1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাঠের জন্য কান্না: ঢাকার খেলার মাঠ দখল হয়ে যাচ্ছে

ঢাকায় খেলার মাঠগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে৷ কোনটি দখল করছে ব্যক্তি আবার কোনটি ক্লাবের নামে দখল করে প্রভাবশালীরা সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দিচ্ছেনা৷ সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে চালু করা হচ্ছে নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান৷

যার সর্বশেষ শিকার ঢাকার ধানমণ্ডি মাঠ৷ ধানমণ্ডি মাঠ রক্ষার জন্য শুক্রবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপাসহ ২৫টি পরিবেশ, সামাজিক এবং শিশু সংগঠন মাঠের সামনের সড়কে আয়োজন করে সমাবেশ ও মানববন্ধন৷ আর সেই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মাঠের জন্য কেঁদে ফেলে ধামন্ডিরই একটি স্কুলের শিক্ষার্থী তন্ময় (১২)৷ তার কথা ‘‘স্কুলে খেলার মাঠ নাই৷ আবার এই মাঠে খেলতে এলেও দারোয়ান ঢুকতে দেয়না৷ তারপরও ঢুকতে চাইলে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়৷ তাহলে আমরা কোথায় যাব, কোথায় খেলাধুলা করব? কতক্ষণ আর ঘরে বসে কম্পিউটারে গেমস খেলা যায়!'' তার একটিই কথা, ‘‘ভবন চাইনা, চাই খেলার মাঠ৷'' আর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাবরেজ বলেন, ‘‘স্কুল জীবনে ধানমণ্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠ পাইনি৷ খেলার মাঠ বলতে এই ধানমণ্ডি মাঠকেই চিনি৷ কিন্তু ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে সেই মাঠ৷''

ধানমণ্ডি মাঠটি গত কয়েক বছর ধরে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব নামে একটি ক্লাবকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য৷

কিন্তু তারা মাঠটিতে এখন জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করছে৷ বাপা-র সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, ‘‘আদালতের নির্দেশনা মানছেনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ৷ মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে আদালতের নির্দেশনা আছে৷''

শিক্ষাবিদ এবং বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক আব্দু্ল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াত ছোট ভাই শেখ জামালের নামে ‘শেখ জামাল ক্লাব'-এর কথা বলে একটি গোষ্ঠী মাঠ দখলের পাঁয়তারা করছে৷ তার এরইমধ্যে মাঠে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে৷ তাই আমরা এই মাঠ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করছি৷''

তবে ক্লাবের সভাপতি মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের অবশ্য ডয়চে ভেলে-র কাছে দাবি করেন, ‘‘তারা কোন স্থাপনা নির্মাণ করছেন না৷ মাঠটিকে সরকার একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপান্তর করছে৷ তারই অংশ হিসেবে মাঠের একাংশে ২টি টেনিস কোর্ট, ২টি ব্যাডমিন্টন কোর্ট এবং একটি বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে৷ আর মাঠের অপর অংশ খেলাধুলার জন্য মাঠ হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে৷

Proteste in Dhaka

শিশুদের প্রশ্ন, তাহলে আমরা কোথায় যাব, কোথায় খেলাধুলা করব?

'' তিনি দাবি করেন, ‘‘এই মাঠে জনসাধারণকে প্রবেশে কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না৷ আর সবাই এটা ব্যবহার করতে পারবেন৷'' তবে মাঠের মালিক ঢাকা সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, এখানে কোন ধরনের কোন নির্মাণ কাজের খবর তাদের জানা নেই৷

এদিকে বাপা-র যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল ইকবাল হাবিব ডয়চে ভেলেকে জানান, শুধু ধানমণ্ডি মাঠ নয়, ঢাকার ছোট-বড় প্রায় শতাধিক খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে৷ আর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন জানায়, তাদের হিসেবে তাদের ৫০টি মাঠ এখন অবৈধ দখলদারদের কব্জায় চলে গেছে৷ এর মধ্যে ১০টি মাঠ তার উদ্ধারে কাজ করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়