1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মাছ ধরার বদলে টুরিস্ট ধরা

পূর্ব আফ্রিকার দু'টি দেশ বেনিন আর টোগোর মধ্যেকার মোনো নদী৷ সেই নদীর মোহনা প্রকৃতির একটি স্বর্গরাজ্য, যাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন সিলভ্যাঁ দাভো'র মতো পরিবেশ সংরক্ষণকারীরা৷

ভিডিও দেখুন 03:24

স্বর্গরাজ্য বাঁচাচ্ছে মর্ত্যের মানুষ

সাত ঘণ্টা ধরে মাছ ধরেছেন এঁরা৷ এবার প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা ড্র্যাগনেট, অর্থাৎ টানা জালটিকে সমুদ্র থেকে টেনে বার করছেন৷ তবে মাছগুলো একেবারেই ছোট৷ অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের অনেক জায়গাতেই অত্যধিক মাছ ধরার ফলে মাছ প্রায় উধাও৷

সিলভ্যাঁ দাভো একটি পরিবেশ সুরক্ষা সংগঠনের হয়ে কাজ করেন৷ সিলভ্যাঁ চান যে, নদীর মোহনার এই অংশটায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হোক, যাতে মাছেরা ডিম পাড়ার সুযোগ পায়৷ ইকো-বেনিন সংস্থার সিলভ্যাঁ দাভো জানালেন, ‘‘আমাদের প্রস্তাব হলো, নদীর মোহনার দুই কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হোক, যাতে মাছেরা মোনো নদী আর সাগরের মধ্যে যথেচ্ছ চলাফেরা করতে পারে৷ আপাতত আমরা জেলেদের সঙ্গে এ ব্যাপারে একটা সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছি৷''

সৈকতভূমি আর তার পিছনের বালিয়াড়িগুলি এক ধরনের প্রাকৃতিক স্বর্গ – সামুদ্রিক কাছিমদের পক্ষেও৷ বেনিন ও টোগো, এই দু'টি প্রতিবেশি দেশে বহু বছর ধরে কাছিমরা সুরক্ষিত৷ ভবিষ্যতে স্থানটি একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে পরিণত করা হবে৷

বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ

মোনো নদীর মোহনার বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভটিকে ভালোভাবে দেখতে হলে আকাশে উঠতে হবে৷ বেনিন আর টোগো, দু'টিই খুব ছোট দেশ, দু'টি দেশ মিলিয়ে প্রস্থে ১০০ কিলোমিটারের বেশি নয়৷ মাঝখানে মোনো নদী৷ ন'টি স্থান মিলে জন্ম নেবে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ৷

শুরুতেই বেনিন-এর কুতুনু শহর, শহর তো নয়, মহানগরী, লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস৷ ক্রমেই বসতি বেড়ে চলেছে, উপকূল পর্যন্ত৷ সৈকতের পরেই শুরু হয়ে যায় উপকূলের সুরক্ষিত অংশ৷ একটি অসাধারণ হ্যাবিটাট৷ যেখানে মোনো নদী সাগরে পড়ছে, সেখান থেকেই ম্যানগ্রোভের শুরু৷ সুন্দরবনের মতো

সিলভ্যাঁ দাভো ও তার পরিবেশ সুরক্ষা সংগঠন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বাঁচাতে সচেষ্ট৷ তারা ইতিমধ্যে ৪৫ হেক্টার নতুন ম্যানগ্রোভ লাগিয়েছেন৷ এছাড়া স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলে, মাছেদের ডিম পাড়ার এলাকাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন৷

সিলভ্যাঁ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলে একটি টুরিস্ট হোস্টেল তৈরি করেছেন৷ এলাকার মহিলারাই সেই হোস্টেলে রান্নাবান্না করেন৷ সিলভা জানালেন, ‘‘এটা সেই ধরনের টুরিজম, যা পরিবেশকে শোষণ না করে, শ্রদ্ধা করে চলে৷ হোস্টেলটা স্থানীয় মালমশলা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে৷ আমরা এই ম্যানগ্রোভ এলাকার ঐশ্বর্য ও অনন্যতা দেখাতে চাই, সেজন্য আমরা টুরিস্টদের জন্য গাইডেড টুরের ব্যবস্থা রেখেছি৷''

ইতিমধ্যেই টুরিস্টরা হোস্টেলে ঘর বুক করতে শুরু করেছেন৷ তার মধ্যে পড়বে জেলেদের সঙ্গে দেখা করা, আর বোটে করে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ঘুরে দেখা৷

এই স্বর্গরাজ্য দেখতে ইচ্ছে করছে বন্ধু? আপনার মতে পৃথিবীর স্বর্গরাজ্য কোনটি? জানান নীচে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও