1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাদায়ার অনশনরত শিশুদের জন্য অন্ন

দামেস্কের অদূরে একটি চল্লিশ হাজার মানুষের শহর, সেই সঙ্গে উত্তর সিরিয়ার দু'টি অবরুদ্ধ শহরে ত্রাণসাহায্য নিয়ে ট্রাকের বহর পৌঁছেছে বা পৌঁছাচ্ছে বলে খবর৷ যে গৃহযুদ্ধে ক্ষুধাও একটি অস্ত্র, সেখান থেকে একটা খুশখবর৷

জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ফর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স স্টিফেন ও'ব্রায়েন আশা করছেন যে, উত্তরোত্তর ত্রাণ সরবরাহ পাঠানো সম্ভব হবে – অর্থাৎ এটা কোনো একক ঘটনা থাকবে না৷

সিরিয়ায় প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে, কিংবা যুদ্ধের কারণে প্রত্যন্ত প্রদেশে আটকা পড়েছেন৷ অনেকক্ষেত্রে তাদের যেমন শহর কিংবা গ্রাম ছেড়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তেমন খাদ্য, ঔষধপত্র বা জ্বালানি ইত্যাদি আসাও ব্যাহত বা বিঘ্নিত হচ্ছে৷

রাজধানী দামেস্কের ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত পাহাড়ি শহর মাদায়াতে গত অক্টোবর মাসের পর কোনো সরবরাহ পৌঁছায়নি৷ চল্লিশ হাজার অনশনক্লিষ্ট মানুষ সোমবার দেখেছেন, ট্রাকে করে কিভাবে ত্রাণসাহায্য পৌঁছালো৷

সিরিয়ার এই বিস্মৃত জনপদগুলিতে যে নীরব ট্র্যাজেডি ঘটে চলেছে, সে সম্পর্কে দুনিয়াকে সচকিত করে এ ধরনের ছবি

এবার যে ত্রাণ পৌঁছেছে, তার কল্যাণে মাদায়ার মানুষজনের প্রায় চল্লিশ দিন ক্ষুধা মিটবে, বলে আশা করা হচ্ছে৷ মাদায়া বিদ্রেহীদের হাতে; তাকে ঘিরে রয়েছে আসাদ-সমর্থক যোদ্ধারা এবং হেজবোল্লা সশ্স্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা৷ উত্তরে ফুয়া ও কফারিয়া, এই দু'টি শিয়া অধ্যুষিত শহর অবরোধ করে রয়েছে বিদ্রোহীরা৷ আটকে পড়া বাসিন্দাদের পরিস্থিতি সর্বত্রই এক: মাদায়ার মানুষজন যখন পাতা সেদ্ধ করে নুন দিয়ে খাচ্ছেন, তখন শত শত মাইল উত্তরে ফুয়া আর কফারিয়ার বাসিন্দারা জীবনধারণের জন্য ঘাস পর্যন্ত খাচ্ছেন, বলে খবর পাওয়া গেছে৷ সাধে কি মোহাম্মদ এল-বারাদেই টুইট করেছেন: ‘মাদায়া আর অন্যত্র রক্তস্রোত ও অনশন; আমরা কি অম্লানমুখে মানবিক মূল্যবোধের কথা আওড়াতে পারি? আমাদের ‘সভ্য' জগতে কোথাও একটা পচন ধরেছে৷'

মাদায়া গত জুলাই মাস যাবৎ অবরুদ্ধ৷ ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স ত্রাণ সংগঠন মাদায়ায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালিয়ে থাকে৷ সেখানে নাকি পয়লা ডিসেম্বর যাবৎ অনশনে মৃত্যুর ২৩টি ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে ছ'টি শিশু ও পাঁচজন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা৷ জাতিসংঘের স্টিফেন ও'ব্রায়েন সম্ভবত ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স-এর সূত্রেই অবিলম্বে মাদায়া থেকে ৪০০ জন রুগ্ন, অনশনক্লিষ্ট মানুষকে স্থানান্তরিত করার প্রয়োজনের কথা বলেছেন৷ অপরদিকে সংগঠনটি তাদের টুইটে যে চিত্র তুলে ধরেছে, তা সত্যিই মর্মস্পর্শী: ‘মাদায়ার চিকিৎসা-কর্মীরা গত এক সপ্তাহ ধরে কিছু খাননি৷ ক্লান্ত, দুর্বল রোগীদের লাইন বেড়েই চলেছে – সবাই মরীয়া৷'

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ)

আগামী ২৫শে জানুয়ারি জাতিসংঘের সিরিয়া বৈঠক৷ সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন কি? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন