1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মাদার টেরেসার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি

প্রেম ও অনুকম্পার প্রতিমা মাদার টেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি সারা বিশ্ব জুড়ে৷ কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যত্র ২৬শে অগাস্ট দিনটি পালন করা হবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও মানবসেবা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে৷

default

কিন্তু সকলের মনে জিজ্ঞাসা, মাদারকে সেন্টহুড দিতে আর কত দেরি৷

নীল পাড় সাদা শাড়ির ঘোমটা দেয়া, মমতাভরা মুখের সেই মহিয়সী মহিলা আজ সারা বিশ্বে নিঃস্বার্থ মানব সেবা, মমতা প্রেম ও দয়ার এক প্রতিমূর্তি৷ কলকাতাসহ ভারতের গরিব, দুঃস্থ, পরিত্যক্ত ও মুমুর্ষু মানুষ তাঁকে বসিয়েছেন দেবতার আসনে৷ নিরাশ্রয় মজুর থেকে গরিব, বৃদ্ধ, অশক্ত ও মূমুর্ষু মানুষ তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী পালন করতে চলেছে ভক্তি ও বিনম্র শ্রদ্ধায়৷ বিভিন্ন চার্চে হবে বিশেষ প্রার্থনা সভা৷ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ক্যাথিড্রেল অফ ইমাকিউলেট হার্ট অফ মেরি' এবং দক্ষিন ২৪-পরগণা জেলার বারুইপুরে মাদার টেরেসা ক্যাথিড্রাল৷ মাদার টেরেসার নামে উত্সর্গ করা এটাই প্রথম চার্চ৷ প্রচারিত হবে সেখানে মাদারের জীবনদর্শন ও বাণী৷ চার্চের সব দেয়াল পেন্ট করা সাদা আর নীল দিয়ে৷ মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরের বিলবোর্ডগুলিকেও ঐ একই রঙে পেন্ট করা হয়েছে মাদারের অনুষঙ্গকে স্মরণে রেখে৷

মাদার টেরেসাকে সেন্টহুড দিতে আর কত দেরি? – এই প্রশ্ন আজ আপামর মানুষের মুখে৷ উত্তরে ঐ চার্চের বিশপ সালভাডর লোবো বলেন, নতুন কোনো অলৌকিক ঘটনার কথা না জানা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ যদিও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদারকে সেন্টহুড দেবার অনুরোধ আসছে, কিন্তু ক্যাথলিক চার্চের নিয়ম অনুসারে গ্রহণযোগ্য আরো অলৌকিক ঘটনার কথা জানতে হবে৷

Flash-Galerie Mutter Teresa

অনেকেরই মতে কিন্তু ‘মাদার’ ছিলেন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী

ঐসব ঘটনা হবে তাত্ক্ষনিক, বিজ্ঞানের ভাষায় তা ব্যাখ্যা করা যাবেনা৷ সাধারণতঃ রোগ নিরাময়ের ঘটনা গোচরে আসে৷ তবে তা হতে হবে চিকিত্সা বিজ্ঞানের সাহায্য ছাড়া৷ মাদারকে বিয়্যাটিফাই (স্বর্গবাস) করা হয় ২০০৩ সালে এক অলৌকিক ঘটনার ভিত্তিতে৷ মনিকা বের্সার ক্যানসার রোগ নিরাময়, যেটা ডাক্তাররা সঠিক বলে রায় দিয়েছিলেন৷তারপর থেকে মাদারের আর কোন অলৌকিক ঘটনার কথা জানা যায়নি, বলেন বিশপ লোবো৷ মাদারের বিয়্যাটিফিকেশনের জন্য দীর্ঘ চার বছর ধরে তাঁকে ৩৭ হাজার নথিপত্র পরীক্ষা করতে হয়, বলেন তিনি৷

মাদার টেরেসার জন্ম ম্যাসিডোনিয়ায়, ১৯১০ সালের ২৬শে অগাস্ট৷ ১৮ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে আসেন আইরিশ কমিউনিটি অফ নানস-এর সিস্টার অফ লোরেটোর ইন্ডিয়া মিশনের কলকাতা শাখায়৷ ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন ১৯২৯এ৷ চার্চ ছেড়ে গরিব দুখীদের সেবায় আত্মনিযোগ করতে স্থাপন করেন মিশনারিজ অফ চ্যারিটি, কুষ্ঠ রোগিদের জন্য নির্মল হৃদয় ১৯৫০-এ কলকাতায়৷ পরে চলে যান মাদার হাউসে৷ নোবেল প্রাইজ পান ১৯৮৯-তে৷ ভারত রত্ন ৮০-তে৷ মিশনারি অফ চ্যারিটিজের শাখা আছে বিশ্বের ১৩৩টি দেশে৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

ইন্টারনেট লিংক