1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মানবজাতির দুশ্চিন্তার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও বিদ্যুৎ সংকট

এ দুটি ইস্যুকে সামনে রেখে নতুনদিল্লির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয় পরিবেশ দূষণ এবং স্বচ্ছ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, উৎপাদনী সরঞ্জাম ও পরিষেবা ব্যবস্থা৷ তুলে ধরা হয় ভারতের গবেষণা সংস্থাগুলির ভূমিকা৷

default

জলবাযুর পরিবর্তন ফলে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক প্রাণী

গোটা বিশ্বে জলবাযুর পরিবর্তন হচ্ছে৷ তারসঙ্গে তাল রেখে বাড়ছে উষ্ণায়ন৷ বিজ্ঞানীদের মতে এটা মানব-সৃষ্ট সমস্যা যার কারণে ভূগ্রহের প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন৷ উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে জীবজগৎ ও ইকোসিস্টমকে বাঁচানোর অন্যতম উপায় হিসেবে ক্রমশই বাড়ছে স্বচ্ছ ও পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা৷ যেমন,সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব জ্বালানি এমন কী পরমাণু বিদ্যুৎ৷ নতুনদিল্লিতে সদ্য শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এই দিকটির দিকে বিশেষ জোর দেয়া হয়৷ কারণ মনে করা হচ্ছে ২০১৫ সালের পর থেকে তেল ও গ্যাসের মত জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডারে যথেষ্ট টান পড়তে থাকবে৷ তাই ভারতের মত অন্যান্য দেশে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলি পরিবেশ অনুকুল প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জোর কদমে৷ ভারতে এবিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে সরকারের নতুন ও পুনর্নবীকরণ বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদ সংক্ষেপে সিএসআই আর৷ পরিবেশ দূষণ লাঘব করতে এই প্রতিষ্ঠান কী ভাবে কাজ করছে ডয়েচে ভেলেকে তারই একটা ধারণা দিলেন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড: তপন চক্রবর্তী৷ তিনি বলেন, ‘‘পরিবেশ দূষণ বলতে আমরা মোটামুটি বুঝি জল ও হাওয়া৷ হাওয়া মানে আমাদের চারপাশের বাতাস যা থেকে আমরা অক্সিজেন নিই৷ সেই বাতাসের কোয়ালিটি আর জলের কোয়ালিটি মনিটরিং-এর ওপর বেশি জোর দিচ্ছি আমরা৷ কারণ এই দুটো জিনিসের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় যোগ আছে৷ দূষিত জলে যে ধরণের ক্ষতি হয় তার প্রতিকার করা৷ তারপর বায়ু দূষণ এবং বিভিন্ন ধরণের পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করছি৷''

বিজ্ঞানী তপন চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, ‘‘গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে দুটো জিনিষের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি৷ একটা কার্বনডাই অক্সাইড অন্যটা মিথেন৷ কার্বনডাই অক্সাইডের প্রধান উৎস যানবাহন তথা পরিবহন সেক্টর এবং কলকারখানা৷ কীভাবে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়৷ তারজন্য আমরা অ্যালকেলি শ্রাবিং-এর কথা ভাবছি সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দিয়ে এবং সোডিয়াম কার্বনেট যেটা তৈরি হয়, সেটা থেকে শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ চাষ করে বায়ো ফুয়েল তৈরি করতে পারি৷এতে আমরা সফলও হয়েছি৷ এছাড়া আমরা হাইড্রোজেন নিয়েও কাজ করছি৷ সকলেই জানে হাইড্রোজেনকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে তা থেকে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়না৷

শহরে ও গ্রামে দূষিত ও ময়লা জল শোধন করে চাষের কাজে লাগাবার এক টেকনলজি উদ্ভাবন করেছে জাতীয় পরিবেশ ইঞ্জিনীয়ারিং গবেষণা সংস্থা যার নাম ফাইটোরিড টেকনলজি৷

সৌরশক্তি প্যাভেলিয়নে দেখানো হয় সৌরশক্তি চালিত নানা ছোটবড় উপকরণ৷ যেমন, সৌরশক্তি চালিত তাঁত, ওয়াটার হিটার, বিজলি বাতি, রেফ্রিজারেটর, মোবাইল চার্জার ইত্যাদি৷প্যাভিলিয়ানের ইনচার্জ ডয়েচে ভেলেকে সৌরশক্তি উৎপাদনের নানা দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, সোলার সেল প্রথমত ভারতে তৈরি হয়না৷ আমদানি করতে হয় প্রধানত জার্মানি থেকে৷ সোলার সেল উৎপাদনে জার্মানি বিশ্বের অগ্রণী দেশ৷ তবে সোলার মডিউল তৈরি হয় ভারতে৷ সোলার সেল আর মডিউল এক জিনিস নয়৷ সোলার সেল-এর উৎপাদন খরচ বেশি৷ নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারা জার্মানি এই খরচ কমানোর চেষ্টা করছে৷ প্যাভিলিয়ানের কর্তাব্যক্তি বললেন, যে-কোন মেশিন চালানো যায় সৌরশক্তিতে৷ কিন্তু খরচ খুব বেশি হয় বলে তা লাভজনক নয়৷ তাই মেশিনপত্রের ডিজাইন এমনভাবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে বিদ্যুৎ করচ কম হয় এবং তা বিপণনযোগ্য হয়৷

বৃক্ষনিধন রোধে ত্রিপুরা প্যাভিলিয়ানে ছিল রবারউডের আসবাবপত্র৷ ত্রিপুরা বন বিভাগের কর্মী জানালেন, রবার গাছের গড় আয়ু ২৫ বছর৷ তারপর গাছটা কেটে ফেলতে হয়৷ কাটার পর সেটা থেকে তৈরি করা হয় আসবাবপত্র৷ এতে শাল সেগুনের মত গাছ কম কাটা হয়৷ বৃক্ষনিধন কম হলে পরিবেশও বাঁচে৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক