1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাদক বর্জ্জিত ভারতের ডাক দিয়েছেন মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘স্বচ্ছ ভারতের' পর এবার ‘ড্রাগস-ফ্রি-ইন্ডিয়া'-র ডাক দিয়েছেন৷ গত রবিবার তাঁর তৃতীয় ‘মন-কি-বাত' বা ‘মনের কথা' নামের বেতার ভাষণে মাদক সেবনকে ‘জাতীয় বেদনা' হিসেবে অভিহিত করেন মোদী৷

মাদক সেবন জীবনে অন্ধকার, বিনাশ ও বিপর্যয় ডেকে আনে, বলেছেন মোদী তাঁর বেতার ভাষণে৷ জাতির প্রতি সরাসরি বক্তব্য রাখার এই সহজ-সরল পদ্ধতিটি ক্রমেই আরো বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে এবং মোদী দৃশ্যত এই ভাষণের জন্য এমন সব বিষয় বেছে নিচ্ছেন, যা সর্বভারতীয় পর্যায়ে বর্তমান সমস্যাবলী ও তাদের যৌথ প্রতিরোধ তথা প্রতিষেধকের দিকে নজর ফেরাতে সক্ষম৷ মাদক বর্জ্জিত ভারত ঠিক সেইরকম একটি ‘স্লোগান'৷

মোদী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একদিকে নিজের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, অপরদিকে আসন্ন এবং পরিকল্পিত প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন৷ তার মধ্যে প্রথমেই আসে একটি টেলিফোন ‘হেল্পলাইন', যা শীঘ্র সৃষ্টি করা হবে৷ সম্প্রতি তিনি যখন আসামে পুলিশের ডাইরেক্টর-জেনারেল বা ডিজি-দের সঙ্গে একটি সম্মেলনে মিলিত হন, তখন তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের এ ধরনের একটি হেল্পলাইন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন, বলে মোদী জানান৷

মাদক প্রসঙ্গে যে দু'টি শব্দ বারংবার মোদীর মুখে শোনা গেছে, সেগুলো হলো: বেদনা এবং রোষ৷ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একাধিক সরকারী কর্মকর্তা তাঁর কাছে এসে তাঁদের সন্তানদের মাদকসেবনে জড়িয়ে পড়ার বেদনাদায়ক কাহিনি শুনিয়েছেন; একবার তিনি পাঞ্জাবে মাদকসেবীদের মায়েদের রোষ ও বেদনা পরিলক্ষণ করেছেন – বলে মোদী জানান৷ তাঁর মতে মাদকের অপব্যবহার একটি ‘সাইকো-সোশ্যাল-মেডিকেল' সমস্যা এবং সেইভাবেই তার মোকাবিলা করা উচিত৷

এক্ষেত্রে নিউজ মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যম যে ভূমিকা রেখেছে, প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেন – অপরদিকে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘ড্রাগ অ্যাবিউজ' সংক্রান্ত সচেতনতা প্রসারের অনুরোধ করেন৷ উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, কাশি থামানোর সিরাপের মতো ওষুধও ‘সময় কাটানোর ড্রাগ' হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে – তাঁর মতে এ ধরনের কাফ সিরাপও প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা উচিত নয়৷ মাদক বিরোধী আন্দোলনে হ্যাশট্যাগ #ড্রাগ-ফ্রি-ইন্ডিয়া ব্যবহারের প্রস্তাব দেন মোদী৷

মাদক কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পুঁজি যোগাতে পারে, বলে মোদীর আশঙ্কা৷ নভেম্বরের ৪ তারিখে তাঁর দ্বিতীয় জাতীয় বেতার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মাদক প্রসঙ্গে সকলের মতামত জানতে চেয়েছিলেন এবং এনজিও-দের প্রতি তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে অনুরোধ করেছিলেন৷ এবার তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কয়েকজন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়তে পারে এবং তার ফলে একটি পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে,'' এটাই হলো তাঁর উদ্বেগ৷

মাদক সেবনের সমস্যার প্রতিরোধের জন্য পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ, সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলাকে একযোগে কাজ করতে হবে, বলে মোদী অভিমত প্রকাশ করেন৷ তিনি জানান যে, তিনি সিনেমা, খেলাধুলা এবং সমাজজীবনের অপরাপর অংশের সেলেব্রিটিদের তাঁর এই ‘ড্রাগস-ফ্রি-ইন্ডিয়া' অভিযানে সংশ্লিষ্ট করার চেষ্টা করবেন৷ মোদীর দৃষ্টিকোণ থেকে ‘‘মাদকাসক্তি খারাপ হতে পারে, কিন্তু মাদকাসক্ত সন্তান নয়''৷

এসি/ডিজি (পিটিআই, দ্য হিন্দু)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়