাদিকতার নীতি নিয়ে প্রশ্ন জাগে না? দেশ সেরা চ্যানেল যখন ধর্ষণের শিকার মেয়েটির নাম উহ্য রেখে বাবার নাম, গ্রাম, জেলা সব বলে দেয় তখন কি হয়?''

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘চেহারা দেখানো নিয়ে দ্বিমত আছে, তবে রিপোর্টে যা উঠে এসেছে তা সত্যি৷ দেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরই এই অবস্থা৷ শহীদ মিনার যে ঢাকায় এটা আমি কোনো বইতে পড়িনি, আব্বু আম্মুর কাছে জেনেছি৷ ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের গল্পও তাঁরাই করেছেন৷ জাতীয় সংগীত যে রবিদাদুর লেখা সেটাও তাদের কাছ থেকে জেনেছি৷ সেই সাথে এটাও জেনেছি যে, দাদু ভারতের জাতীয় সংগীতেরও রচয়িতা৷ বাচ্চাগুলো জানেনি, কারণ, তাদের বাবা-মা'র কাছে এ প্লাসটাই মুখ্য৷ '’

আরিফুল হক লিখেছেন, ‘‘

আমরা অস্বীকার করতে চাই, যেমনটি করছি জিপিএ পাঁচ নিয়ে মাছরাঙ্গা টিভির রিপোর্টটি নিয়ে৷

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরকার ফাঁপা অবস্থাটা আমরা দেখছি না, শুধু আছি সাংবাদিকতার ব্যাকরণ নিয়ে৷ সমাজের এত এত অসঙ্গতির মধ্যে সাংবাদিকতাই কেন পারফেক্ট হবে?''

তোহা ফারুক নতুন প্রজন্মের প্রতি সহানুভূতিশীল৷ তিনি লিখেছেন,‘‘

খাঁচার পাখি উড়তে না শিখলে তাকে দোষ দেয়া চলে না৷ আমরা যারা গণমাধ্যমের খবর দেখে ‘গেল, গেল' রব তুলছি, আমরা কি ভেবে দেখছি এর দায় আমাদের ওপরও এসে পড়ে৷ একটা প্রজন্ম তো আর হাওয়া থেকে সুশিক্ষিত হয়ে উঠবে না! প্রশ্ন ফাঁসের এই যুগে বোর্ড পরীক্ষার মানদণ্ড কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? এই যে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা এই দায় কারা নেবে? কারা ফাঁস করে? যারা কেনে তার টাকা পায় কাদের কাছে?''

সাংবাদিক জ.ই. মামুন প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকতার নীতিমালা নিয়ে৷ তিনি লিখেছেন,

‘‘জিপিএ ফাইভ নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের একটি রিপোর্ট নিয়ে ফেসবুকে বেশ হইচই দেখছি৷ সাংবাদিকরা যদি পথে পথে মানুষকে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের পরীক্ষা নিয়ে বেড়ান, সেটাকে সাংবাদিকতা বলা যাবে, নাকি জনমত জরিপ বলা যাবে তাও আমি নিশ্চিত নই৷ আমি নিশ্চিত, আমাদের সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এমনকি শিক্ষকদেরও একটি বিরাট অংশ এসব প্রশ্নের শুদ্ধ উত্তর দিতে পারবেন না৷''

জ.ই. মামুন আরো লিখেছেন,‘‘ যে রিপোর্টার এই রিপোর্ট করেছেন, বা যে সম্পাদক এটি দেখেছেন- প্রচার করেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদেরও এসব প্রশ্ন করা হলে ক'জন সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাও প্রশ্নসাপেক্ষ৷ সামগ্রিকভাবে আমাদের শিক্ষার মান নেমে যাচ্ছে- এটা মেনে নিয়েও বলা যায়, এভাবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রশ্নোত্তর প্রকাশ করে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান নির্ধারণ অসম্ভব৷ শুধু ব্যর্থতার গ্লানি তুলে ধরাও সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী৷ এই একপেশে সাংবাদিকতা কেবল এই ছেলে মেয়েদেরকেই ছোট করেনি, আমার পেশাকেও ছোট করেছে বলেই আমার ধারণা৷''

আরিফ আল মামুন লিখেছেন,‘‘

বাচ্চাদের এই কথাগুলো নিয়ে অনেকেই বেশ হাসাহাসি করছে৷ এই কটাক্ষ নিতে না পেরে এদের কেউ যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে তার দায়িত্ব কে নেবে- হাসাহাসি করা জ্ঞানীরা, না সাংবাদিক, না সমাজ?''

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক রাকিবুল হাসান মাহীন লিখেছেন,

‘‘ বিদেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের পর্যন্ত চেহারা, নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়৷ আর এরা তো কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি৷ আমি ভিডিওটি দেখে ব্যথিত হয়েছি, কেবল তাদের সাধারণজ্ঞানের অভাবের জন্য নয়, সবাই মিলে কিছু ছেলেমেয়েকে মার্কামারা গাধা হিসেবে প্রচার করে বেড়াচ্ছি সে জন্যও৷ আমি এদের একজন হলে অবশ্যই মামলা করতাম৷ শিক্ষাব্যবস্থার দিকে আঙ্গুল তুলতে গিয়ে কিছু মানুষকে গিনিপিগের মত হাজির করে মজা নেয়া অনৈতিক৷ নামিদামী স্কুলে যেয়ে প্রভাবশালী মানুষের সন্তানদের প্রশ্ন করে তারা এভাবে খবর প্রকাশ করতে পারতেন কিনা আমার সন্দেহ আছে৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়