1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মানবাধিকার বঞ্চিতদের কান্না, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাবি

বাংলাদশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিক, মানবাধিকার কর্মীরা৷ তাঁরা মনে করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বেশি৷ তাই অবিলম্বে এটা বন্ধ করা প্রয়োজন৷

যশোরের মালোপড়ার কান্না বুধবার ঢাকাতেও শোনা গেল৷ বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে ঢাকায় এসে মালোপাড়ার বিশ্বজিত্‍ বিশ্বাস জানালেন তাঁদের ওপর হামলা এবং নির্যাতনের করুণ কাহিনি৷ তবে এখানেই শেষ নয়৷ নির্বাচনের প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও তাঁরা এখনো নিরাপদ নন৷ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ একটাও পূরণ হয়নি৷ পুলিশ আসামি ধরে৷ ১০-১২ দিন পরে আসামির জামিন হয়ে যায় যায়৷ আমরা এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷''

মানবাধিকার হরণ: এ কী পরিস্থিতিতে দেশ' শিরোনামে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে নির্যাতিতদের কথা শোনার এই আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি৷ সেখানে আরো অনেক মানবাধিকার বঞ্চিতরা কথা বলেন৷ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান তাঁদের নির্মম কাহিনি৷

২০০০ সালের ২৩শে অক্টোবর সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মো. রফিকের ছেলে জামাল নিহত হন৷ অনুষ্ঠানে রফিক বলেন, ‘‘আমি সব সময় গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকি৷ আজ এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছি৷ বাড়িতে ফিরে আমার কী পরিস্থিতি হবে, তা ভাবতেও পারি না৷''

এক বছর আগে তানজিনা আক্তারের স্বামী মাহবুব হাসানকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয় দেয়া লোকজন৷ মাহবুব ছিলেন ঢাকার সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের নেতা৷ মাহবুব হাসানের স্ত্রী জানান, ‘‘দুই সন্তান নিয়ে আমাদের দিনগুলো কীভাবে কাটছে, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না৷''

অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা শহিদ আলী বাহাদুর অভিযোগ করেন, ‘‘ক্যাম্প দখল করার জন্য নয়জনকে হত্যা করা হয়েছে৷ কয়েক দিন আগে একজনকে পিটিয়ে মেরেছে পুলিশ৷ এর এক মাস আগে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে জাবেদ নামের একজনকে হত্যা করা হয়েছে৷ প্রতিনিয়ত আমাদের ক্যাম্প দখলের চেষ্টা হচ্ছে৷''

এরকম আরো অনেকের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কহিনি শোনান অনুষ্ঠানে আসা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ মানুষ৷

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আট বছরের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ন'মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে৷ এ সময়ে দেশে ৮২ ব্যক্তি গুম-অপহরণের শিকার হন৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এসব ব্যক্তিকে তুলে নেয়া হয়েছে বলে তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ৷ পরে ২৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে৷ ১০ জন ফিরে এসেছেন৷ সাতজনকে আটকের খবর স্বীকার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ তিনজনকে পরে থানায় ও কারাগারে পাওয়া গেছে৷ বাকি ৩৯ জন এখনো নিখোঁজ৷

২০১১ সালে গুম-অপহরণ হন ৫৯ জন৷ তাঁদের মধ্যে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার হলেও ৩৯ জন এখনো নিখোঁজ৷ ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৬ এবং ৩৪ জন এখনো নিখোঁজ৷ ২০১৩ সালে গুমের শিকার হন ৭৬ জন৷ তাদের মধ্যে ২৩ জনের লাশ পরে পাওয়া গেছে৷ অন্যরা এখনো নিখোঁজ৷

আসক-এর হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘ক্রসফায়ার', ‘বন্দুকযুদ্ধ' বা ‘এনকাউন্টারের' ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দু'হাজারেরও বেশি৷ চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মারা গেছেন ১৩৬ জন৷ এ সব মৃত্যুর ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা বলে মনে করে আসক৷

প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগীয় দুটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী এবং মানবাধিকার নেতা ড. শাহদীন মালিক৷ তিনি বলেন, ‘‘গুম-খুন-অপহরণের ঘটনায় একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন এবং আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য আরেকটি কমিশন করতে হবে৷''

আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারির আগেই এই কমিশন দুটি গঠন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান শাহদীন মালিক৷

সংবাদিক এবং কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘‘ক্রসফয়ারে পেছনে রয়েছে দেশের সংঘাতময় রাজনীতি৷''

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘এ দেশের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছে ৫ই জানুয়ারি৷ ঐ দিন দেশের বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে৷''

এঁরা সকলেই মনে করেন, দেশ যদি সংঘাতময় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্রের পথে হাঁটে তাহলে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে৷ আর বন্ধ করতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন৷ তা না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়