মাদিবাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল | বিশ্ব | DW | 12.12.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাদিবাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে চলছে ১০ দিনের শোক৷ তিন দিনের জন্য দেশের সাধারণ জনগণকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে৷ শেষবার প্রিয় মাদিবাকে দেখতে তাই প্রিটোরিয়ায় নেমেছে মানুষের ঢল৷

বুধবার থেকে তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা ম্যান্ডেলার মরদেহ রাখা হচ্ছে প্রিটোরিয়ার ইউনিয়ন বিল্ডিংয়ে৷ এই ভবনেই ১৯৯৪ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতির জনক৷

বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তারকা, রাজা, রানি শেষবার শ্রদ্ধা জানানোর পর সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল ভবনের দরজা৷ সেসময় যারা মাদিবাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবারও দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তারা৷

শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে দেখতে এদিন ভোর থেকেই ফুলের তোড়া হাতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিল শত শত মানুষ৷ তাদেরই একজন আনিতা বোদিবা৷ তিনি এএফপিকে বললেন, ‘‘আমার হৃদয় ভেঙে গেছে, মাদিবা চলে যাওয়ার পর তাঁর কথাই ভাবছি৷ গত কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি আমি৷ তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমাদের একত্র করেছিলেন৷ মাদিবা যে আসলেই নেই এটা নিজেকে বিশ্বাস করাতেই দ্বিতীয় দিনের মতো আমি এখানে এসেছি৷'' ইউনিয়ন ভবনের অ্যাম্ফিথিয়েটারে তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে, যেটি খুব শিগগিরই তাঁর নামে নামকরণ করা হবে বলে জানা গেছে৷

মাদিবাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এত মানুষের ভিড়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রিটোরিয়ার আশপাশের রাস্তা-ঘাট৷ মানুষের চাপে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল৷

শুক্রবারও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই ভবনেই রাখা হবে ম্যান্ডেলার মরদেহ৷ এরপর ১৪ ডিসেম্বর শনিবার প্রিটোরিয়া থেকে মরদেহ নেওয়া হবে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুনু গ্রামে৷ নিজের এই জন্মস্থানেই রোববার সমাহিত করা হবে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের প্রিয় মাদিবাকে, চিরবিদায় নেবেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই মহান নেতা৷

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ম্যান্ডেলা মৃত্যুবরণ করেন গত ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার৷ এরপর ১০ দিনের শোক-শ্রদ্ধা আর স্মরণ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি হয় মঙ্গলবার৷

Nelson Mandela Abschied 12.12.2013

শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রিটোরিয়ার আশপাশের রাস্তা-ঘাট

এফএনবি স্টেডিয়ামের ঐ স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার৷ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১০০ দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানেরা ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন৷

ম্যান্ডেলার স্মরণসভায় ইশারা ভাষীর ‘প্রতারণা'!

১০ ডিসেম্বর নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণসভায় শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য বক্তাদের বক্তব্য ইশারা ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছিলেন শিল্পী থামাসানকা জান্তজি৷ কিন্তু সেখানে উপস্থিত শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা অভিযোগ তুলেছেন তার ইশারা ভাষা সঠিক ছিল না৷ এমনিতেই অঙ্গভঙ্গি করছিলেন তিনি৷

বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গ ডেইলি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জান্তজি জানিয়েছেন, সিজোফ্রেনিক অ্যাটাকের কারণে তিনি সেসময় খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন৷ এ সমস্যার জন্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন বলেও জানান তিনি৷ জানান, অনুষ্ঠানের সময় এমন কিছু শব্দ ও দৃশ্য তার চোখে ভাসছিল, যে কারণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন৷ সেসময়কার পরিস্থিতিকে ভয়ংকর উল্লেখ করে বলেছেন, সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং যা ঘটেছে সেজন্য তিনি দুঃখিত৷

তবে দুঃখ প্রকাশ করেও পার পাচ্ছেন না জান্তজি৷ কেননা পুরো শ্রবণ প্রতিবন্ধী সম্প্রদায় তার উপর ক্ষেপেছে৷ কেপটাউনের ‘সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' এর পরিচালক কারা লিনিং তাকে প্রতারক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তার ইশারা ভাষা দেখে মনে হচ্ছিল মুখের সামনে থেকে তিনি কিছু মাছি তাড়াচ্ছিলেন৷ তিনি আরো বলেন, যদি তিনি জানতেন, তাঁর এ ধরনের অসুস্থতা আছে, তবে তার এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া উচিত হয়নি৷

এর আগেও জানতজির বিরুদ্ধে অনেক অনুষ্ঠানে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ থাকলেও ক্ষমতাসীন দল কোনো অভিযোগ আমলে নেয়নি বলে দাবি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সলেটর ইনস্টিটিউট৷

এপিবি/জেডএইচ (এপি,এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন