1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

মানসিক অসুস্থতা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কাহিনি

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান৷ ২০১২ সালে হঠাত্‍ করেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি৷ ক্লাস-পরীক্ষা সবই বন্ধ হয়ে যায়৷ পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তার সমস্যাটা বুঝতে পারেনি৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের পরামর্শে তিনি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান রতনের কাছে যান৷ দীর্ঘ চিকিত্‍সার পর এখন তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন৷ ক্লাস-পরীক্ষায়ও অংশ নিচ্ছেন৷

ডয়চে ভেলেকে সাক্ষাত্‍কার দিলে কে কী বলে - এমন সংশয় থেকে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি৷ তাই সাইদুর রহমান তাঁর ছদ্মনাম৷ সাক্ষাত্‍কারে তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়া, চিকিত্‍সা, কারা-কীভাবে তাকে সহযোগিতা করেছে সবকিছুই উঠে এসেছে৷

ডয়চে ভেলে: হঠাত্‍ করেই কি আপনার মানসিক অসুস্থতা ধরা পড়ে?

সাইদুর রহমান: হ্যাঁ৷

যখন বুঝতে পারলেন, আপনি কি করলেন?

আসলে আমরা সমস্যাটা ছিল অ্যাংজাইটি অর্থাৎ দুশ্চিন্তা৷ এ কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে পারছিলাম না৷ আমার একজন শিক্ষকের পরামর্শে মানসিক চিকিত্‍সকের কাছে যাই৷

কার কাছে গেলেন?

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান রতনের কাছে যাই৷

এটা কতদিন আগে?

২০১২ সালে৷

চিকিত্‍সার প্রক্রিয়া কেমন ছিল?

দুই ধরনের৷ একটা ওষুধ ও অন্যটি সিভিক জীবন৷ সিভিক জীবনটা হল, যেখানে আপনার সমস্যা হচ্ছে, সেটা বার বার করা৷ যেমন, আপনি পরীক্ষা দিতে ভয় পাচ্ছেন, তারপরও আপনাকে বার বার পরীক্ষার হলে বসতে হবে৷ যাতে ভয়টা কেটে যায়৷ এক সময় মনে হবে হ্যাঁ আমি তো পারছি৷

সেখানে আপনি কতদিন চিকিত্‍সা নিয়েছেন?

২০১২ সাল থেকে৷ এখনো চলছে৷

চিকিত্‍সাতে কি আপনি অস্বস্তিকর কিছু উপলব্ধি করেছেন?

না, সেরকম অস্বস্তিকর কিছু মনে হয়নি৷ তবে ভয়টা ফেস করা সবসময় অস্বস্তিকর৷ এটা চিকিত্‍সার জন্য না৷ রোগের জন্য৷ বিশেষ করে যাদের অ্যাংজাইটি থাকে, তাদের অ্যাংজাইটি ফেস করে দিন পার করা আসলেই অস্বস্তিকর৷

এখানে চিকিত্‍সা করতে আপনাকে কি হাসপাতালে থাকতে হয়েছে?

না, বাসাতে থেকেই চিকিত্‍সা করাতে পেরেছি৷

আপনার এই সমস্যাটা কি আপনার পরিবারের সদস্যরা জানেন?

হ্যাঁ জানেন৷

অডিও শুনুন 08:41

সাক্ষাৎকারটি শুনতে ক্লিক করুন

প্রথম যখন রোগটি ধরা পড়ে তখন পরিবারের সদস্যদের আচরণ কেমন ছিল?

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারেনি৷ তারা আমার উপর কিছুটা রাগ করেছিল৷ তারা মনে করেছে, আমি মনে হয় ইচ্ছে করে এমন করছি, পড়াশোনা করতে চাচ্ছি না৷ এটা একেবারে প্রথম দিকে অল্প কিছুদিনের জন্য৷ পরে যখন মানসিক চিকিত্‍সক তাদের বোঝালো তখন তারা বুঝতে পারেন৷ তখন তাদের ভূমিকা ছিল সহযোগিতামূলক৷

এখন তো ক্লাস করতে বা পরীক্ষা দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না?

না, কোন সমস্যা হচ্ছে না৷

আপনার সহপাঠীরা কি কখনও বুঝতে পেরেছে যে আপনার মানসিক রোগ আছে?

যারা খুবই ক্লোজ তারা বুঝতে পেরেছে৷ তবে সবাই না৷

তখন তাদের আচরণ কেমন ছিল?

ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ভূমিকা ছিল সহযোগিতামূলক৷ তবে অন্যরা যারা আমাকে চেনেন, কিন্তু অতটা ক্লোজ না তারা আমার সমস্যাটা বুঝতে পারতো না৷ তারা মনে করত, আমি মনে হয় সিরিয়াস হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে৷ তবে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুযায়ী আমাকে সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করেছে৷

একজন শিক্ষকের পরামর্শে তো আপনি চিকিত্‍সকের কাছে গেলেন, অন্য শিক্ষকদের ভূমিকা কেমন ছিল?

শিক্ষকরা যখন জেনেছেন এমন সমস্যা হচ্ছে তখন কোনো কোনো শিক্ষক আমাকে বলেছেন, ঠিকমতো ক্লাসে আসো৷ আবার অনেক শিক্ষক বিষয়টা বুঝতে পারেনি৷ আসলে কোনো কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে ভালো সহযোগিতা পেয়েছি৷ আবার কোনো কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলেও যেটা আমার দরকার ছিল ততটা পাইনি৷

আপনার আত্মীয়-স্বজন কি আপনার সমস্যার কথা জানেন?

হ্যাঁ, অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনই জানেন৷

তাঁদের কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল?

অধিকাংশের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক৷ তবে অনেকে সমস্যার লেভেলটা বুঝতে পারেন না৷ ফলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করেন না৷

যারা অ্যাংজাইটিতে ভুগছে, তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

একজন মানুষ যখন বুঝতে পারবেন দুশ্চিন্তা তার নিয়ন্ত্রণে আসছে না, দুশ্চিন্তা তো জীবনের একটা পার্ট৷ এই পার্টটাকে ক্যারি করতে যাদের সমস্যা হচ্ছে তাদের উচিত দ্রুততার সঙ্গে মানসিক চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেয়া৷

এই রোগটা নিজে থেকেই বোঝা যায়?

মানসিক রোগ হল দুই ধরনের৷ একটা নিউরোসিস ও অন্যটি সাইক্রোসিস৷ নিউরোসিস হল মৃদু মানসিক রোগ৷ এক্ষেত্রে রোগী নিজেই বুঝতে পারেন৷ আর সাইক্রোসিস হল রোগী গায়েবি নির্দেশ শুনতে পান৷ সে বাস্তব জগতে নেই৷ এটা হলো জটিল মানসিক রোগ৷ যেমন ধরেন গায়েবি নির্দেশে তিনি নিজের সন্তানকে হত্যা করে ফেললেন৷ এক্ষেত্রে রোগী নিজে কিছু বুঝতে পারেন না৷ তার আশপাশের লোকের দায়িত্ব তাঁকে চিকিত্‍সকের কাছে নিয়ে যাওয়া৷

সাক্ষাৎকার: সমীর কুমার দে, ঢাকা

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

আপনার পরিচিত এমন কারও কথা জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও