1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মাছ চাষ টিকিয়ে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ

পশ্চিমী বিশ্বে মাছের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে মানুষরা৷ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাছ ধরা হচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে৷

default

ইউরোপ এবং অ্যামেরিকাতে মাংসের চেয়ে মাছের বাজারে চলছে রমরমা ব্যাবসা

খাবারের তালিকায় মাছ রয়েছে – ছোটবেলা থেকেই আমার তা দেখে আসছি৷ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মাছ খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি৷ ইউরোপ এবং অ্যামেরিকাতেও গত দশ বছরে মাংসের চেয়ে মাছের বাজারে চলছে রমরমা ব্যাবসা ৷ চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে না উৎপাদন বা সরবরাহ৷ হুমকির সম্মুখীন মৎস চাষ, উন্নয়নশীল দেশের জেলেরা৷ সমুদ্র এবং নদীর মাছ বাঁচাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রহণ করেছে বেশ কিছু পদক্ষেপ৷

Typisch britisches Essen: Fisch und Chips

ইউরোপে মাছে জনপ্রিয়তা বাড়ছে

ইউরোপে গত দশ বছরে মানুষের মধ্যে মাছ খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে৷ জনপ্রিয় মাছের তালিকায় স্যামন, ঈল, টুনা, কড, মাগুর, শিঙ রয়েছে৷ এছাড়া শামুক আর চিংড়ি তো আছেই৷ মাছের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে৷ একজন মানুষ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৭ কিলোগ্রাম মাছ খেয়ে থাকে৷ এবং ভোগের এই মাত্রা বাড়ছে৷ এ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী ? একটিই মাত্র উপায় তা হল প্রয়োজনের তুলনায় কোন অবস্থাতেই বেশি মাছ ধরা যেন না হয়৷ জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফ এ ও ৷ মাছ কমে যাচ্ছে, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু মাছের প্রজাতি৷ আশংকা প্রকাশ করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের কর্মকর্তা ক্যাথরিন সুকো৷ তিনি জানান, মাছের চাহিদা বাড়ছে৷ এসব মাছ সব সময়ই সমুদ্র থেকে ধরা সম্ভব নয় তাই আমাদের হাত বাড়াতে হচ্ছে নদীর মাছের দিকে৷ প্রতি বছর সমুদ্র থেকে প্রায় ৯০ মিলিয়ন টন মাছ ধরা হয়৷

Lebensmittel Fisch Fische in der Kühltruhe

চাহিদা বাড়ছে কিন্তু উৎপাদন বাড়ছে না

প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাছ ধরার কারণে দেখা দিচ্ছে তীব্র সংকট৷ এসব মাছের সঙ্গে উঠে আসে শামুক, চিংড়ির মত আরো অনেক প্রজাতির জীব৷ সেগুলো খাওয়া হয় না, বিক্রিও করা হয় না, ফেলে দেয়া হয়৷ ক্যাথরিন সুকো আরো বললেন, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাছ ধরা পড়ছে৷ চাহিদা মিটে যাচ্ছে বলে এই খবরগুলো কেউই পাচ্ছে না৷ প্রতি বছরই চাহিদা বাড়ছে৷ গত বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদা বেড়েছে ২০ শতাংশ৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রহণ করেছে কঠোর কিছু ব্যবস্থা৷ উত্তর সাগর এবং উত্তর অ্যাটলান্টিক অঞ্চলের দেশগুলোতে কোটা ভাগ করে দেয়া হয়েছে৷ কোন্ দেশ প্রতি বছর কত টন মাছ ধরতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে৷ মাছের বাচ্চা বা পোনা ধরলে জরিমানা করা হবে তাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে৷ ব্রাসেলসে আশা করা হচ্ছে এর মধ্যে দিয়ে মৎস চাষকে টিকিয়ে রাখা হয়তো সম্ভব হবে, বাঁচানো সম্ভব হবে সমুদ্রের প্রাণী জগতকে৷ জো বর্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নে মৎস কমিশনের প্রধান৷

Garnelen der Art Xiphopenaeus riveti sind die wirtschaftlich wichtigste Gruppe der wirbellosen Einwanderer während El Niño

চিঙড়ির জনপ্রিয়তা কোন দেশে নেই ?

তিনি জানালেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা জেলেদের জন্য একটি সুখবর৷ মৎস চাষকে টিকিয়ে রাখতে হবে – এটি মাথায় রেখেই এখন অনেকে মাছ ধরছেন৷ যতখানি প্রয়োজন ঠিক ততটাই মাছ ধরা হচ্ছে৷ এই ব্যবস্থা চালু থাকলে সমুদ্রের মাছ বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে৷ তবে এই পদ্ধতি মেনে চলার জন্য প্রয়োজন কঠিন নিয়মানুবর্তিতার৷ এর ফলেই সম্ভব হবে ভবিষ্যতে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করার৷

মাছ ধরার ক্ষেত্রে কোটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে এবং ইউরোপের প্রতিটি দেশকেই এই কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ কোটা যতটুকু অনুমোদন করছে তত কিলোগ্রাম মাছ সে দেশটি ধরতে পারবে৷ এর বাইরে কেউ বেশি মাছ ধরতে যেন না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে৷

প্রতিবেদক : মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদক : সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়