1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মানবদেহে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব

২৬শে এপ্রিল ১৯৮৬৷ ২৫ বছর আগে ঘটেছিল চেরনোবিল দুর্ঘটনা৷ একটি ঘটনা পুরোপুরি মুছে না যেতেই হাজির হল ফুকুশিমা৷ এ ধরণের দুর্ঘটনা পরিবেশ, প্রকৃতি এবং মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

default

চেরনোবিল এবং ফুকুশিমা দুর্ঘটনার দায়-দায়িত্ব এখনো কেউ নিচ্ছে না৷ চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর কত মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে তা নথিভুক্ত করা হয়নি৷ মানুষের জীবনের কোন মূল্যই কি তাহলে নেই?

ফুকুশিমার পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কোন মানুষের জন্য নিরাপদ নয় – জানিয়েছে গ্রিনপিস৷ এই ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত দুটি গ্রাম পড়েছে৷ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার হার সেখানে বেশ তীব্র৷ তা জানা সত্বেও কর্তৃপক্ষ সেখানে বসবাসরত মানুষদের সরিয়ে নেয়নি৷ জীববিজ্ঞানী কাটসুমি ফুরিটসু বললেন,‘‘এসব গ্রামের মানুষরা তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসার পরও তাদের সরিয়ে নেয়া হয়নি৷ এখন পর্যন্ত না৷ পরমাণু কেন্দ্রের ২০ কিলোমিটারের পরিধির মধ্যে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে মাত্র৷ এর পরেও যারা রয়েছে তাদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে৷ অথচ তা মোটেই নিরাপদ নয়৷''

কাটসুমি ফুরিটসু মানবদেহে তেজস্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি সম্প্রতি বার্লিনে এসেছিলেন৷ হিরোশিমার বিভীষিকার শিকার যারা তাদের অসুখ-বিসুখ এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপর তার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ চেরনোবিল দুর্ঘটনার পরও তিনি সেখানকার মানুষদের নিয়ে কাজ করেছেন৷ অ্যামেরিকান বেশ কিছু বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা জানিয়েছেন পরমাণু দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলের ৮০ কিলোমিটার পরিধির মধ্য থেকে মানুষদের সরিয়ে নেয়া উচিত৷

দায়িত্ব নিতে রাজি নয় আইএইএ

স্বয়ং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ নির্দিষ্ট করে কোন প্রতিকারের কথা বলেনি৷ সমালোচকরা বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর আইএইএ খোলসা করে কোন তথ্য জানায়নি৷ কখন কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে, এখন কী করা উচিত – এসব কোন প্রশ্নের উত্তর আইএইএ-র কাছ থেকে পাওয়া যায়নি৷ তেজস্ক্রিয়তা এবং তার প্রভাব নিয়ে বার্লিনে গবেষণা করছেন সেবাস্টিয়ান ফ্লুগবাইল৷ তিনি জানালেন,‘‘আইএইএ-র সূচীপত্রে বেশ পরিষ্কার করে বলা আছে, ইতিবাচক কাজের জন্য প্রয়োজনে পরমাণু কর্মকাণ্ড চালানো যাবে৷ শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য তা সিদ্ধ৷

NO FLASH Japan Erdbeben Atomunfall Osaka 15.02.2011

তবে কখনো দুর্ঘটনা ঘটলে কী করা যেতে পারে, মানুষ শারীরিক কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলে তাদের কীভাবে সাহায্য করা যেতে পারে তা নিয়ে কিছু বলা নেই৷ খারাপ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলে তা আইএইএ পুরোপুরি চেপে যায়৷''

চেরনোবিল এবং ফুকুশিমার দুর্ঘটনার পর জাতিসংঘকে এ বছরের শুরুতে জানানো হয়েছিল, চেরনোবিল দুর্ঘটনার জন্য খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই৷ শারীরিকভাবে কোনো ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন সাধারণ মানুষরা হবে না৷ তবে যে সব চিকিৎসকরা এসব রোগীদের দেখাশোনা করছেন তাদের ভাষ্য পুরোপুরি ভিন্ন৷ তাদের অভিজ্ঞতা বলছে অন্য কথা৷ তারা প্রতিনিয়ত চেরনোবিলের শিকার যারা তাদের সেবা দিয়ে আসছেন, তাদের বিভিন্ন ধরণের অসুখ-বিসুখ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে গেছেন৷ আক্ষেপের সঙ্গে ফ্লুগবাইল জানালেন,‘‘যা ঘটেছে তা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট৷ পরমাণু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাছে সাধারণ মানুষ খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা৷ সেখানেই তাদের স্বার্থ৷ আর রাজনৈতিক দলের স্বার্থ মানে সেখানে দেশের স্বার্থ জড়িত৷ দেশও চায় যেভাবেই হোক পরমাণু কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে৷''

মিউনিখের হাইমহোল্স ইন্সটিটিউটের গবেষক হাগেন শ্যার্ব কিছুদিন আগে একটি জরিপে জানিয়েছেন অজানা কিছু তথ্য৷ সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন গোটা ইউরোপে চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ইউরোপে ১০ লক্ষ কম শিশু জন্ম নিয়েছে৷ চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর যে তেজস্ক্রিয়তা গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল এটা তারই ফল৷

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কোন মাথাব্যথা নেই

এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী করতে পারে? তাদের কী আদৌ কিছু করার আছে? চেরনোবিল দুর্ঘটনার সময় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় কাজ করতেন কিথ বেভারস্টক৷ তিনি জানালেন,‘‘আমি বিশ্বাস করি, সংস্থাটি এই সমস্যাকে চিহ্নিত করছে না৷ এছাড়া এই সমস্যাটি তাদের এক্তিয়ারে বলে তারা মনে করছে না৷ এবং পরমাণু কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত দুর্ঘটনা শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম বা মানুষের জন্য হুমকি বলেও তারা মনে করছে না৷ পরমাণু কেন্দ্র যেন কোনো কয়লাখনি বা তেলের রিগের সঙ্গে তুল্য৷''

তবে একটি দপ্তর খোলার কথা ভাবা হচ্ছে যেখানে এসব দুর্ঘটনার প্রতিকারে কী করা উচিত – শুধু তা নিয়ে গবেষণা এবং কাজ চলবে৷ মানব দেহকে সুস্থ রাখতে, মানবজাতিকে রক্ষা করতে গোটা ইউরোপ এক্ষেত্রে একমত হয়েছে৷ দপ্তরের নাম হবে ‘নিউক্লিয়ার এমার্জেন্সি প্রজেক্ট অফিস'৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী